Breaking News
Home / TRENDING / কী হত মমতা যদি আজ বিরোধী নেত্রী হতেন!

কী হত মমতা যদি আজ বিরোধী নেত্রী হতেন!

সুমন ভট্টাচার্য :

কী হত যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকে বিরোধী পক্ষে থাকতেন! ধর্মতলার মঞ্চ যদি লাল অথবা তেরঙ্গা শালুতে মোড়া থাকতো আর তৃণমূল নেত্রী তাঁর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বসে থাকতেন? নিশ্চিত বলা যায় উনি অন্তত বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিংহের মত ৬ নম্বর মূরলীধর সেন লেনে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে পারতেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী পক্ষে থাকলে নিশ্চিতভাবে আজ পৌঁছে যেতেন কলকাতা মেডিকেল কলেজে অনশনরত ছাত্রদের পাশে এবং চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিতেন সরকার কতটা অমানবিক। আর দল-মত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি কতটা মানবিক মুখ নিয়ে রাজনীতি করতে চান। রাহুল সিংহ হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন আর ধর্মতলার মঞ্চের মাঝে কলকাতা মেডিকেল কলেজ আছে!
কেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেও বিজেপি বাংলার মন এবং হৃদয়কে সবসময় ছুঁতে পারছে না? তার কারণ বিজেপির রাজ্য নেতারা এখনও জানেনই না রাজনীতিকে কিভাবে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হয়। বিজেপির যে সব তথাকথিত তাত্ত্বিক মেডিকেলে অনশনরত ছাত্রেরা বামপন্থী বা নকশালপন্থী সেই নিয়ে চিন্তিত এবং ফেসবুকে একের পর পোস্ট করে চলেছেন, তাঁরা আসলে মন দিয়ে অনাস্থা বিতর্কে নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতাটাও শোনেন নি। শুক্রবার বক্তৃতায় মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গিয়ে যেমন চন্দ্রশেখরের নাম করেছেন, তেমনই চৌধুরী চরণ সিংহ এবং শরদ পাওয়ারের নামও করেছেন। মনে করিয়ে দিয়েছেন চরণ সিংহ বা শরদ পাওয়ার যখনই গাঁধী পরিবারের চ্যালেঞ্জার হিসেবে সামনে এসেছেন তখনই তাঁদেরকে একেবারে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। চরণ সিংহ এবং শরদ পাওয়ার এখনও পর্যন্ত রাজনীতিতে বিজেপির বিরোধী, কিন্তু মোদি জানেন চরণ সিংহের নাতি জয়ন্ত চৌধুরী যতই সদ্য হয়ে যাওয়া উত্তরপ্রদেশের কৈরানা লোকসভার উপ-নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে হারান না কেন, আসলে তাঁরা গাঁধী পরিবারের বিরোধী । শরদ পাওয়ার তো সনিয়া গাঁধীকে ‘বিদেশিনী’ বলেই কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপি তৈরি করেছিলেন। অতএব গাঁধী পরিবার এবং আজকের কংগ্রেস যেহেতু এদের প্রধান শত্রু, মোদি চৌধুরী চরণ সিংহ বা শরদ পাওয়ারের তুলনা টানতে পিছু হটবেন কেন?
নরেন্দ্র মোদি যে বাস্তবতার পরিচয় দিলেন গাঁধী পরিবার এবং কংগ্রেস বিরোধী সবাইকে সম্মান দেওয়ার, কাছে টানার ইঙ্গিত দিয়ে, সেই বিচক্ষনণতা বা রাজনৈতিক কৌশল রাজ্য বিজেপি নেতাদের মধ্যে কোথায়? আজ যদি রাজ্য বিজেপির কোনও শীর্ষ নেতা মেডিকেল কলেজে গিয়ে অনশনরত ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন তাহলে যে একুশে জুলাইয়ের পাল্টা প্রচারের আলো শুধু তাদের দিকে পড়ত, তা নয়, রাজ্যের মানুষকে একটা বার্তাও দেওয়া যেত। সেই বার্তা হচ্ছে মমতা-বিরোধী যে কোনও আন্দোলনে, বিজেপি পাশে থাকতে পারে আদর্শগত কূটকাচালিকে দূরে রেখে। এবং এটাই ২০১৯ নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিরোধী সমস্ত ভোটকে নিজেদের দিকে নিয়ে আসার কাজটাকে অনেকটা এগিয়ে দিত।
নিশ্চিত থাকুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বিরোধী পক্ষে থাকলে এটাই করতেন। ২০০৬
থেকে বারবার এটাই করে তিনি সমস্ত সিপিএম বিরোধী শক্তিকে নিজের ছাতার তলায় নিয়ে আসতে পেরেছেন। সেটাই তাঁকে ২০০৯এর নির্বাচনে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সমস্যার মোকাবিলা করতে গেলে যতটা কৌশল এবং যতটা উদারতা দেখানো প্রয়োজন, রাজ্য বিজেপি নেতারা সেটা কত দিনে শিখবেন সেটাই সবথেকে জরুরী প্রশ্ন।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *