কৌশভ সান্যাল:
উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী করে বড় চমক দিয়েছিল বিজেপি। এবার বাংলার রাজ্য রাজনীতিতেও এমন চমক অপেক্ষা করছে বলে শুরু হয়েছে জল্পনা। সেটাকেই আরও উস্কে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ মামলায় সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত অসীমানন্দ মহারাজ বাংলায় বিজেপির হয়ে কাজ করবেন। ফলে যোগী আদিত্যনাথ ও অসীমানন্দ মহারাজের এই সমীকরণ বাংলার রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কে এই অসীমানন্দ মহারাজ? তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে একাধিক চর্চা। তবে জানা গেছে, তিনি আরামবাগ মহকুমার অন্তর্গত কামারপুকুরের বাসিন্দা। তাঁর আসল নাম নবকুমার সরকার। খুব ছোট বয়সেই তিনি সঙ্ঘের মতাদর্শে দীক্ষিত হন। পুড়শুড়া থানার অন্তর্গত ভুঁয়েড়া গ্রামে কালীপুর স্বামীজি হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা করেন। পরে কামারপুকুর কলেজ থেকে ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন। বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার ডিগ্রী করেন। এই সময়েই তিনি পায়ে হেঁটে ভারত বর্ষের একাধিক তীর্থস্থান ভ্রমণ করেন। মাস্টার ডিগ্রী করার পর সন্নাসী হয়ে ঘর ছাড়েন নবকুমার সরকার। তাঁর নামকরণ হয় অসীমা নন্দ মহারাজ। শোনা যায় হিমালয়ে গিয়ে বেশ কয়েকবছর সাধনাও করেন তিনি। পরে আদিবাসীদের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু করেন। গুজরাতে শবর ধাম তৈরি করেন। আদিবাসীদের মধ্যে যাঁরা খ্রিস্টান ধর্ম নিয়েছিল তাঁদের নিরানব্বুই শতাংশ মানুষকে ফের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনেন। গুজরাত ছাড়াও মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ইত্যাদি রাজ্যের মানুষের কাছে তিনি ঈশ্বরতুল্য।

অসীমানন্দ মহারাজের বাবা বিভূতিভূষণ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামী। ইংরেজদের অত্যাচারে প্রায় পঙ্গু হয়ে যান তিনি। ১৯৮৬ সালে মারা যান অসীমানন্দের বাবা। খবর পেয়ে তখন একবার কামারপুকুরে এসেছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবারের লোকেরা। মা প্রমীলা সরকারের বর্তমান বয়স ৯১ বছর। সাত ভাইয়ের মধ্যে অসীমানন্দ মেজ। বড় ছেলে স্কুল টিচার, সেজ ছেলে ডাক্তার। প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত। মেজছেলের সন্ন্যাসী হওয়াটা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি প্রমীলা দেবী। আজ সেই সন্তানের জন্যই তাঁর গর্বের অন্ত নেই। বিষ্ফোরণ মামলায় ছেলের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় দশ বছর মানসিক যন্ত্রনায় কেটেছে তাঁর। সম্প্রতি শীর্ষ আদালত তাঁকে বেকসুর মুক্তি দেওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে প্রমীলা দেবীর। অসীমানন্দ মহারাজের ভাই সুশান্ত সরকার বলেন, আমার দাদা দেবতুল্য মানুষ। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের কারিগর হিসাবে সোনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধির নাম করেন তিনি। পাশাপাশি চিদম্বরমের নাম করেন তিনি। বর্তমানে সুশান্তবাবু বিজেপির জেলা সম্পাদক। তিনি বলেন, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দাদার কথা হয়েছে। তবে দাদা কবে আসবে আমরা জানি না। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সকলেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করে আছে। বর্তমানে এই পরিবারের সদস্যকে নিয়ে বাংলার রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হচ্ছে। মুক্তি পেয়েই বিজেপির দায়িত্ব নিয়ে বাংলার বুকে পা রাখতে চলেছেন নবকুমার সরকার ওরফে অসীমানন্দ মহারাজ। এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে পরিবারের সদস্যরা সবাই বলেন, আমরা সবাই খুশি যে আমাদের এক ভাই ফিরে আসছে। রাজনীতির বিষয়টা আমাদের কাছে মুখ্য ব্যাপার নয়। ওটা তো থাকবেই। তার আগে আমরা ওনার সান্নিধ্য পেতে চাই। আমরা জানি দাদা কাজ ছাড়া কিছু বোঝে না। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ইত্যাদি জায়গাতেও আদিবাসীদের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন তিনি। বনবাসী কল্যাণ আশ্রম করেছেন। সম্প্রতি মাস তিনেক আগে বাড়িতে এসে সবার সঙ্গে দেখা করে যান অসীমানন্দ। এবার পাকাপাকিভাবে ঘরে ফেরার পালা। তাঁর মুক্তি পাওয়ার খবরে আনন্দিত স্থানীয় মানুষও। এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে আদালতের রায়কে স্বাগত জানান গ্রামের মানুষ। বিনা দোষে দশ বছর জেলে থাকার পর এবার নতুন রূপে বাংলার রাজনীতিতে অভিষেক হতে চলেছে তাঁর। তাই স্বাগত জানাতে তৈরি বিজেপি কর্মী সহ বাংলার মানুষ দাবি এলাকাবাসীর।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news