চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
কেরলের মলপ্পুরমে অন্তঃসত্ত্বা হাতির নৃশংস হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। ফের কেরলেই হাতি মৃত্যুর আরেকটি ঘটনা সামনে এল। প্রায় এক মাস আগে কোল্লাম জেলায় একটি স্ত্রী হাতির মুখে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
বন দফতরের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, কোল্লাম জেলার পাঠানপুরম জঙ্গলে এপ্রিল মাসে এরকমই একটি স্ত্রী হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দেখা যায় একটি স্ত্রী হাতি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ওই হাতিটির চোয়ালে গুরুতর আঘাত রয়েছে ফলে হাতিটি খেতে পারছিল না। এরপর বনদপ্তরের কর্মীরা হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন এবং পুনরায় হাতিদের দলে ছেড়ে দিয়ে আসেন। তারপর পুনরায় আবার হাতিটি দলছুট হয়। পরে যথাযথ চিকিত্সা করা সত্ত্বেও হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি। অন্য এক আধিকারিকের কথায়, “হাতিটির মুখে কিভাবে আঘাত লেগেছিল তার জানা খুবই কঠিন। কারণ হাতির দল কয়েক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ঘুরে বেড়ায়। অসুস্থ হলেও বনদপ্তরের নজরে আসতে সময় লাগে।”
প্রসঙ্গত, ২৭ মে মলপ্পুরমে একটি অন্তঃসত্ত্বা হাতি খাবারের খোঁজে জঙ্গল পেরিয়ে গ্রামের রাস্তায় ঢুকে পড়ে। গ্রামের কিছু মানুষ হাতিটিকে দেখতে পেয়ে একটি আনারস খেতে দেয়। আনারস খাওয়ার পরেই হাতিটির মুখে বিস্ফোরণ হয় (বোমা ফেটে)। এবং তারপরেই হাতিটির মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, ওই আনারসের মধ্যে বারুদ ভরা ছিল। এই ঘটনা সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে।
এ প্রসঙ্গে কেরলের বনমন্ত্রী কে রাজু বলেন, “অন্তঃসত্ত্বা হাতিটির কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে আমরা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করেছি। হাতি হত্যা করার জন্য যাঁরা দোষী, তাঁদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেব।” বুধবার হাতি মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপি নেত্রী মেনুকা গাঁধীও নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটা একটা খুন। কেরালায় প্রতি তিন দিন অন্তর একটি করে হাতি খুন হয়। হিংসাত্মক ঘটনার দিক থেকে মলপ্পুরম জেলাটি খুবই জনপ্রিয়।” উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “এক সময় বিষ মাখানো খাবার এখানে ৩০০-৪০০ পাখি ও কুকুর মারা গিয়েছিল।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news