চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
করোনাভাইরাসের ওষুধ নিয়ে বিপাকে পড়লেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীর। তাঁর সংস্থা গৌতম গম্ভীর ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চিকিত্সক দীপক সিং। তাঁর অভিযোগ, বেআইনিভাবে করোনার ওষুধ কিনে তা মজুত করেছিল গৌতমের সংস্থা।
এমনকী, সেই ওষুধ বণ্টনও করে তারা। মামলার শুনানির সময় আদালতের সমালোচনার মুখে পড়েন গৌতম। এরপর হাইকোর্টকে ড্রাগ কন্ট্রোলারের তরফে জানানো হয়, এভাবে বেআইনিভাবে ওষুধ মজুত করে বাজারে আকাল তৈরি করার জন্য গৌতমের সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে তারা। রেহাই পাবেন না ওষুধের ডিলাররাও। ভবিষ্যতেও যদি এই ধরনের কোনও ঘটনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসে তখনও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
করোনা পরিস্থিতির দ্বিতীয় ঢেউয়ের নাজেহাল দেশবাসী। দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই ওষুধ, অক্সিজেন ও বেডের অভাবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গৌতম গম্ভীরের সংস্থার বিনা অনুমতিতে করোনার ওষুধ ফ্যাবিফ্লুর ২ হাজার ৬২৮টি স্ট্রিপ কিনে নিয়েছিলেন। এরপর তা করোনা রোগীদের মধ্যে বণ্টন করেন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই বেআইনি মজুতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন চিকিত্সক দীপক সিং। সেই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি বিপিন সংঘি এবং বিচারপতি জসমীত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, মানুষের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হলে ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসে ওষুধ জমা করুন। রাজনৈতিক নেতাদের ওষুধ মজুত করার কোনও প্রয়োজন নেই। ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিস ওই ওষুধ হাসপাতালের মাধ্যমে মানুষের কাছে বিতরণ করবে।
এরপর বিচারপতি বিপিন বলেন, “গৌতম গম্ভীর এটা মানুষের জন্য করেছেন। কিন্তু, যাঁদের প্রয়োজন ছিল, তাঁদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে। আমার আজ একটা ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু, আমি পাচ্ছি না। কারণ অন্য কেউ ইতিমধ্যেই তা কিনে রেখে দিয়েছে। যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরা প্রায় দু’সপ্তাহ ওষুধ পাননি। আপনি দান করেছেন। কিন্তু আপনি প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করেছেন। আপনি সমাজে আকাল তৈরি করেছেন। যে সাধারণ রোগীদের ওষুধ লাগত, তাঁরা পাননি। শুধুমাত্র নিজের জনপ্রিয়তা তৈরি করতে, এটা করা ঠিক নয়।”
এদিকে এই অভিযোগ ওঠার পরই একটি টুইট করেন গৌতম গম্ভীর। সেখানে সর্দার ভগত সিংয়ের একটি উক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news