নীল রায়
শেষ দফা ভোটের সুর বেঁধে দিয়ে গেলেন গেরুয়া শিবিরের সভাপতি অমিত শাহ। বুধবার ধর্মতলার কে সি দাস মোড় থেকে স্বামী বিবেকানন্দের সিমলার বাড়ি পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য রালি করেন বিজেপি সভাপতি। মূলত উত্তর কলকাতা কেন্দ্র জুড়েই এই মিছিল হলেও, তার প্রভাব যে রাজ্যের বাকি আটটি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটে পড়বে তা এক বাক্যে মেনে নিচ্ছে রাজনৈতিক মহল। কারণ উত্তর কলকাতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন ১৯ মে-র অপেক্ষায় থাকা সমস্ত লোকসভার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। অমিত শাহের রোড শো করার পরিকল্পনা নিছক উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে রাহুল সিনহা হয়ে প্রচার তা নয়। তার লক্ষ্য উত্তর কলকাতায় বিজেপির র্যালিতে জনজোয়ার দেখে উদ্বুদ্ধ হবেন ডায়মন্ডহারবার, মথুরাপুর, জয়নগর, দমদম সহ বারাসাতের মতো কেন্দ্রের বিজেপি কর্মীরা। ইতিমধ্যে এই সমস্ত লোকসভা এলাকাগুলি থেকে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই খবর পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনও সেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি বিজেপি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে। কেবলমাত্র মনোবলকে সঙ্গী করেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে চলেছে রাজ্য বিজেপি। সেই উদ্যমের সুর সপ্তমে চড়াতে এদিন কাঠফাটা রোদ্দুরে র্যালি শুরু করেন অমিত শাহ।
বর্ণাঢ্য এই কর্মসূচিতে নিজের পাশে দলের প্রায় ছোট বড় সব নেতাকেই টেনে নেন অমিত শাহ। দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিংহর মতো নেতারা ছিলেন সভাপতির ছায়াসঙ্গী। এমন কৌশলের উদ্দেশ্য বার্তা দেওয়া দলের সব নেতা-কর্মীরা পরস্পরের পাশেই রয়েছেন, রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বও। কোনও সমস্যা বা উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হলে পরস্পরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন তারাই। অন্যদিকে, অমিত শাহের র্যালির পর উত্তর কলকাতায় যে বিজেপি কর্মী মহল চাঙ্গা হয়ে উঠে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবেন সেই বিষয়টি আঁচ করে নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৬ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিজেপির রাহুল সিংহ। সেবার সিপিএম ও কংগ্রেস পৃথকভাবে লড়াই করে ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সেই ভোট ব্যাংকের একটি বড় অংশ অমিত শাহের রোড শোর পর বিজেপিমুখী হতে পারে বলেই মনে করছে তৃণমূলের একাংশ। তাই অমিত শাহের রাজনৈতিক কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা গাঁধী ভবন থেকে মিছিল করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এমন ঘটনা থেকেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে শুধু উত্তর কলকাতা নয়, পার্শ্ববর্তী দমদম, দক্ষিণ কলকাতা, বারাসাত লোকসভাতেও অমিত শাহের প্রচারের প্রভাব ধাক্কা দিতে পারে তৃণমূলের ভোটব্যাংককে। এই বর্ণাঢ্য র্যালি যে তৃণমূলের অন্দরমহলে আঘাত হানবে তা একপ্রকার নিশ্চিত অমিত শাহ। তাই র্যালির ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “মমতাজি এই র্যালি দেখে আপনার রাগ হতেই পারে। কিন্তু রাগ কম করুন, তাতে আপনার ব্লাড প্রেসার ভালো থাকবে। যা আগামী দিনে আপনার কাজে লাগবে।” ভারতীয় রাজনীতির এই গুজরাটি চাণক্যের এমন তির্যক মন্তব্য যে বাংলার ভোটের ফলাফলে যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ তা মেনে নিচ্ছেন এ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের বিরাট অংশ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news
Bravo