কিশোর ঘোষ 
মাকালী-বঙ্কিম-আনন্দমঠ-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ-বন্দেমাতরম-শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং অমিত শাহ-র আজ এক হয়ে যাওয়ার দিন।
কারণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশন এক অপূর্ব উপহার তুলে দিচ্ছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির হাতে। কী সেই উপহার জানানোর আগে অন্য কথা বলা জরুরি।
যেমন ধরুণ, হতে পারে আজ জিডি বিড়লা সভাঘরে এমন এক ইতিহাস রচনা হচ্ছে যা বঙ্কিমচন্দ্রের মতোই, আনন্দমঠের মতোই স্মরণযোগ্যতা দাবি করবে আগামী পঞ্চাশ কী একশ বছর পরে। যাক গে, ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যৎ জানে। কিন্তু ঠিক ২৭ জানুয়ারিতেই বাংলায় অমিত শাহ-র আগমন এবং তাঁর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮০তম জন্মবার্ষিকীতে স্মারক বক্তৃতা দেওয়া যে বঙ্গ রাজনীতির একটি সন্ধিক্ষণ তা বলা বাহুল্য। জানা কথা, যে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো এক নিখাদ ভারতসন্তান না জন্মালে ভারতীয় জাতীয়তাবাদেরও জন্ম হয় না। কারণ বিচ্ছিন্ন ভাবে জাতীয়তাবাদের কথা অনেকে ভাবলেও, তাকে ‘আনন্দমঠ’ রচনার মাধ্যমে যে সংহত রূপ বঙ্কিম দিয়েছিলেন তা তাঁর আগে কেউ পারেননি। না, এমনকী তৎকালীন রাজনৈতিক মুখেরাও সে কাজ পেরে ওঠেননি। বঙ্কিম যা সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিকায় বৃহৎ উপন্যাস রচনার মাধ্যমে করে দেখালেন। বলা বাহুল্য, হিন্দুদের তথা হিন্দুস্থানের নবজাগরণের গাথা লেখা হল ‘আনন্দমঠে’র মাধ্যমে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটা সম্প্রদায়কে বঙ্কিম দিশা দেখিয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী, যাদের জন্য, যে উদ্দেশ্য আনন্দমঠ লেখা হয়েছিল তা চূড়ান্ত সফল হয়েছিল। যাঁরাই প্রকৃত ভারতপুত্র তাঁরাই সেকালে অনুপ্রাণীত হয়েছিলেন অন্তর থেকে। আনন্দমঠ যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পুনর্জাগরণের প্রতিষ্ঠাতা সে কথা আজ সকলের জানা। একই কারণে বন্দেমাতরম হয়ে উঠল জাতীয় মন্ত্র। উল্লেখ্য, সেই মন্ত্রকে শুধু হিন্দুরাই গ্রহণ করেননি, প্রকৃত ভারতীয় মাত্রই গ্রহণ করেছিলেন।

ইংরেজি ১৮৮২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ‘আনন্দমঠ’। তার আগে ‘বঙ্গদর্শন’-এ ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি। তবে বই ছাপা হওয়ার পরেই ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় আনন্দমঠ। ‘রেডবুকে’র মতো ভাইরাল হয়ে যায় নভেলটি। স্বদেশ চেতনায় অনুপ্রাণীত হন গোটা দেশের যুবারা। স্বভাবতই ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে বঙ্কিমবাবুর এই উপন্যাস ঝামেলার। অতএব, সেটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় অতি দ্রুত। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। হিন্দুস্থানের অসংখ্য যুবক কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি তুলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে। শেষতক ১৯৪৭ সালে ভারত ছাড়তে বাধ্য হয় ইংরেজ শাসকরা। এভাবে বললে খুব ভুল বলা হয় না, যে ১৯৪৭-এ যে তির এসে বিঁধেছিল লক্ষ্যে তা ছোঁড়া হয়েছিল ১৮৮২ (আনন্দমঠের প্রকাশের বছর)-তে। যদিও নেহেরুর স্বাধীন ভারত নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন রয়েছে। সে প্রসঙ্গ আজ থাক। কিন্তু আনন্দমঠ হল আনন্দমঠ।
তো সেই আনন্দমঠ লেখার আগে যে বাটিতে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিলেন বঙ্কিম, সেই গৃহে স্থাপিত ছিল মাকালীর মহিমাময় এক রূপ। নিষ্ঠাবান হিন্দু ব্রাহ্মণ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যার পূজক ছিলেন। মহামায়ার সেই মূর্তিরূপটিকে আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশন উপহার হিসেবে তুলে দিচ্ছে বিজেপি সর্বভারতীয় কাণ্ডারি অমিত শাহ-র হাতে।
হয়তো এ পোড়া বঙ্গে আবারও এক পুনর্জাগরণের আহ্বানে!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news