Breaking News
Home / TRENDING / প্রণব আবার আজীবন কংগ্রেসী হলেন কবে! প্রশ্ন তুললেন ইন্দিরা যুগের কংগ্রেস সাংসদ

প্রণব আবার আজীবন কংগ্রেসী হলেন কবে! প্রশ্ন তুললেন ইন্দিরা যুগের কংগ্রেস সাংসদ

সর্দার আজাদ আলির আক্রনণাত্মক কলাম :  

নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সদর দফতরে, স্বয়ং সেবকদের তৃতীয় শিক্ষার্থী শিবিরের দীক্ষান্ত ভাষনের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের আমন্ত্রণে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। তাই নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনা হচ্ছে। এই বিষয়ে আমার অভিমত অত্যন্ত স্পষ্ট । অবিভক্ত ভারতবর্ষে জন্মানো একজন ভারতীয় নাগরির হিসেবে, এই দেশের লোকসভা ও রাজ্যসভার একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে এবং কংগ্রেসের একজন সেবক হিসেবে আমার অভিমত নিম্নরুপ :
আরএসএসের সদর দফতরে প্রণববাবু দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে আমন্ত্রিত হননি । দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসেবেই তিনি সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে আমি কোনও বিরুপ মন্তব্য করব না। দেশের প্রাক্তন প্রথম নাগরিক হিসেবে তিনি কোথায় যাবেন, না যাবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত রুচি ও ইচ্ছার ব্যাপার । কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে তিনি আরএসএসের দীক্ষান্ত ভাষনে বক্তব্য রাখতে গিয়েছেন । আরএসএসের জাতীয়তাবাদের যে ব্যখ্যা আর ভারতের জাতীয়তাবাদের যে ব্যাখ্যা প্রণববাবু দিয়েছেন, সেই দুটো যে এক নয়, তা প্রকাশ্যে জোর গলায় বলার দুঃসাহস প্রণববাবু দেখাননি। ভারতীয় সংবিধানের জাতীয়তাবাদ, রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ, কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদ যে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এ কথা বলারও দুঃসাহস প্রণব বাবু দেখাতে পারেননি। হিন্দী, হিন্দু, হিন্দুস্তান- আরএসএসের এই মন্ত্র ভারতষর্ষের সংবিধানের ভূমিকার বিরোধী । এই কথাটা স্বয়ং সেবক শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি উপস্থাপিত করতে পারেননি। বৈচিত্রের কথা বলতে গিয়ে তিনি হুিউয়েন সাং এবং অন্যান্য যে পর্যটকেরা ভারতে এসেছেন, তাদের কথা বলতে পেরেছেন। কিন্তু আল বেরুনী, ইবন বতুতার কথা বোধহয় তিনি ভুলে গিয়েছিলেন! রবীন্দ্রনাথের ভারততীর্থ কবিতা থেকে তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, কিন্তু আরএসএসের শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ভারততীর্থের’ ওই লাইনটি- “ এস ব্রাহ্মণ, শুচি কর মন, ধর হাত সবাকার…..” এই কথাটা বলতে ভুলে গিয়েছিলেন! ভারতবর্ষের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আরএসএস শিক্ষার্থীদের কাছে দীক্ষান্ত ভাষনের সময় বৈরিতা, ধর্মান্ধতা, সংকীর্ণতা, অসহিষ্ণুতা জাতি হিসেবে ভারতবর্ষকে কলঙ্কিত করে। এই আদর্শে বিশ্বাসী কোনও সংগঠন এই ভারতবর্ষে, মহা মিলনের তীর্থ ভারতবর্ষে কোনও সার্বিক কল্যাণ করতে পারে না। দেশের প্রাক্তন এই কথাগুলি বললে তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, পাণ্ডিত্য এবং বলিষ্ঠতার গুণগ্রাহী হিসেবে ভারত তাঁকে অভিনন্দিত করত।
হিন্দু শাস্ত্র সম্পর্কে মহাজ্ঞানী হিসেবে যখন তাঁকে কেউ চিহ্নিত করে, তাদের কাছে আমার অনুরোধ তাঁরা ডঃ প্রভাকর আপ্টে, পশ্চিম বঙ্গের ডঃ অতুল শুর, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ ভাদুড়ী; এই নামগুলো স্মরণ করলে ভাল করতেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রজ্ঞাবান মানুষ হিসেবে প্রণববাবুকে সংবর্ধিত করার সময় এই দেশের অন্যতম রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডঃ রজনী কোঠারি, সরোজীনী বরদাপ্পা, সুব্রত মিত্র, ডঃ নরেশ দধীচ, রমীলা থাপার;- এদের কথা মনে রাখলে ভাল করতেন। রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রণববাবুর জ্ঞানের প্রসংশা করার সঙ্গে সঙ্গে এই বাংলার ডঃ সুকুমারী ভট্টাচার্য, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ডঃ ইরফান হাবিব, রামচন্দ্র গুহ, ডঃ সুশোভন সরকার; এঁদের কথা ভুলে যাওয়া যায় না। প্রণববাবুকে যাঁরা আজীবন কংগ্রেসি বলেন, তারা একেবারেই সত্য বলেন না। ১৯৬৭-র আগে পর্যন্ত প্রণববাবু একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না। ১৯৬৬ সালে অজয় মুখোপাধ্যায় বাংলা কংগ্রেস গঠন করার পর তিনি অজয় মুখোপাধ্যায়, সুশীল ধাড়ার নেতৃত্বে বাংলা কংগ্রেস করতে আসেন। ১৯৭১ সালে বাংলা কংগ্রেস কংগ্রেসের সঙ্গে সমৃদ্ধ হওয়ার পর তিনি প্রথম কংগ্রেসি হলেন। রাজীব গাঁধী যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তাঁর মন্ত্রীসভায় স্থান না পাওয়ার পর প্রণববাবু বিদ্রোহ করে কংগ্রেস পরিত্যাগ করেন এবং নিজে সমাজবাদী কংগ্রেস নামের একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন । সমাজবাদী কংগ্রেসের ২০৫ জন সদস্যকে বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন দেন । ২০৫ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি সমাজবাদী কংগ্রেস দলকে বিলুপ্ত করে দেন । রাজীব গাঁধীর সঙ্গে নতুন করে সখ্যতা স্থাপন করেন। কংগ্রেসে প্রণববাবুর দ্বিতীয় জন্ম হয়। আজীবন কংগ্রেসি বললে তথ্যের বিকৃতি করা হয়। যাঁরা বলেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর কোনও দলীয় পরিচয় তাঁর কাছে অতীত হয়ে গিয়েছে , তাঁদের যুক্তির সঙ্গে আমি একমত নই। পিতা পুত্র যেমন জীবনের বিভিন্ন স্তরে উপনীত হয় তখন তাদের সম্পর্ক না অতীত হয়ে যায়, না সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা যায় । কংগ্রেসের মনোনয়ন নিয়েই কিন্তু প্রণববাবু ভারতবর্ষের প্রথম নাগরিক হয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন হয়ে যাওয়ার পর তাঁর অতীত পরিচিতিকে তিনি নিজে কী অস্বীকার করেছেন! প্রশ্নটা আমি তাঁর কাছেই করব।
তবুও তাঁর পাণ্ডিত্য, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর মেধা, তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রসংশা নিশ্চয় করব। কিন্তু স্বচ্ছ এবং সাহসী রাজনীতিক হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দিতে আমার ‘কিন্তু’ আছে।

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *