ওয়েব ডেস্ক:
আদিল কথা শোনেনি। মা তাঁকে বারবার জঙ্গি সংগঠন ছাড়তে অনুরোধ করলেও রাজি হয়নি সে। বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই পুলওয়ামা জেলার কাকাপোরা অঞ্চলের একটি বাড়িতে প্রতিবেশিদের ভিড় লেগে আছে। ওই গরিব পরিবারের ছেলেই বৃহস্পতিবারের হামলার আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল দার। যদিও যুবক জঙ্গির বাড়ির আশপাশের এলাকা এখন নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর দখলে। অস্থীর পরিবেশে গোটা এলাকার দোকানপাট বন্ধ। তবু যুবক ছেলের মৃত্যুতে আদিলের বাড়িতে আনাগোনা রয়েছে নিকট আত্মীয় থেকে প্রতিবেশিদের।
আদিলের মা’র কথায়, ছাত্র বয়সে একটি ঘটনা ঘটে, তারপর থেকেই বদলে যায় ছেলে। মায়ের বক্তব্য, একবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপত্যকার নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী জোর করে আদিলকে দিয়ে নাকে খদ দেওয়ায়। তারপর থেকেই সে বদলে যায়। উল্লেখ্য, আদিলের পরিবারের দূর সম্পর্কের আরও দুই ভাই এর আগেই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল। তাদের একজনের মৃত্যু হয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর গুলিতে। তথাপি ফেব্রিকের সামান্য কাজ করা আদিলের বাবা গুলাম হোসেন দার চাননি ছেলে জঙ্গি হোক। অন্য দুই ভাইয়ের মতো আদিলকেও কাজে লাগিয়ে দিয়ছিলেন। বছর আঠারোর আদিল একটি কাঠের বাক্সের কারখানায় বেশ কিছুদিন কাজ করে। এরপর আরও এক ঘটনা ঘটে। নিরপত্তারক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে আদিল। তার পায়ে গুলি লাগে। প্রায় এক মাস বিছানায় থাকতে হয় তাকে। আদিল দারের বাবা মায়ের বক্তব্য অন্যযায়ী ২০১৮ সালের মার্চে আদিল বাড়ি ছাড়ে। আর ফেরেনি।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর গুলাম হোসেন দার ও তাঁর স্ত্রী জানতে পারেন, সিআরপিএফ হামলার জঙ্গিটি তাঁদের ছেলে আদিল। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ওঁরা। আদিলের মায়ের গলায় আক্ষেপ, ভীষণ ভাবে চাইতাম আদিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক। তার জন্য অনেক চেষ্টাও করেছি। কিন্তু বিফল হয়েছি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news