নীল রায়:
দল ছাড়ার পর থেকেই প্রায় প্রত্যেক জনসভাতেই একদা সতীর্থ মুকুল রায়কে “গাদ্দার” বলে আক্রমণ করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ অন্য দলের রাজনৈতিক “গাদ্দার”দের তিনি আশ্রয় দিচ্ছেন কিংবা সাহায্য নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। এবার ব্যারাকপুর রক্ষায় তেমনি এক “গাদ্দার”কে প্রচারে নিয়ে আসছে মমতার দল। প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাকে প্রচারে নামাচ্ছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যারাকপুরের হাজিনগর ও টিটাগড় এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীর হয়ে প্রচার চালাবেন তিনি। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড সমাবেশেও অন্যতম বক্তা ছিলেন প্রাক্তন গেরুয়া শিবিরের নেতা। তাছাড়া কলকাতায় তৃণমূল নেতৃত্ব দ্বারা আয়োজিত মোদি সরকার বিরোধী আলোচনা সভাতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এবার সরাসরি তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে চলেছে যশবন্ত।
অন্য দিকে ১০ বছরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর বিরুদ্ধে এবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সদ্য তৃণমূল ত্যাগী অর্জুন সিংহ। এই আসন ফেরাতেই প্রচারে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী সহ তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু যত সময় গড়াচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে ব্যারাকপুরের ললাট লিখন। বাধ্য হয়েই বিজেপির এই প্রবীণ নেতাকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যেখানে মুকুল রায়কে গাদ্দার আখ্যা দিয়ে তেড়ে-ফুঁড়ে আক্রমণে নামছেন তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা। সেখানে কীভাবে একজন দল (বিজেপি) বিরোধী নেতা বলে পরিচিত যশবন্ত সিনহাকে প্রচারে আনতে পারে তৃণমূল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাজে লাগিয়েছে দলত্যাগী বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি ও সদ্য বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসের টিকিটে পাটনা সাহেবের প্রার্থী হওয়া অভিনেতা শত্রুঘন সিনহাকেও। এই দুই নেতাই ব্রিগেড সমাবেশে সুর চড়িয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহকেও “গাদ্দার” আখ্যা দিয়েছেন মমতা। কিন্তু “গাদ্দার” বিজেপি নেতাদের এনে প্রচার চালানোর এই কৌশল কতটা কাজে দেবে তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news