চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
শেষ পর্যন্ত মুকুল রায়ের দাবিকেই মান্যতা দিল কেন্দ্রীয় বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। সাংগঠনিক রদবদলে জায়গা দেওয়া হল তাঁর প্রায় সমস্ত অনুগামীকে। চলতি বছরের শুরু থেকেই সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে নানা টালবাহানা চলছিল রাজ্য বিজেপিতে। এই ঘটনায় বেজায় বিরক্ত ছিলেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। একসময় নিজের ক্ষোভের কথা শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি মুকুল রায়ের (Mukul Roy) ক্ষোভের কথা জানতে পেরে দিল্লি থেকে ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ও বিজেপির বর্তমান সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। তারপরেই শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে নতুন করে রাজ্য কমিটি গঠন করেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
সোমবার দুপুরে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে নতুন কমিটির নাম জানিয়ে দেন মেদিনীপুরের সংসদ সদস্য। নতুন এই কমিটিতে রয়েছেন ১২ জন সহ-সভাপতি, ১০ সম্পাদক, ৫ জন সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও যুব মহিলা তপশিলি উপজাতি নতুন মুখ এনেছে রাজ্য বিজেপি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থান দেওয়া হয়েছে মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতাদের। মাত্র দেড় বছর বিজেপিতে এসেছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁকে করা হয়েছে যুব সংগঠনের রাজ্য সভাপতি। প্রসঙ্গত, মুকুল রায়ের হাত ধরে ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি বিজেপিতে নাম লেখান সৌমিত্র। তারপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিষ্ণুপুর থেকে সাংসদ হন। সৌমিত্র অবশ্য ২০১৪ সালে মাস তিনেকের জন্য তৃণমূল রাজ্য যুব সংগঠনের সভাপতি হয়েছিলেন। সৌমিত্র খাঁকে সরিয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সংগঠনের সভাপতি করেন।
পাশাপাশি, মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে এসেছেন বাগদার বিধায়ক দুলাল বর। ২০১৬ সালে তিনি কংগ্রেসের টিকিটে বাগদা থেকে বিধায়ক। কিন্তু গত বছর লোকসভা ভোটের আগে তিনি দল-বদল করে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তপশিলি মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে। মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে করা হয়েছে তপশিলি উপজাতি মোর্চার সভাপতি। হবিবপুর থেকে তিনবারের বিধায়ক ছিলেন খগেন মুর্মু। সিপিএমের দক্ষ সংগঠক হিসেবেই পরিচিত ছিল তাঁর। ভোটের আগে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে তাঁকে দলে নেয় বিজেপি। মালদা উত্তর আসনে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী কথায় তাঁকে প্রার্থী করে আসটি ঘরে তুলেছে পদ্ম শিবির।
এছাড়াও বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে রাজ্য কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁকে করা হয়েছে রাজ্য কমিটির সম্পাদক। গত বছর অক্টোবর মাসে অমিত শাহ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সিএএ বিলের সমর্থনে একটি সভা করতে এসেছিলেন। সেদিনই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান সব্যসাচী। তৃণমূল ঘরানা রাজনীতিতে সব্যসাচী ছিলেন বরাবরই মুকুল রায়ের অনুগামী। প্রকাশ্যেই মুকুল রায়কে নিজের রাজনৈতিক গুরু বলে থাকেন সব্যসাচী। সেই গুরুর হাত ধরেই তাঁর এই প্রাপ্তিযোগ বলে মনে করছে মুরলীধর সেন লেনের একটি সূত্র।
লোকসভা ভোটের আগে দলবদল করে ব্যারাকপুর থেকে বিজেপির প্রার্থী হন অর্জুন সিং। তৃণমূল প্রার্থী তথা ব্যারাকপুরের দুবারের সংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে হারিয়ে সাংসদ হয়েছেন তিনি। রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি করা হয়েছে তাঁকে। এছাড়াও, লকেট চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় মহিলা মোর্চার সভানেত্রী করা হয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পলকে। সাংগঠনিক পদে উন্নীত করে হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। পুরুলিয়া সংসদ সদস্য জ্যোতির্ময় মাহাতোকেও সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে রাজ্য কমিটি থেকে পুরোপুরিভাবে বাদ পড়ে গিয়েছেন চন্দ্র বসু। এতদিন তিনি রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। বারংবার বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন চন্দ্র। তাই এবার সেই চন্দ্র বসুকে পুরোপুরিভাবে ছেঁটে ফেলল দল। ভারতী ঘোষ ও মাহফুজা খাতুনকে সহ-সভাপতি পদে রেখে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির কিষান মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মহাদেব সরকার। সংখ্যালঘু মোর্চার নতুন সভাপতি হয়েছেন আলী হোসেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news