চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
মুর্শিদাবাদ থেকে আল-কায়েদার (Al- Qaeda) সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন ৬ জন জঙ্গি। আর তারপরই নবান্নের পক্ষ থেকে এনআই-এর (NIA) পূর্বাঞ্চলীয় প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র (West Bengal Police DG Virendra)। চিঠি দিয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন কেন রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে এনআইএ এই অপারেশন চালিয়েছে ? রাজ্য সরকারের এমন পত্রাঘাতের কোনও জবাব এখনও এনআইএ দেয়নি। এ প্রসঙ্গে চ্যানেল হিন্দুস্তানের এক আলোচনা সভায় খোলাখুলি মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আইপিএস তথা ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সহ-সভানেত্রী ভারতী ঘোষ (Bharati Ghosh)। সঙ্গে তিনি প্রশ্নের মুখে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে। এ প্রসঙ্গে এই আইপিএস বলেন, “২০০৮ সালে যখন সমুদ্রপথে মুম্বই এসে একদল পাকিস্তানের জঙ্গিরা হত্যালীলা চালিয়েছিল। তারপর আইন প্রণয়নকারীরা মনে করেছিল যে সমস্ত আইন রয়েছে জঙ্গী কার্যকলাপ রুখতে তা যথেষ্ট নয়। এবং একটি শক্তিশালী আইনের বিরুদ্ধে নিয়ে আসতে হবে।” ভারতী ঘোষ বলেন, “সেই কারণেই ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং অ্যাক্ট এল ২০০৯ সালে। সেই সময়ে এনআইএ-কে প্রচুর ক্ষমতা দেওয়া হল। সিবিআইয়ের থেকেও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হল। ২০১৯ সালে সেই আইনে সংশোধনী আনা হল।” প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে এই আইন প্রণয়নের সময় বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম।
এই বিজেপি নেত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী পাচার রুখতে, জালনোটের কারবার, বেআইনী অস্ত্রশস্ত্র ও সাইবারক্রাইম প্রসঙ্গে, যেখানে অবৈধভাবে বিস্ফোরক তৈরি করা হচ্ছে, যেমন আরডিএক্স বানানো হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয়ে এনআইএর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “২০১৯ সালে আন ল’ফুল প্রিভেনশন অ্যাক্টেও সংশোধন আনা হলো। সেই ক্ষমতাবলে এনআইএ কে ক্ষমতা দেয়া হলো যে কোন রাজ্যে যে কোনও সময়ে রেড করতে পারেন পারবেন তারা।” সঙ্গে ভারতী বলেন, “বলা হয়েছিল জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এনআইএ জিনিস বাজেয়াপ্ত করা বা গ্রেফতার করা যেতে পারে। সেই আইনে আরও বলা হল কোনও রাজ্যের ডাইরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে না জানিয়ে জাতীয় সুরক্ষা স্বার্থে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে এনআইএ।” এক্ষেত্রে প্রাক্তন আইপিএস জানিয়েছেন, যদি এনআইএর ডিজির সম্মতি থাকে তবে এনআইএ-র যে কোনও শাখা দেশের যে কোনও প্রান্তে অভিযান চালাতে পারে। এতে আইনগত কোনও বাধা নেই।
কিন্তু গত শুক্রবার ভোররাতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ও ডোমকল থেকে ছয়জন আল-কায়েদা জঙ্গীকে গ্রেপ্তার করার পর নবান্ন পক্ষ থেকে এনআইএর পূর্বাঞ্চলীয় শাখাকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয় তাদের অভিযানের কোন কথা কেন জানানো হলো না রাজ্য পুলিশকে? কেন অন্ধকারে রাখা হলো মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপারকে? এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীও ডিজিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এই বিজেপি নেত্রী প্রশ্ন, “আইনটা কি ভালো করে জানেন ? এনআইএর কোন অভিযানের জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজির অনুমতির প্রয়োজন হয় না। হীরক রাণীর রাজ্যের অবশ্য ভিন্ন আইন চলে।”
২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে ঘটে যাওয়া খাগরাগড়ের প্রসঙ্গ টেনে ভারতী বলেন, “খাগড়াগড়ের ঘটনার তদন্তে নেমে জানা গিয়েছিল সেখানে আরডিএক্স বিস্ফোরণ হয়েছিল। এনআইএ যদি তৎপরতা দেখিয়ে এইসব জঙ্গী কার্যকলাপ না রুখতে পারে। তাহলে হাওড়া ব্রিজ, বিদ্যাসাগর সেতু যেমন উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তেমনই নবান্ন উড়ে যেতে পারে বোমার বিস্ফোরণে।” ২০১৪ সালে খাগড়াগড় কাণ্ডের পর যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তারা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশের জামায়াতুল মুজাহিদীন সদস্যরাও ছিল সেখানে। চলতি বছর মে মাসে বড় করিম নামে এক জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছিল মুর্শিদাবাদ পুলিশ ও এসটিএফের হাতে। সে আমার হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ভারতী ঘোষ।
মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতায় পশ্চিমবঙ্গ এখন জঙ্গিদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ। তিনি বলেছেন, “রানাঘাটে একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধা খ্রিষ্টান নানকে গণধর্ষণ করা হলো। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিরা সেইসব করে গিয়েছিল। খাগড়াগড়ে ঘটনা ঘটল। আল-কায়দা জঙ্গি ধরা পড়ার ঘটনা। একের পর এক ঘটনা একটি রাজ্যে ঘটে চলেছে। তাই জঙ্গিরাও মনে করতে শুরু করেছে এটি একটি নিরাপদ আশ্রয়।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্য সরকারের কথামতো যদি নবান্নে জানিয়ে, আলোচনা করে রেড করতে আসতে হয়। ততক্ষণে তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাবে এবং জঙ্গিরা তা জানতে পেরে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে পারবেন।” এই সমস্ত বিষয় ব্যর্থতার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশাসন পরিচালনা ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে কাঠ গড়ায় তুলেছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news