ওয়েব ডেস্ক:
ফের বিধ্বংসী আগুনে জ্বলে উঠল বিশ্ববিখ্যাত রেনফরেস্ট আমাজন। শুকনো বাতাসে দাবানল জ্বলে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু গত সাত দিনে এই জঙ্গলে সাড়ে ন’হাজার বার আগুন লাগে। গোটা বছরের হিসেব ধরলে ৭২ হাজার ৮৪৩ বার আগুন ধরেছে এখানে। আর তাতেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব।

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিহত করতে মানবসভ্যতার অন্যতম ভরসা আমাজন অরণ্য। গোটা বিশ্বের ফুসফুস বলে পরিচিত এই অরণ্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। ঘন ঘন আমাজন জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনাকে ‘প্রাকৃতিক’ বলে মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের মতে, অনেক সময়েই চাষের জন্য জমি বা খামার তৈরি করতে ইচ্ছাকৃত ভাবে জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ব্রাজিল তথা আমাজন অঞ্চলও তার ব্যতিক্রম নয়। তা ছাড়া, বিভিন্ন খনিজ পদার্থের জন্য আমাজন অরণ্যে লাগাতার জঙ্গল সাফ করে খনন কাজ চালানো হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের মাপের জঙ্গল কাটা হয় এখানে।
অন্যদিকে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন পরিবেশবিদেরা। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগে আন্তর্জাতিক হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না-করেই আমাজন অঞ্চলকে চাষ ও খনিজ উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের কথা বলেছিলেন তিনি। এখন যদিও বোলসোনারোর বক্তব্য, ”অযথা এ সব দোষারোপ করা হচ্ছে। এই সময়ে আগুন জ্বালিয়ে চাষের জমি তৈরি করেন চাষিরা। সেটাই রেওয়াজ।”

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, আইএনপিই-এর তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে আমাজনের জঙ্গল ধরে ইতিমধ্যেই ব্রাজিলের রোন্ডানিয়া, অ্যামাজোনাস, পারা, মাতো গ্রোসো অঞ্চলের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আমাজনের জঙ্গলে আগুন লাগা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, কিন্তু এ বারের মতো আগুন আগে কখনও ছড়ায়নি জঙ্গলে।গত বছরের থেকে ৮৩ শতাংশ বেশি এলাকা এ বার আগুনের গ্রাসে চলে এসেছে বলে জানাচ্ছে আইএনপি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news