নীল রায়। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ভোটে দলবদল করে এই আসনটি তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপির সংসদ সদস্য অর্জুন সিং। পদ্ম প্রতীকে ১৪ হাজারের কিছু বেশি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী তথা ১০ বছরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বহিষ্কারের পর বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়। তাঁর সঙ্গে দল ছাড়তে চলেছে নৈহাটি, ভাটপাড়া, কাঁচরাপাড়া ও হালিশহরের এক ঝাঁক তৃণমূল কাউন্সিলররা। তাই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব মধ্যমগ্রাম পার্টি অফিসে বৈঠক ডাকা হয়েছে। মুখে বৈঠকটি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের বৈঠক বলা হলেও, দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন কীভাবে বিজেপির আগ্রাসন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আটকানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে দলের সর্বস্তরের নেতাদের। প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর ছাড়া বনগাঁ আসনে জিতেছে বিজেপি। হাতছাড়া হয়েছে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু মতুয়া ভোট ব্যাংকের তুলনায় তৃণমূলকে বেশি ভাবাচ্ছে ব্যারাকপুর। কারণ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির আগ্রাসনের আটকানো না গেলে গোটা রাজ্যে তা সংক্রমনের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। মুকুল রায় ও অর্জুন সিং ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের নেতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কৌশল করে ওই দুই নেতাকে বিজেপি নেতৃত্বের জায়গা দিলে, বিজেপির শক্তি বাড়বে বই কমবে না। সেই পরিস্থিতিতে দল কীভাবে তা মোকাবিলা করবে তার জন্য দলনেত্রী নতুন রণকৌশল বের করতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। নিজের বিধানসভা হবরায় ১৯৪৩২ ভোট পিছিয়ে বেজায় চাপে রয়েছেন দিদির স্নেহের বালু। আপাতত যেনতেন দলে ভাঙ্গন রোধ করে দিদির কাছে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষাই লক্ষ্য জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। নতুবা ৩১ মে কালীঘাটের বৈঠকের শাস্তির খাড়া নেমে আসতে পারে তাঁর ওপরে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news