Breaking News
Home / TRENDING / সিঙ্গলমল্টে ২৬ জানুয়ারী সেলিব্রেট করা দুনিয়া জানে না সিয়াচেনের তাপমাত্রা

সিঙ্গলমল্টে ২৬ জানুয়ারী সেলিব্রেট করা দুনিয়া জানে না সিয়াচেনের তাপমাত্রা

সুমন ভট্টাচার্য্য :

সাধারণত প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ওঁদের ডাক পড়ে না। ওঁদের আত্মীয় স্বজনদের যখন প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ডাকা হয় তখনও ওঁরা জানতে পারেন না। কারণ মরণোত্তর কোনও সম্মান না পেলে কে কবে কোনও জওয়ান বা সেনা অফিসারের স্ত্রী বা কন্যাকে দিল্লির রাজপথে দেখতে পেয়েছে! আমাদের, যাদের কাছে প্রজাতন্ত্র দিবস মানে শুধুই একটা ছুটির দিন, ওঁরা তাদের দলে পড়েন না। আসলে ছুটি শব্দটাই ওদের কাছে এতো অজানা। সিয়াচেন-কার্গিলে কিংবা রাজস্থানের ধু-ধু মরুভূমিতে ট্রিগারে হাত রেখে যাঁদের দিন কাটে, তাঁরা আমাদের মতো করে ভাবতে শেখেননি।
যদি তাঁরা আমাদের মতো হতেন তাহলে কি হতো? আমাদের মতো মানে কি ধরনের? একধরনের যারা ২৬শে জানুয়ারি সকালবেলা জাতীয় সংগীত গেয়ে দুপুরের মধ্যে মাংস-ভাত খেতে চলে যায়। দ্বিতীয় দল তাঁরা, যাঁরা এখনও, স্বাধীন ভারতের সংবিধান গ্রহণের ৬৮ বছর বাদে ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ স্লোগান তোলেন এবং দুপুরের মধ্যে তাঁরাও মাংস-ভাত খেতে চলে যান। এই দু’দলই আজকাল প্রজাতন্ত্র দিবসের সন্ধ্যাবেলাটা ‘সিঙ্গলমল্ট’ দিয়ে উদযাপন করতে ভালোবাসেন! এঁদের কারো কাছেই আসলে প্রজাতন্ত্র দিবসের কোনও মূল্য নেই।
‘বর্ডার’ সিনেমায় সেনা অফিসারদের আবেগ দেখলে এঁরা হাসেন। এবং তেরঙ্গা পতাকা বা জাতীয়তাবাদ এঁদের কাছে নেহাতই ‘ছেলেমানুষ।’ পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম ‘ব্যটেলফিল্ড’ বা যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেনে কত তাপমাত্রা থাকে তা এঁরা কোনও দিন দু:স্বপ্নেও জানার চেষ্টা করেননি। আমাদের মতো এই শহুরে মানুষদের একটা বড় অংশ নিজেদের ‘আরবান গেরিলা’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। গেরিলা হিসাবে খান দশেক ‘মাও’ কিংবা ‘ম্যাও’ ধরনের বই বাড়িতে থাকলেই যথেষ্ঠ। তাহলেই ‘এ কেমন স্বাধীনতা’ বলে প্রশ্ন তোলা যায়, জাতীয় সংগীত গাওয়াকে ব্যঙ্গ করা যায় এবং পারলে তেরঙ্গাকে বাথরুমের টয়লেট পেপার হিসাবে ব্যবহার করতে পারলে এরা খুশি হয়।
এই সব শহুরে বিপ্লবীদের থেকে অনেক দূরে থাকা কিছু আধা গ্রাম আধা শহরের তথাকথিত ‘অল্পবুদ্ধি’ মানুষই হাসতে হাসতে সিয়াচেনে চলে যায় শুধুমাত্র তেরঙ্গা পতাকাটাকে ভালোবেসে। এবং ‘সিঙ্গলমল্ট’কে উপেক্ষা করে। এদের ঘাম, রক্ত কান্নার বিনিময়ে ভারতবর্ষ প্রজাতন্ত্র হিসাবে ‘টিঁকে’ থাকে। আগেই বলেছি ২৬শে জানুয়ারী উদযাপন করতে এঁদের কোথাও আসা হয়ে ওঠে না। আর এঁদের বাড়ির লোকদের আমরা তখন কোনও অনুষ্ঠানে ডাকি, যখন ওদের শরীরটা কফিনবন্দী হয়ে ফিরে এসেছে। যাঁরা হয়তো ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ বলে রোজ স্লোগান আওড়ান, তারা জানেনও না তাঁদের এই স্লোগান দেওয়ার আজাদিটা ওই বোকা, উর্দি পরা মানুষগুলো দিয়ে যান প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। এই প্রজাতন্ত্র দিবসেও।

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

 

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *