নীল রায়:
কথায় আছে “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না”! আর গোহারা না হারলে ভাইপো পার্টি অফিসে আসেন না। অবশেষে বিলম্বিত বোধোদয় তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার রাতে একটি বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাই প্রোফাইল রাজনীতিক ভাইপো এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে তৃণমূল ভবনে যাবেন। শুধু যাবেনই না, প্রতি শুক্রবার সেখানে গিয়ে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে আগত নিচুতলার কর্মী সমর্থক নেতাদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন।
প্রসঙ্গত, নিচুতলার কর্মী মহলের সঙ্গে মেলামেশা করা তৃণমূলের এই রাজপুত্রের ধাতে নেই। সদা পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে দেখা করতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয় দলের প্রথম সারির নেতাদের। এমন নজির ভুরি ভুরি রয়েছে! লোকসভা ভোটে ভরাডুবির আগে পর্যন্ত প্রায় ১০-১২টি গাড়ির পুলিশি কনভয় নিয়ে হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের বিলাসবহুল “শান্তিনিকেতন” নামক বাসভবন থেকে রাজকীয় কায়দায় সর্বত্র যাতায়াত করতেন তৃণমূলের যুবরাজ। লোকসভা ভোটের ফলাফল যেন সবকিছু থমকে গিয়েছে। বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও পুরুলিয়া আসনে দায়িত্ব নিয়ে পিসিকে ডুবিয়েছেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ তাঁর সমালোচকদের। আড়ালে-আবডালে দলের নেতা-মন্ত্রী- সাংসদ থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মীরাও অভিষেকের দিকেই এই ভরাডুবির দায় চাপাচ্ছেন। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষানলে পড়ার ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। হারের পর বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে ভাইপোকে সরিয়ে দিয়েছেন দিদি। গত এক সপ্তাহ যাবৎ কলকাতা-দিল্লি-কলকাতা করা ছাড়া খুব একটা বিশেষ কিছু কাজ করেননি তিনি। পিসির নির্দেশ ছিল দলের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে ভোটার লিস্টের কাজকম্মো দেখবেন ভাইপো।
সেই দায়িত্ব কতটা পালন করছে তা জানা যায়নি, তবে প্রতি শুক্রবার যে অভিষেকের দেখা তাপসিয়ার তৃণমূল ভবনে মিলবে, তা নিশ্চিত বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের কথায়, বাংলার বিড়াল যে ঠেলায় পড়েছে, তাই বিড়াল গাছেও উঠবে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news