প্রসেনজিৎ মাহাতো
বার্সিলোনা তারকারা যে হোটেলে উঠেছেন, সেখানের আগামী দশদিনের জন্য চলছে স্প্যানিশ ফুড ফেস্টিভাল। হোটেলে স্প্যানিশ শেফদের ছড়াছড়ি। স্প্যানিশ ফুড ফেস্টিভালের খবর শুনে বেশ ভালই লেগেছে বার্সিলোনা তারকাদের। মধ্যাহ্নভোজের সময় স্প্যানিশ শেফরা এসে নিজস্বী তুলে গেলেন। এমনীতেই বার্সিলোনা লেজেন্ড টিম সঙ্গে করে নিজেদের কুক এনেছে। তবুও নিজের দেশের ফুড ফেস্টিভালের কথা জানতে পেরে কার না ভাল লাগে।
এটা যদি চমকে যাওয়ার পালা হয়, বার্সিলোনা তারকারা মুগ্ধ হয়েছেন বুধ–বিকেলে। যখন রয়্যাল ক্রুসার বাসে চেপে যুবভারতী স্টেডিয়াম ঘুরে দেখছিলেন। বাসের জানালা দিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামের ছবি মোবাইলবন্দী করতে দেখা যায় বার্সিলোনা কিংবদন্তিদের।
মোহনবাগান লেজেন্ডের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে বুধবার সকালে শহরে পৌঁছন তঁারা। সকাল সকাল বিমানবন্দরে উৎসাহী জনতা ভিড় জমায়। হাতে মোবাইলের ক্যামেরা অন করে প্রস্তুত। কেউ কেউ আবার মোবাইলের আলো জ্বালিয়েও রেখেছেন। বার্সা টিমের কোন্ প্রাক্তনী আসছেন, তঁাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তঁাদের কাছে বার্সিলোনা নামটাই যথেষ্ট।
ঘড়ির কঁাটা সকাল ৯.২০। বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়ে এল বার্সিলোনা লেজেন্ড টিমের সদস্যরা। ক্যামেরা কাঁধে সবার আগে বেরিয়ে এলেন টিমেরই এক সদস্য। কলকাতার ফুটবল পাগলদের উত্তেজনার ছবি ভিডিও করছিলেন। সকাল থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে হাজির ব্যান্ডপার্টির দল। সাবিওলারা বেরোতেই ব্যান্ডের আওয়াজ। লাল গোলাপে আন্তরিক অভ্যর্থনা। দু’ভাগে ভাগ হয়ে শহরে আসে বার্সিলোনা লেজেন্ড দল।
বিকেলে সেন্ট পল ক্যাথিড্রাল চার্চে ঘুরতে আসে গোটা টিম। সেখানেও বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন। সেখানেই হাজির হন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র। চার্চ ঘুরে দেখেন ফুটবলাররা। টিমের বাকি সদস্যরা যখন চার্চে ছবি মোবাইল বন্দী করতে ব্যস্ত, তখন ২০০৬ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের বার্সিলোনার গোলদাতা বেলেত্তি এক ফাঁকে প্রার্থনাও সেরে নিলেন। আয়োজকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পেজে বেলেত্তি বলেন, ‘এলানো আমার খুব ভাল বন্ধু। ওর কাছ থেকেই ভারত সম্বন্ধে জেনেছি। অনেক কথা শুনেছি। এখানে এসে ভাল লাগছে। অনেক লোকের সামনে খেলতে ভাল লাগে। আপনারা মাঠে আসুন।
এঁদের মধ্যে একজনের আবার কলকাতায় খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এটিকে–তে খেলে যাওয়া জোফ্রে। তঁার শহরটা ভালই চেনা। ক্যাথিড্রালে ভিড়ের মধ্যে জোফ্রে হাসতে হাসতে অন্যদের কী যেন বলছিলেন। হয়তো কলকাতার ফুটবল উন্মাদনার গল্প শোনাচ্ছেলেন। এটিকে–তে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে। কথা শেষ করে কলকাতার সাংবাদিক পরিচয় দিতেই একগাল হেসে কথা বলতে রাজি জোফ্রে। ‘জানেন, এখনও কলকাতা আমি বড্ড মিস করি। আইএসএল দেখি। আইএসএল আগের থেকে অনেক উন্নতি করেছে। যতদিন যাবে, আরও জনপ্রিয় হবে আইএসএল।’ চার্চের পর ভিক্টোরিয়াল মেমোরিয়ালের সামনে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের’। মদন মিত্র দায়িত্ব নিয়েছেন লোক জোগাড়ের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news