Breaking News
Home / TRENDING / অনুভবের আঙিনায়, বিনয় মজুমদার

অনুভবের আঙিনায়, বিনয় মজুমদার

 পার্থসারথি পাণ্ডা:

গুরুদেব জীবনানন্দ লিখেছিলেন প্রেমের শাশ্বত কাব্য ‘বনলতা সেন’—কাঙ্ক্ষিত নারীটির নামে, শিষ্য বিনয় মজুমদার লিখেছিলেন ‘গায়ত্রীকে’। জীবনানন্দের কাব্যে ব্যক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক প্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে নির্মিত হয়েছিল বনলতার কায়া। কিন্তু বিনয়ের জীবনে গায়ত্রী ছিলেন। আজীবন। যদিও গায়ত্রীর জীবনে বিনয় ছিলেন না। তাতে অবশ্য প্রেমে অসুবিধে হয়নি বিনয়ের। সেই কলেজ জীবনের প্রেম। অধ্যাপকের বিদূষী মেয়ে গায়ত্রী। পরবর্তীকালে যিনি গায়ত্রী স্পিভাক চক্রবর্তী হয়েছেন। বিনয় তাঁর জীবনে না থাকুন, বিনয়ের জীবন ও কাব্যে গায়ত্রী ছিলেন। কাব্যে এখনও আছেন।

জীবনানন্দের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে কবিতার জগতে এসেছিলেন যে ক’জন কবি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিনয় মজুমদার। জীবনানন্দের ভাষা আর বাক্যবন্ধের এক অদ্ভুত মোহ আছে, পৃথিবীর প্রথম সারির সমস্ত কবিদের লেখাতেই তা থাকে, তাঁদের গুণমুগ্ধ কবির পক্ষে অনেক সময়ই সেই মোহ কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু জীবনানন্দের ভাবশিষ্য শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও বিনয় মজুমদার সেই মোহের মায়াজাল কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজের পথ তৈরি করে নিতে পেরেছিলেন। বিনয় মজুমদার জীবনানন্দীয় ‘নক্ষত্রের আলোয়’ পথ চিনতে চিনতে নিজস্ব বোধির মুখোমুখি হয়ে বুঝে নিয়েছিলেন ‘মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়’।

কবিতার অবয়বে তিনি বার্মায় কাটানো ছেলেবেলার ধূসর স্বপ্নমালা, উদ্বাস্তু হয়ে জল্লাদবাহিনীর চোখ এড়িয়ে এপারে আসার দুঃস্বপ্নের জ্বালা, চাকরির মুখে ছাই দিয়ে কবিতাসর্বস্ব জীবন বেছে নেওয়া—এসবই কবিতায় এসেছে নানান প্রতীকে, এমনকি কখনও কখনও তা যৌনতার প্রতীকেও ধরা দিয়েছে। ভাঙা সময়ের বুকে নখের আঁচড় কেটে বলেছেন–
‘ভালবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?
লীলাময়ী করপুটে তোমাদের সবই ঝরে যায়—’

গণিত নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে এসে ‘হদয় অবাধ্য পুরুষের’ মতো প্রেমে পড়েছিলেন, আর তারপরই এই গণিতবিদের নবজন্ম হল ‘বাল্মীকির কবিতা’য়।

তিনি কবিতায় আনলেন গণিতকেও। দেখালেন গণিতসূত্রও কবিতা হয়ে উঠতে পারে। হাংরি জেনারেশন আন্দোলনে উলটপালট করে দিলেন কবিতার ভাষা। তারপরেও তিনি বলেন–
‘কবিতা বুঝিনি আমি; অন্ধকারে একটি জোনাকি
যৎসামান্য আলো দেয়, কোমল আলোক–‘ এতটাই বিনয়ী তিনি।

বিনয় তাঁর কবিতায় যৌনতার অনুষঙ্গ ও আখরগুলিকে অস্বীকার করেননি, আবডাল খোঁজেননি। এক্ষেত্রে তাঁর সতীর্থ নবারুণ ভট্টাচার্যের কথা মনে আসে, তাঁর কবিতার কথা। লোকনাথ ভট্টাচার্যের কথা। বিশেষ করে ভুট্টা সিরিজের কবিতাবলি। যৌনতাও তো নতুন না কবিতায়। তবে বিনয়ের প্রকাশভঙ্গি নতুন, তাতেও থাকে ভাঙা সময়ের অন্বেষণ। সেখানেই বিনয়ের কৃতিত্ব।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *