চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
শারদোৎসবের সময় কলকাতায় কি বড়সড় হামলার ছক ছিল ধৃত আল-কায়েদার জঙ্গীদের ? মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি ও ডোমকল থেকে ধৃত আল-কায়দা (Al- Qaeda) জঙ্গি সদস্যদের জেরা করে একাধিক মিসিং লিংক উঠে এল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (ANI) হাতে। সামনেই দুর্গাপুজো। শারদোৎসবের মুখে তাহলে কি কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার ছক কষছিল এই ছয় জঙ্গি? সে সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছেন না তদন্তকারী অফিসারেরা। এর পাশাপাশি ডোমকল বসন্তপুর কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ধৃত নাজমুস শাকিবের মোবাইল ফোনে মিলেছে কাশ্মীরের কিছু ফোন নম্বর। কী উদ্দেশ্যে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ওই কলেজ-ছাত্র, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনআইএ-র পাশাপাশি ধৃত জঙ্গিদের জেরা চালাচ্ছে বেঙ্গল এসটিএফের অফিসারেরাও।
১৮ তারিখ শুক্রবার মধ্যরাতে মুর্শিদাবাদের ডোমকলের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ৬ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। একইদিনে কেরলের এর্নাকুলাম থেকেও গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আরও ৩জন সন্দেহভাজনকে। ধৃত জঙ্গিরা দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নাশকতার ছক কষছিল বলে এনআইএ সূত্রে জানানো হয় সংবাদমাধ্যমে। আদালতের নির্দেশে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রানজিট রিমান্ডে পাওয়ার পর রবিবার ২০ তারিখ সকাল থেকে ম্যারাথন জেরা করা হয় ডোমকল থেকে আল-কায়দা জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা ৬ জন সন্দেহভাজনকে। জেরায় ওই এলাকার জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী দলের সূত্রে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার শেষ রাতে রানিনগরের বাসিন্দা আবু সুফিয়ান মোল্লা এনআইএ-এর অভিযানের বিষয়ে টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে কয়েকটি বিশেষ নাম্বারে ফোন করে। কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল এই জঙ্গি, তা নিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের মনে শুরু থেকেই খটকা ছিল। রবিবার ওই জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের নথি খতিয়ে দেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে এনআইএ। প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এর পরই আবু সুফিয়ানের বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে বাড়ির ভিতরে একটি গোপন প্রকোষ্ঠ অর্থাৎ সুড়ঙ্গ আবিষ্কৃত হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। যদিও আবু সুফিয়ানের বাড়ির লোকেদের দাবি নতুন বাথরুমের চেম্বার তৈরির জন্যই ওই প্রকোষ্ঠ তৈরির কাজ চলছিল।
রবিবার এনআইএর তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে এসে এই নতুন তথ্য উদঘাটন করেন। জানা যায় ঐ সুড়ঙ্গের মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুদ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। বাইরে থেকে মিস্ত্রিকে কাজে না লাগিয়ে নিজেই গোপনে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে ওই প্রকোষ্ঠ বানায় আবু সুফিয়ান। এমন হাড় হিম করা তথ্য উঠে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের রানিনগরের মধ্যপাড়া থেকে প্রথমে পাকড়াও করা হয় আবু সুফিয়ানকে। এনআইএ সূত্রে দাবি, উদ্ধার হওয়া তিনটি মোবাইল ফোন ছাড়াও ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া যায় ডিটোনেটরে ব্যবহার করা হয় এমন ৬ ভোল্টের বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি, ধাতব বর্ম, ২ সকেট বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম। পরে ডোমকলের জয়রামপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় লিউ ইয়ান আহমেদকে। সূত্রের দাবি, তাঁর ঘর থেকেও উদ্ধার হয় ধারালো অস্ত্র, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। আপাতত ২৪ তারিখ অব্দি ট্রানজিট রিমান্ডে এই ছ’জনকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকেরা দফায় দফায় জেরা চালাবেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news