নিজস্ব সংবাদদাতা:
হুগলী: হিমাচল প্রদেশ সহ চার রাজ্য থেকে আলুর বীজ আনার উপর নিষেধাজ্ঞার জেরে চন্দ্রমুখি আলুর বীজের দাম বস্তা প্রতি এক হাজার টাকা বৃদ্ধি পেল। ফলে আগামী মরসুমে চন্দ্রমুখি আলু দাম অত্যাধিক হারে বাড়ার সম্ভবনা তৈরি হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন আলু ব্যবসায়ী ও চাষিরা।
পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ চন্দ্রমুখি আলু উৎপাদন হয় তার বেশির ভাগই চাষ হয় হুগলী জেলায়, কারণ হুগলীর মাটি চন্দ্রমুখি চাষের পক্ষে উপযুক্ত। আর ওই চন্দ্রমুখির বীজ আসে হিমাচলের মানালি ও পঞ্জাবের জলন্ধর থেকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক হিমাচল সহ চার রাজ্যের আলুর বীজে ছত্রাক সংক্রমণের জন্য ওই বীজ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তার ফলে সুযোগ বুঝে পাঞ্জাবের বীজ বিক্রেতারা প্যাকেট প্রতি আলুর বীজের দাম অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে ২২০০-২৩০০ টাকা দাম থাকার কথা সেখানে দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩২০০-৩৩০০ টাকা। অভিযোগ করছেন রাজ্যের আলু ব্যবসায়ীরা। গত বছর আলুর বীজের দাম ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা থাকলেও এবারে সেই বীজ প্রায় ৪০০০ টাকায় কিনতে হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। কিন্তু সমস্যা ঠিক কোথায়? কারণ সকলেই জানেন যে আলু চাষে পশ্চিমবঙ্গ অন্য রাজ্য থেকে এগিয়ে।
সমস্যা আলুর বীজ নিয়ে। আলু উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও আলুর বীজ তৈরিতে এখনও স্বনির্ভর নয় রাজ্য। তাকিয়ে থাকতে হয় পাঞ্জব, হিমাচলের মতো রাজ্যগুলির দিকে। অন্যদিকে সারের দাম বস্তা প্রতি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি পেয়েছে, ট্রাক্টারের খরচা সহ আনুষাঙ্গিক আরও খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিঘা প্রতি আলু চাষের খরচ প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন চাষি-মহল। সেক্ষেত্রে ৭০০ টাকা বা তার বেশি দরে বস্তা প্রতি আলু বিক্রি না হলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে তাঁদের। তাই আগামী দিনে চন্দ্রমুখি চাষে কতটা লাভ হবে, নাকি ক্ষতির সম্ভবনা! তা নিয়ে চিন্তায় চন্দ্রমুখির চাষিরা। আদৌ চন্দ্রমুখি আলু চাষ করবেন কিনা তাও ভেবে দেখছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news