Breaking News
Home / TRENDING / তৃণমূলে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন বৈশ্বানর

তৃণমূলে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন বৈশ্বানর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় ,ঈষাণিকা ভোরাই :
মানসিক যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।
বৈশ্বনর হলেন তৃণমূলের সেই অংশের প্রতিনিধি যাদের সম্পর্কে এক পংক্তিতে বলা যায়, ‘যারা শুধু দিয়ে গেল পেল না কিছুই।’
এরা কি দিল?
১) দিল জীবনের মূল্যবান সময়।
২) দিল শ্রম।
৩) দিল একনিষ্ঠ ভালোবাসা।
৪) দিল নেত্রীর প্রতি একশ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা।
৫) প্রয়োজনে ঘাম, রক্ত, পুলিশের লাঠি খেয়ে হজম করার শক্তি।
তালিকা আরও বড় হয়। তবে তালিকা দীর্ঘায়িত করলেই বৈশ্বানরদের মতো বঞ্চিত, এক পাশে পড়ে থাকা, নেতৃত্ব কর্তৃক ভুলে থাকা নেতাদের হীনন্মন্যতা কমে না!
তৃণমূল শুরুর দিন থেকেই দু’টো। একটি তৃণমূল মমতাকে দেবীর আসনে বসিয়ে পুজো করে আর একটি তৃণমূল মমতার ছবি টাঙিয়ে নিজের আখের গোছায়। বৈশ্বানর প্রথমটির প্রতিনিধিত্ব করেন।
মমতার ঘরে যখন হাতেগোনা কয়েকজনের যাতায়াত, যখন এই রাজ্যে বিরোধী রাজনীতি করা একপ্রকার বোকামির সামিল, যখন অতি দুর ভবিষ্যতের দিকে তাকালে বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চের জন্য এই রাজ্যে কোনও আলোকরেখা দেখা যেত না, যখন হতাশায় বিরোধীনেত্রীও বলে ফেলতেন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন… সেই সময় যাঁরা নেত্রীর কাছে নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নামটি হল বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।
মুখে স্মিত হাসি নিয়ে দলের নীরব কর্মী।
সেই বৈশ্বানর তৃণমূল কংগ্রেসের চুড়ান্ত সাফল্যের দিনে মানসিক যন্ত্রণা পাচ্ছেন।
মমতা যখন পটুয়াপাড়া গণ্ডি কবেই কাটিয়ে রাজ্যে রাণীর আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে দিল্লির মসনদের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন, তখন বৈশ্বানর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন।
না, এবারেও রাজ্যসভা হল না বলে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা, তা মানছেন না বৈশ্বানর।
বলছেন তিনি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। গোপন করছেন না এই যন্ত্রণার পিছনে রাজনৈতিক কারণও আছে। চিরকাল মুখ বন্ধ করে সহ্য করেছেন। নিজের চোখে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেখেছেন আর ‘আগাছায়’ ভ’রে যেতে দেখেছেন ঘাসফুলের বাগান। দুর থেকে দেখেছেন তাঁদের স্বপ্নের তৃণমূলে, সাধের তৃণমূলে উড়ে এসে জুড়ে বসাদের দাপাদাপি। তবু একটা সময় পর্যন্ত এক প্রকার সম্মান দলের মধ্যে ছিল। দলে পরিবারতন্ত্র মাথা তোলায় এখন সেটুকুও গেছে। গভীর হতাশা থেকে ফেসবুকে লিখে ফেলেছিলেন, “এই নোংরা রাজনীতিতে আমি আর নেই, হার মানছি, গুডবাই।”
২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই লেখা মুছেও দিয়েছেন। বলেছেন, “আমি মানসিক চাপে পড়েছি। মানসিক যন্ত্রণা থেকে এই পোস্ট করেছি! আমি আমার কথা প্রত্যাহারও করছি। দলের প্রথমদিন থেকে আছি। রাজনৈতিক এবং পারিবারিক চাপ, তার ফলেই মানসিক যন্ত্রণা, সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকে এই মন্তব্য করেছিলাম। তবে আমি আবার বলছি, যেমন ভাবে দলে কাজ করতাম, আগামীদিনেও সেই কাজ করব।”
‘যাক! তবে নিশ্চিত!’ এমন যাঁরা ভাবছেন, তারা অভিনন্দনের যোগ্য বটে! যতই মানসিক যন্ত্রণায় থাকুন বৈশ্বানর, শেষ পর্যন্ত লাইনেই আছেন বৈশ্বা! বেলাইন হন নি। ফোঁস করলেও তেমন ফণা তুলতে পারেন নি তিনি!
এমন বহু বৈশ্বানর তৃণমূলে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে। তাঁরা সবাই মিলে কোনওদিন ফোঁস করলে!

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *