চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
কংগ্রেসের পত্রলেখক বাহিনীর ওপর কোপ চালাল গাঁধী পরিবার। যার ফলস্বরূপ বিদ্রোহের আগুন ধরা পরল বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে (Sonia Gandhi) লেখা ২৩ জন নেতার চিঠি নিয়ে এখনও ঝড় বইছে দলের অন্দরে। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তার মধ্যেই আবার কংগ্রেসের একজন স্থায়ী নেতা চান বলে মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। সনিয়া গাঁধীকে যে ২৩ জন নেতা চিঠি লিখেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal)। সেই প্রসঙ্গেই বৃহস্পতিবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি কেউ চিঠিটি দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, সেখানে গাঁধী পরিবার বা কাউকে অসম্মান করার জন্য কিছু লেখা হয়নি। বরং এতদিন ধরে যেভাবে তাঁরা কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছি আমরা।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলা। আমরা এই কাজে তাঁদের পাশে থাকতে চাই। দলের সংবিধান ও কংগ্রেসের প্রতি এটা আমাদের কর্তব্য। তবে এই কাজে অন্যদেরও পাশে চাই। একটা সরকার, যারা ভারতের সংবিধানকে ভেঙে দিচ্ছে, তাদের বিরোধিতার জন্য সবাইকে পাশে চাই। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক দুর্দিন দেখা দিয়েছে কংগ্রেসের। এই সময় একজন সর্বক্ষণের স্থায়ী নেতা দরকার দলের।”
প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা গুলাম নবি আজাদ (Gulam Nabi Azad)। তিনি বলেন, “যেভাবে কংগ্রেস চলছে সেভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছর কংগ্রেসকে লোকসভায় বিরোধী আসনে বসতে হবে। এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে একজন পূর্ণ সময়ের সভাপতির প্রয়োজন, যিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।” গুলাম নবি আরও বলেন, “দলের সর্বস্তরে নির্বাচন করে সভাপতি নির্বাচিত করা হোক। যিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হবেন তাঁকে ৫১ শতাংশ ভোট পেতে হবে। যার অর্থ হবে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতারা তাঁর পক্ষে রয়েছেন। ফলে তাঁর কাজকর্ম পরিচালনাতেও অনেক সুবিধা হবে ।” বর্তমানে পরিস্থিতি কথা মাথায় রেখেই একজন নির্বাচিত সভাপতির প্রয়োজনের পক্ষেই ফের সওয়াল করেছেন এই কাশ্মীরি কংগ্রেস নেতা।
সম্প্রতি সভাপতি পদে নির্বাচন চেয়ে ২৩ জন কংগ্রেস নেতা চিঠি পাঠান সনিয়া গাঁধীকে। কিন্তু কংগ্রেস (Congress) ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আক্রমণের মুখে পড়েন ওই নেতারা। জানা যায় ওই নেতাদের সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল গাঁধী। পরে অবশ্য এআইসিসির মুখপাত্ররা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছেন সনিয়া গাঁধী। গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মাদের মতো নেতারা যাতে বাদল অধিবেশনে আগ বাড়িয়ে কিছু না করতে পারেন তার জন্য কমিটি গড়ে দিয়েছেন তিনি। চিফ হুইপের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা ১০ জনপথের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত জয়রাম রমেশকে। কংগ্রেস সংসদীয় দল কী কী বিষয় উত্থাপন করবে সে ব্যাপারে আহমেদ পটেল এবং কেসি বেণুগোপালকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈ এবং রবণীত সিং বিট্টুকে লোকসভার সচেতক নিয়োগ করা হয়েছে। রবণীত বিট্টু রাহুল-প্রিয়ঙ্কার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সনিয়া গান্ধীকে যে ২৩ জন নেতা চিঠি লিখেছিলেন তাঁদের মধ্যে গুলাম নবি আজাদ, মুকুল ওয়াসনিক, আনন্দ শর্মা ও জিতীন প্রসাদ, কপিল সিব্বল, শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারি, ভূপিন্দর সিং হুডা প্রমুখ। নতুনদের দায়িত্বে এনে এই সমস্ত প্রবীণ তথা বর্ষীয়ান নেতাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন সনিয়া। জাতীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, সভাপতি নির্বাচনের জন্য কংগ্রেস সভানেত্রীর ওপর চাপ তৈরি করার পত্রা খাতকে ভালোভাবে নেয়নি গাঁধী পরিবার। তার জেরেই এবার ক্ষমতা খর্ব হতে চলেছে প্রবীণ নেতাদের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news