দীপ্তাশ্য যশ :
বাঙালি হিন্দু কি তার ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে? কিংবা প্রশ্নটা এভাবেও রাখা যায়, বাঙালি হিন্দু কি তার অতীতকে আবার দেখতে পাচ্ছে?
প্রশ্নের উত্তর বাঙালি হিন্দুই দেবে আগামী ভোটে। আমি বরং আমার সাধ্যমতো এই প্রশ্নটির কারন ব্যাখা করি। প্রশ্নটি তোলার কারন হোল বাঙালি হিন্দুর অতীতই আজ আবার তার ভবিষ্যৎ হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আজকের ব্রিগেড সমাবেশ থেকে সেই চিত্রই উঠে আসছে। আজকের ব্রিগেড কি আমাদের এই বার্তা দিল যে আগামী দিনে বাম-কং এবং আব্বাসের জোট সরকার দখল করবে? না বরং আজকের ব্রিগেড এই বার্তাই দিল যে আগামী দিনে এই রাজ্যে বাম এবং কং আরও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পরবে। তাহলে আজকের ব্রিগেড সমাবেশের বিপদ বার্তাটি কি? কেনই বা আজকের ব্রিগেড সমাবেশ বাঙালি হিন্দুকে তার অতীত এবং ভবিষ্যৎ একসাথে দেখাচ্ছে?
আজকের ব্রিগেডের মূল বিপদ হোল যে এই রাজ্যের চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে তিনটি দল তোষণ করতে করতে নিজেদের অস্তিত্বটুকুই বিকিয়ে দিয়েছে। একজন এর আগেই বলেছেন তিনি দুধেল গোরুর লাথ খাবেন এবং দরকারে যেচেই খাবেন। আরেকদল আজ দেখিয়ে দিল তারা তোষণের আফিমের নেশায় পুরোপুরি মজে গেছেন। যে কারনে তাদের কাছে অধীর চৌধুরির কোন মূল্য না থাকলেও আব্বাস সিদ্দিকীর মূল্য আছেন। তাদের যুক্তি আব্বাস সিদ্দিকী বহুজনের কথা বলেন। সত্যিই তো যিনি এক বছর আগে পঞ্চাশ কোটি ভারতীয়রর মৃত্যু চেয়েছিলেন তিনি তো বহুজনের কথাই বলছেন। পঞ্চাশ কোটি সংখ্যাটি তো আর কম কিছু নয়। অবশ্য বিমান বোস আলিমুদ্দিনে থাকেন, নিজের গামছা নিজে কাচেন। তাই গামছা কাচার ফাঁকে তিনি সেই ভিডিও দেখে উঠতে পেরেছেন বলে মনে হয়না। তিনি যে বহুজনের কথা বলছেন তা হোল দলিত মুসলিম ঐক্য।
এই দলিত মুসলিম ঐক্য প্রসঙ্গে যোগেন মন্ডলের কথা বলা যেতেই পারে। সেই যোগেন মণ্ডল, যিনি জানিয়েছিলেন পাকিস্তানে দলিত এবং মুসলিম সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। তারপর নিজেই রাতের অন্ধকারে পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী যোগেনবাবু নিজের ইস্তফা পত্রটিও পাকিস্তানে বসে লিখতে পারেননি। সেটিও তাকে শ্যামা প্রসাদের “হিন্দু” বাংলাতে বসেই লিখতে হয়েছিল। তবে সেসব পুরনো কাসুন্দি নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই। শিক্ষিত শহুরেরা বলবেন এখনও পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছি। তাই সেসব কথা তো তুলছিইনা, এমনকি হালফিলের রোহিত তাঁতির মৃত্যু, বিনোদ দাসের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে গুড়িয়া, লাভ জেহাদ থেকে বাঁচতে নিজের গায়ে আগুন দেওয়া পুজার কথাও বলছিনা। যদিও এরা প্রত্যেকেই দলিত এবং দলিত মুসলিম ঐক্য প্রসঙ্গে এদের কথা বলা যেতেই পারে তাও বলছিনা। কিংবা বীরভূমেই মহরমের চাঁদা দিতে না পারায় যাকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল সেই ইন্দ্রজিতের কথাও বলছিনা। কারন সেসবই পুরনো কথা। বরং একটু সামনের কথা বলি। সামনের দিনে কি হতে পারে।
আজকের ব্রিগেড সমাবেশ থেকে একটি কথা খুব পরিষ্কার যে আগামী ভোটে বামেদের ভোট আব্বাস ভাইজানের দিকে গেলেও আব্বাস ভাইজানের ভোট বামেদের দিকে আসবেনা। সেই ভোট হয় আব্বাস ভাইজানের কাছেই থাকবে আর যেখানে তাঁরা বুঝবেন যে আব্বাস ভাইজান বিশেষ সুবিধা করতে পারবেননা বরং আব্বাস ভাইজানকে দেখতে গেলে বিজেপির সুবিধা হয়ে যাবে বা পক্ষান্তরে হিন্দুদের সুবিধা হয়ে যাবে সেখানে তাঁরা তৃণমূলের দিকেই যাবেন। কারন তারা জানেন কে দুধেল গোরুর লাথ খেতে চায়। তারা এও জানে যে বাম এবং কং এবারে কোনভাবেই সরকার গড়ার পরিস্থিতিতে নেই। তাই তারা আহাম্মকী করবেননা। তাদের রক্তে তো আর বামেদের রক্তের বিশ্বাসঘাতকতার বীজ মিশে নেই। তারা তাই জোট করবেন নিজেদের কৌমের স্বার্থে। তাদের দায়বদ্ধতা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়। তাদের দায়বদ্ধতা নিজেদের ধর্মের প্রতি। বামেদের দায়বদ্ধতা রাজনীতির কাছে, কিন্তু আব্বাস সিদ্দিকী ফ্যান ক্লাবের দায়বদ্ধতা রাজনীতির কাছে নয়।
কথা হোল তাহলে কেন আব্বাস ভাইজান এই জোটের হাত ধরলেন, কেন তৃণমূলের হাত ধরলেননা। তিনি হাত ধরলেন কারন এই জোটে তিনি যে দরাদরি করার সুযোগ পাবেন তা তৃণমূলের সাথে জোটে পাবেননা। ঠিক যেমন আপনি রোজকার স্বব্জি কেনার জন্য শপিং মল নয় পাড়ার বাজার পছন্দ করেন। কারন সেখানে আপনার দরাদরি করার সুযোগ পাবেন। বরং তিনি জানেন ভোট যতো এগিয়ে আসবে এই জোটের তিনিই প্রধান মুখ হয়ে উঠবেন। বামেরা তাঁকে খুশি করতে কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু কোন পরিস্থিতিতেই তাকে ছাড়বেনা। এতে আব্বাস ভাইজানের লাভ দুটো।
এক যদি বিজেপি সরকার করে তাহলে আগামী দিনে তিনিই হয়ে উঠবেন প্রধান বিরোধী মুখ। কারন তখন তিনিই হবেন মুসলিমদের রাজনৈতিক মুখ। বাকী এই যাদের আজকে ব্রিগেডে গদগদ হয়ে ঘুরতে দেখলেন সেই মহম্মদ সেলিমরা থাকবেন দ্বিতীয় সারিতে। আর সূর্যকান্ত মিশ্র, অভিষেক ব্যানার্জীরা থাকবেন রাজনৈতিক অবসরে। কারন একবার তৃণমূল হেরে গেলে তখন আর তোষণ করার জায়গায় থাকবেনা, আর সিপিএম এবং কং তো ক্ষমতা থেকে বহুদূরে। ইতালি বা চায়নার থেকেও দূরে। ফলে আগামী দিনে আব্বাস সিদ্দিকীই হয়ে উঠবেন এই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রক। তবে এর থেকেও বেশী বিপদ অন্য জায়গাটিতে। ধরুন তাঁর দল গোটা দশেক সিটও জিতল, আর তৃণমূল ১৪০ বা তার আশেপাশে আটকে গেল, সেক্ষেত্রে তার এই দশটা সিটের দৌলতেই তিনি বাজিমাত করে দিতে পারবেন। তিনি সমর্থন দেবেন তৃণমূলকে, তার সাথে দোসর হবেন সেলিম, মান্নানরা এবং তার বদলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হাতিয়ে নিতে পারেন। কারন তৃণমূল যদি একার জোরে সরকার তৈরি করতে না পারে তাহলে এখন যেমন বামেদের অস্তিত্বের সংকট, তখন তেমনই তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট তৈরি হবে। দুপুরে রেজাল্ট বেরোলে বিকেলে তৃণমূল ভবনে আলো জ্বালানোরও লোক থাকবেনা। খেয়াল করে দেখবেন আব্বাসের সাথে জোট করার আগ্রহটা কিন্তু এই সেলিম, মান্নানদের মধ্যেই বেশী। কারন তারা তৃণমূলের সাথে ইতিমধ্যেই এই হিসাবটাই পেছন দরজা দিয়ে করে রেখেছেন।
একবার যদি আব্বাস সিদ্দিকীর এই অঙ্ক মিলে যায় তাহলে আগামী দিনে তিনি যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব করবেন তাই নয়, এই পাঁচ বছরে প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই তোষণের অত্যাচারে কোণঠাসা হয়ে থাকা বাঙালিদের আরও কোণঠাসা করবেন। ভাবছেন কি ভাবে? বর্তমানের কিছু উদাহরন দিই। তাহলেই ভবিষ্যতের একটি চিত্র পাবেন।
প্রথমেই আসি পেটের কথায়। অর্থাৎ আমার আপনার বাড়ির ছেলে মেয়েগুলোর কথায়। বামেরা বলে তারা জাতের কথা বলেনা, তারা ভাতের কথা বলে। তাই আমিও নাহয় একটু বামেদেরই অনুসরণ করি। ভাতের কথা অর্থাৎ আমার আপনার বাড়ির ছেলে মেয়েদের চাকরির কথায় একটু আসি।
ওবিসি এ ক্যাটাগরির নাম তো শুনেছেন। বিশেষত যাদের বাড়ির ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বসছে, তারা তো শুনেইছেন। অন্যরাও খানিক খানিক শুনেছেন বৈকি। শহুরে লোকেরা গুরুত্ব দেননি, কারন তাদের বেশীরভাগের ছেলেমেয়েরাই আর সরকারী চাকরির পরীক্ষায় বসেনা। তা যারা ভুক্তভোগী তারা খুব ভালো করেই জানেন ওবিসি এ ক্যাটাগরি ঠিক কি পরিস্থিতি তৈরি করেছে বাঙালি হিন্দুর জন্য। তাও সবার জ্ঞাতার্থে একটু ছোট করে বলি। যখন ভারতবর্ষের সংবিধান তৈরি হয়েছিল সেই সময় পিছিয়ে থাকা হিন্দু নিম্নবর্ণের মানুষকে চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে সেই সংরক্ষণ প্রযোজ্য হয়নি কারন সেই ধর্মের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন তাদের ধর্মে কোন উঁচু নীচু নেই। সেখানে সবাই এক। কিন্তু স্বাধীনতার বহু বছর পরে শুধুমাত্র তোষণের জন্য এই ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণ চালু করা হোল আমাদের পশ্চিমবঙ্গে। এবার ওবিসি এ ক্যাটাগরি তো হোল, কিন্তু তাদের জন্য যে চাকরি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা হোল সেই চাকরিগুলো কোথা থেকে এলো। সেই চাকরিগুলো এলো আমার আপনার বাড়ির ছেলে মেয়েগুলোর প্রাপ্য চাকরি থেকেই। চাকরির ক্ষেত্র তো বাড়েনি, বরং স্বাভাবিক নিয়মেই সরকারী চাকরির পরিসর কমেছে। কাজেই আমার আপনার বাড়ির ছেলেমেয়েদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েই তোষণ করা হোল।
এবার একবার খালি ভাবুন আগামী দিনে যদি আব্বাস সিদ্দিকীরা সরকারের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন তাহলে কি ওবিসি-এ র আওতায় চাকরির পদের সংখ্যা বাড়বে নাকি কমবে? স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে। কারন আব্বাস সিদ্দিকীর দায়বদ্ধতা আমার আপনার কাছে নয়। ইতিমধ্যেই কিন্তু এসসি কোটায় ভাগ বসানোর লক্ষ্যে নস্য শেখ পরিষদ তৈরি হয়েছে। এরপরে দেখবেন এসটি কোটাতেও আমাদের ভূমিপুত্রদের অধিকার কেড়ে নিয়ে এদের তা উপহার হিসাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
চাকরি তো গেল, এবার আসুন শিক্ষার কথায়। শহুরে মধ্যবিত্ত এখন আর তাদের ছেলেমেয়েদের সরকারী স্কুলে পাঠানোর কথা ভাবতেও পারেননা। কিন্তু গ্রামীন বাংলায় এবং মফস্বলে এখন এক বিশাল সংখ্যক মানুষ সরকারী স্কুলগুলিতেই পড়াশুনা করে। সেই সরকারী স্কুলগুলিতে, যেখানে ইতিমধ্যেই দুধেল গাইদের লাথ খাওয়ার তাড়নায় রামধনুকে করা হয়েছে রংধনু, বাবাকে বলা হয়েছে আব্বা, কাকাকে চাচা বলতে শেখানো হচ্ছে, ক্ষুদিরামকে বলা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী। এরপরে আব্বাস ভাইজান যদি নিয়ন্ত্রন পান তাহলে যে আমাদের ঘরের ছেলে মেয়েদের হিন্দু আচার রীতি নীতি ভুলিয়ে দেওয়ার তার সম্বন্ধে ঘৃণা তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হবেনা তা কি আপনি আমি হলফ করে বলতে পারব? মনে রাখবেন এদের সঙ্গে তখনও থাকবেন সেই বুদ্ধিজীবীরা, যারা দেশভাগের মতো আমাদের চরম দুর্দশার ইতিহাসকে “ভূমিসংস্কার” বলতে দ্বিধা করেননা।
এরপরে আসি স্বাস্থ্যের কথায়। মনে আছে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা করেছিল শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য জেলায় জেলায় হাসপাতাল তৈরি করবেন। পরে প্রবল চাপে পরে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। এখন আব্বাস সিদ্দিকী যদি সরকারের নিয়ন্ত্রক হন তাহলে অতি অবশ্যই এই ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হবে। যেখানে খুব বিপদে পরে গেলেও আমি আপনি চিকিৎসা পাবনা, অথচ সেই হাসপাতাল চলবে আমার আপনার দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়।
এখনই যে পঞ্চায়েত এলাকাতে ২০-২৫ শতাংশ অহিন্দু জনসংখ্যা সেখানেও অবধারিত ভাবে পঞ্চায়েত প্রধান করা হয় কোন অহিন্দুকে। কোন হিন্দু যদি যোগ্য দাবীদার হন তাঁকে বর্তমান শাসক দল ক্রমশ নিজের দলের অন্দরেই কোণঠাসা করা হয়। আপনাদের আশপাশে দেখুন, এমন উদাহরন অনেক পাবেন। এরপরে যদি সরকারের পঞ্চায়েতের মতো দপ্তরগুলির নিয়ন্ত্রনও রাজনীতির স্বার্থে আব্বাস সিদ্দিকীর মতো মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন দেখবেন আপনার দুটাকা কেজি চালেও ওরা ভাগ বসাচ্ছে। একশো দিনের কাজে আপনাকে নয়, আগে ওদের দেখা হবে। বাড়ির টাকা এলে আপনি নন আগে ওরা পাবে। আপনি কাটমানি দিতে রাজী থাকলেও নয়।
তবে এর থেকেও বড় সমস্যা হবে আমার আপনার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে। আমি আপনি তখন যদি জমি, বাড়ি এমনকি চুরি, ছিনতাই বা খুন জখম রাহাজানি বা ধর্ষনের অভিযোগ নিয়েও পুলিশের কাছে যাই, পুলিশ আগে দেখবে আমরা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি তার ধর্ম কি।
মোদ্দা কথা এই তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস, আব্বাস সিদ্দিকীরা মিলে আমাদের নিজ ভূমেই আবারও পরবাসী করে তুলবে। আবারও হয়ত ভবিষ্যতে আমাদের অতীতের মুখোমুখি হতে হবে।
ভাববেননা যে কিছু কাল্পনিক কথা বলে আপনাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছি। এগুলো খুব বড় সম্ভাবনা যদিনা আগামী দিনে আমরা অর্থাৎ বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের হাতে এই রাজ্যের রাজনীতির রাশ হাতে রাখতে পারি। নিজেদের আশপাশে তাকান দেখবেন পরিস্থিতি এই দিকেই যাচ্ছে। জানেন তো আব্বাস সিদ্দিকী ফুরফুরা শরীফে নলেজ সিটি অর্থাৎ একটি উন্নত মাদ্রাসা তৈরি করবেন বলে যে জমি চিহ্নিত করেছেন সেই ১২০ বিঘার অধিকাংশটাই হিন্দুদের জমি। এযাবৎ প্রায় ৭০ জন হিন্দু চাষী এই দখলদারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও প্রশাসন আব্বাস সিদ্দিকীর স্বার্থই দেখছে। ভাবুন এখনই যদি এই পরিস্থিতি হয় তাহলে আগামী দিনে কি হবে। একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন মুর্শিদাবাদের অনেক অংশেই আর বাঙালি হিন্দু তুলসী তলায় সন্ধ্যে বেলায় শাঁখ বাজাতে পারেনা, বাড়ির দরজার আলপনা দিতে পারেনা। দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো তো অনেক পরের ব্যাপার। তবে এসব খোঁজ চট করে পাবেননা। কারন এই সব অঞ্চল শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত হিন্দু অনেক আগেই ছেড়েছে। তাই আপনাদের সার্কেলে এসব খোঁজ পাবেননা। তবে এদিক ওদিক ইতিউতি খোঁজ নিলে দুই চব্বিশ পরগণাতেও এরকম ঘটনার খোঁজ কিছু কিছু পাবেন। বলবেন মিডিয়ার সংবাদ দেখাতে। দূর মশাই মিডিয়া এসব ছাপালে সরকারী বিজ্ঞাপন পাবে আর?
তারপরেও যদি আমার কথায় কিছু সন্দেহ থাকে আপনাদের তাহলে মনে করাই একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ঘটনা। বছর খানেক আগে একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশের এক থার্ড ক্লাস “গায়ককে” নিয়ে কিভাবে আদিখ্যেতা হয়েছিল। যদিও বাংলাদেশ থেকে আরও দুইজন হিন্দু প্রতিযোগীও এসেছিল তাদের ভাগ্যে কিন্তু সেই আদিখ্যেতা জোটেনি। যদি আমার উপরের লেখাটা পরে থাকেন তাহলে খুব সহজেই কারন বুঝতে পারবেন। রাজনীতি আর বাজার, এই দুইয়ের তাড়নাই হচ্ছে তোষন। এই তোষণের শিকার সেদিন হয়েছিলেন ঐ প্রতিযোগীতার অন্য অনেক যোগ্য প্রতিযোগী। এরপরে হবে আমার আপনার বাড়ির ছেলেমেয়েরা। হবে বলছি কেন, ইতিমধ্যেই তা শুরু হয়ে গেছে।
মনে রাখবেন আমাদের কথা কেউ বলবেনা। কারন আমার আপনার কথা বলার জন্য কারুর ব্যাঙ্কের খাতায় আরবের টাকা আসেনা। তাই আমাদের কথা আমাদেরই বলতে হবে। আমরা কিভাবে বলব। আমরা বলব ভোটের বাক্সে। আমরা কি বলব? এতোখানি শুনে আপনার কি মনে হচ্ছে? হ্যা যেটা আপনার মনে হচ্ছে, ঠিকই মনে হচ্ছে। আমরা সবাই ভোটের লাইনে জয় শ্রীরাম বলেই দাঁড়াব। আপনি হয়ত বলবেন জয় শ্রীরাম বলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনলেই কি আমাদের সব সমস্যা রাতারাতি মিটে যাবে। না যাবেনা। সময় লাগবে। কারন যে ক্ষত তৈরি করা হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকে গত দশ বছরে তা গ্যাংগ্রীন হয়ে গেছে এবং আগামী দিনে অঙ্গ বাদ যাওয়ার পরিস্থিতি। বিজেপি এলে হিন্দু ভোটে জিতেই আসবে। তাই রাজনৈতিক স্বার্থেই তাকে হিন্দুদের স্বার্থ দেখতে হবে। তাই আমাদেরও আর ধর্ম আর রাজনীতিকে আলাদা করলে চলবেনা। আমাদের ধর্ম বাঁচলে আমাদের অস্তিত্ব বাঁচবে। আর আমাদের অস্তিত্ব বাঁচলে এই পশ্চিমবঙ্গ সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা থাকবে। নচেৎ পশ্চিমবঙ্গ পরিণত হবে আরেক বাংলাদেশে। যেখান থেকে আবার আমাদের শিকড় ছিঁড়ে চলে যেতে হবে অন্য কোথাও, অন্য কোনখানে। তাই আমাদের নিজেদের তাগিদেই এবারে বলতে হবে জয় শ্রীরাম। এই সব স্বার্থসর্বস্ব বুদ্ধিজীবীদের গুরুত্ব দেওয়ার আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। এনারা আমাদের সমাজের কোন গার্জেন নন।
বুদ্ধিজীবীরা আপনাকে বলবেন জয় শ্রীরামকে যুদ্ধের স্লোগান হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা উচিত নয়। কিন্তু একবারও কি তারা আপনার কথা বলবে?
বাঙালি কিন্তু তার শত্রুকে চিনতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে তার শত্রুর কথা। এখন এপারেও তার জমি দখল হতে শুরু করেছে। যে দুর্গা পুজো করার অধিকারের জন্য সে ওপার থেকে এপারে চলে এসেছে। সম্পন্ন পরিবার হয়েছে ভিখারী, সম্পন্ন চাষী হয়েছে মুটে মজুর, তার সেই অধিকারও ক্রমশ বিপন্ন হচ্ছে এই পশ্চিমবাংলারই নানা প্রান্তে। কখনও কোথাও স্লোগান উঠছে “আর্য জাতি ভারত ছাড়ো”, আবার কখনও বা তারই চোখের সামনে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা নৃশংস ধর্ষনের শিকার হচ্ছে বর্বরদের হাতে। তার প্রশাসনিক প্রধান “দুধেল গোরুদের লাথ” খাওয়ার নিদান দিচ্ছেন। বাধা দিচ্ছেন পুজোর নির্ঘন্ট পালনে। অতএব এখন তাকে বুঝতে হবে, আবারও তার নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার সময় আসন্ন। কারন সে তো দেখেছে সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ করে দিয়ে কিভাবে তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবিকার সুযোগ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কিরকম চতুরতার সাথে ভেঙে দেওয়া হয়েছে কৃষি ব্যবস্থার ভিত্তি। তার জেরে ভেঙে পরেছে গ্রামীন অর্থনীতি। এই দুইয়ের জেরে ভেঙে পরেছে বাঙালির সমাজও। সে বুঝছে এবার তাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে, দেওয়ালে পিঠ তার অনেক আগেই ঠেকেছিল, কিন্তু এবার যদি সে ঘুরে না দাঁড়ায় তাহলে সে এই দেওয়ালেই চাপা পরবে। তাই সে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করল। আর সেই লড়াইয়ের প্রতীক হোল দুইটি শব্দ। “জয় শ্রীরাম”।
একবার ভেবে দেখুন তো মেটিয়াবুরুজের সাফাই কর্মচারী সেই মানুষটি, যিনি আজও মাঝে মাঝেই ভুল করে মেয়ের জন্য চকোলেট কিনে আনেন। কিংবা বীরভূমের সেই মায়ের কথা। যিনি আজও ভাবেন মেয়েটা বেঁচে থাকলে এবছরে তার কলেজের পড়াটা শেষ হতো। একটু ভাবুন সেই মেয়েটির কথা, যে ভাবে দাদা থাকলে আজ যখন সে শ্বশুর ঘরে যাচ্ছে তখন দাদার বুকে মাথাটা গুঁজে দিয়ে একটু কাঁদতে পারত। ভাবুন একবার সেই ছেলেটির কথা যার চাকরির বয়স একটু একটু করে পেরিয়ে যায় আর সে অসহায়ের মতো দেখতে থাকে তার থেকে অনেক কম যোগ্যতার একজন শুধুমাত্র ওবিসি-এ নামক একটি সংরক্ষণের জেরে তার প্রাপ্য চাকরিটি বাগিয়ে নেয়।
একটু ভাবুন এই মানুষগুলোর এখন চাহিদা কি? তাদের একটাই চাহিদা। বিচার। কিন্তু কে দেবে সেই বিচার? এই প্রশাসন? যারা ধূলাগড়, কালিয়াচক, বসিরহাট, তেলিনীপাড়া সবকিছুর পরে আমাদের নিদান দেয় “দুধেল গোরুর লাথ” খাওয়ার। এরপরে কেন সম্প্রীতি রক্ষার দায় খালি আমার আপনার হবে?
এখন সে সম্প্রীতি নয় যুদ্ধই পথ। তাই তো আজ রনহুঙ্কার দিয়ে নিজের পরিচয় জ্ঞাপন করতেই হবে আমাদের। আমরা যে এই মাটিরই ভূমিপুত্র তা মনে করিয়ে দিতে হবে এই বুদ্ধিজীবীদের, ভন্ড সম্প্রীতিবাজ “সেকুলার” রাজনৈতিকদের এই “জয় শ্রীরাম” শব্দবন্ধের মাধ্যমে। এই শব্দ দুটি তার কাছে কোন রাজনৈতিক স্লোগান বা ধর্মীয় স্লোগান নয় নিছক। এই শব্দবন্ধ তার অস্তিত্বের ঘোষণা। অবশ্যই জয় শ্রীরাম এখন বাঙালির “ওয়ার ক্রাই” বা রণহুঙ্কার। বাঙালি আরও একবার শিকড়চূত্য হতে রাজী নয়।
হয়ত এই লেখা পড়ে অনেক বাঙালি হিন্দুই আমাকে বলবেন “জঘন্য সাম্প্রদায়িক”, কিন্তু তাও আমি এই কথাগুলি বলব। বারেবারে বলব। আব্বাস সিদ্দিকী, দুধেল গোরুর লাথ খেতে উন্মুখ হয়ে থাকা তৃণমূল বা মহম্মদ সেলিমদের মতো ভন্ড সেকুলারদের জন্য আমি চরম সাম্প্রদায়িক। তফাত একটাই। আমি আপনার পক্ষে, বাঙালি হিন্দুর পক্ষে, এই মাটিতে আমাদের অধিকারের পক্ষে আর ওরা আমাদের বিপক্ষে।
যুদ্ধ শেষে আমি, আপনি থাকি বা না থাকি এই মাটি আমাদের থাকা চাই। তাই তো আজ আমরা বলবই বলব জয় শ্রীরাম। শ্রীরামের নামেই হবে আমাদের এই মর্যাদা রক্ষার লড়াই।
লেখকের মতামত ব্যাক্তিগত
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news