নিজস্ব প্রতিনিধি:
পাকিস্তান জেলে আট বছর কাটানোর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন আশিয়া বিবি। মুসলিম ধর্মগুরুকে নিয়ে ‘অপ্রীতিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানে। যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে ছাড়া পাওয়ার পরদিনই কানাডায় অজ্ঞাতবাসে চলে যেতে হয় তাঁকে। সেখান থেকে তিনি বলেন তিনি পাকিস্তানের ধর্মান্ধতার বলি ছিলেন।ক্রমাগত নিগ্রীহিত আর নিপীড়িত তিনি ছিলেন সবার কাছে ঘৃণ্য। তাঁকে জেলের মধ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হত। যন্ত্রণায় কবজি জ্বলে যেত মাঝে মাঝে। এমন ভাবে হাত কামড়ে ধরত লোহা। ভয়ংকর দিনগুলিতে নিজের চোখের জল ছাড়া আর কোনও সঙ্গী ছিল না তাঁর। তিনি বলেছেন এখনও মুক্তির পরও সেই দিনগুলির কথা ভাবলে শিউরে উঠি আমি। গভীর অন্ধকার ছাড়া আর কিছু ছিল না জীবনে।
২০০৯ সালে পাকিস্তানের ক্ষেতে কাজ করার সময় তিনি নাকি ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেন তিনি।গ্রামের একমাত্র খ্রিস্টান পরিবার হওয়ায় এমনিতেই তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন সময়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাড়ির লোকেরা। কিন্তু তাঁদের কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। ইসলামকে ‘অপমানের’ অভিযোগে সন্তানের উপস্থিতিতে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা।এর পরই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এক বছর পর পাকিস্তানের পাঞ্চাবের শেখপুরা আদালতের বিচারপতি মৃত্যুদণ্ড দেন তাঁকে। আশিয়াই প্রথম মহিলা যাঁকে প্রফেটকে ‘অপমান’ করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
নিজের জীবনী ‘এনফিন লিবরে’( শেষপর্যন্ত মুক্ত) আনে ইসাবেল নামে এক ফরাসী সাংবাদিকের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা, তাতে জীবনের কালো দিনগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন আশিয়া।
বইটিটে আশিয়া লিখেছেন, ‘ এতদিন অসহ্য কষ্ট সহ্য করার পর হয়ত এতদিনে এই অজ্ঞাতদেশে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব ? কিন্তু কীসের বিনিময়ে ? আমার হৃদয় ভেঙে যায় যখন আমি ভাবি যে আমি আমার বাবা আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঠিকমত বিদায়ও জানাতে পারি নি। পাকিস্তান আমার দেশ। সেই দেশকে আমি ভালবাসি। কিন্তু সেই দেশ থেকে আজ আমি নির্বাসিত।‘
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news