চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
বিজেপির রাজনীতির জবাব তৃণমূলের অরাজনৈতিক পলিটিক্সের কৌশলের মাধ্যমে দির তৃণমূল নেতৃত্ব। মঙ্গলবার সকালে দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনের উদ্দেশ্যে ভার্চুয়াল সভা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের একের পর এক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে, কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখি প্রকল্পকে বাংলার মানুষের জন্য ব্যবহার না করতে দেওয়ার অভিযোগ করেন বিজেপির (BJP) প্রাক্তন সভাপতি। অমিত শাহের সভা শেষ হওয়া মাত্রই একের পর এক তৃণমূল নেতারা টুইট শুরু করেন। কিন্তু জুতসই জবাব দেওয়ার জন্য বিকেলেই নামানো হয় তাদের তিন নেতাকে। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর যাবতীয় অভিযোগের জবাব দেন।
সঙ্গে তাঁরা জানিয়ে দেন, এমন সংক্ষুব্ধ সময়ে রাজনীতি কাম্য ছিল না। কিন্তু অমিত শাহের অসত্য ভাষণ ও ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে তাদের জবাব দিতে হচ্ছে। তৃণমূলের (TMC) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভুলে গেছেন তিনি গোটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির নয়। তিনি আমারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশে যখন করনা ভাইরাসের মত এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, তখন তিনি সেইসবের কথা না বলে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্য জনসভা করেছেন।” তিনি আরো বলেন, “সত্যিই যদি রাজনৈতিক জনসভা করার মতো পরিস্থিতি থাকতো তাহলে তো পশ্চিমবঙ্গে এসেই সভা করতে পারতেন অমিত শাহ। এখানেই তো মঞ্চ বাঁধা হত, এখানেই কর্মীদের জনসমাগম হত। বক্তৃতা শুনে সবাই হাততালি বাজাতেন। তেমনটা হয়নি কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এই সময়টা রাজনীতির ছিল না। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে দেশকে বাঁচানোর কথা না বলে ক্ষমতা দখলের কথা বলছেন।”
কার্যত খোঁচা দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে গোটা দেশের পরিস্থিতির পর্যায়ে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিপদের সময় আমরা কাটিয়ে ফেলব। কিন্তু এই সময় ক্ষতচিহ্ন আমাদের মনে রয়ে যাবে। আজ থেকে ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছর পর যখন মানুষ এই সময়কে মনে করবেন, তখন এই পরিস্থিতির সঙ্গে দেশভাগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করবেন। কখনো বলা হচ্ছে বাসে করে পরিচয় শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হবে কখনো বলা হচ্ছে ট্রেনে করে। খালি পেটে পরিচয় শ্রমিকরা মাইলের পর মাইল পথ হেঁটেছেন। কেউ পথে চলতে চলতেই প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ রক্তাক্ত হয়েছেন। কিন্তু সেই সময় বলবে এমন কঠিন সময় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানুষের কথা না ভেবে ভোট রাজনীতির কথা ভেবেছেন।”
এ প্রসঙ্গে রাজ্যসভার দলনেতা বলেছেন, “আমরা করোনা ভাইরাস আমফান ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত মানুষের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিইনি। কারণ জানি রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য মানুষকে রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নয়।” ডেরেক ও’ব্রায়ান (Derek O Brien) বলেছেন, “মানুষের সংকটময় পরিস্থিতিতে যারা রাজনীতি করে তারা ক্ষমতার জন্য ক্ষুধার্থ। আর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন ভোটের জন্য ক্ষুধার্ত।”
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত মিত্র বলেন, “২০১৬ সালে সরকারে আসার পরেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। আজ সেই প্রকল্পের সুবিধা পান রাজ্যের সাড়ে সাত কোটি মানুষ।” তিনি আরও বলেন, “অমিত শাহ বলেছেন রাজ্যে নাকি কেন্দ্রের টাকায় দশ কোটি শৌচালয় হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যে। রাজ্যে শৌচালয় হয়েছে ১.৩৪ কোটি।” তাঁর কথায়, রাজ্যের ৭০ শতাংশ রাজস্ব আয় হয় জিএসটি থেকে। লকডাউন এর ফলে সবকিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাজস্ব আদায়ে ব্যাপকভাবে মার খেয়েছে। আমরা জেনেছি মহারাষ্ট্রের মতো বৃহৎ রাজ্য রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংকুচিত করেছেন। কিন্তু আমাদের সরকার রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন সহ সমস্ত জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির পরিষেবা বহাল রেখেছে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news