Breaking News
Home / TRENDING / ২১ জুলাই ১৩ জন যুবকর্মীর মৃত্যু ! দায়ী কে? জানতে চায় ইতিহাস

২১ জুলাই ১৩ জন যুবকর্মীর মৃত্যু ! দায়ী কে? জানতে চায় ইতিহাস

নীল রায়।

২১ জুলাই ১৯৯৩ সাল! যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সেদিন কলকাতা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিলের সমাগম হওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সচিত্র পরিচয় পত্র বা এপিক ভোটার কার্ডের দাবিতে যুব কংগ্রেস দ্বারা আয়োজিত এই কর্মসূচি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে শুরু করে যুব কর্মী পুলিশের সংঘর্ষে। শেষে পুলিশের গলিতে মারা যান তরতাজা ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী। রবিবার তেমনই এক ২১ জুলাই, যা গত ২৬ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালন করছেন শহীদ দিবস হিসেবে। শনিবার বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা অভিযোগ করেছেন, “নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই ১৪৪ ধারা থাকা এলাকায় ওই যুব কর্মীদের পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইদিন ১৩ জন যুব কংগ্রেস করবেন মৃত্যুর ডিভিডেন্ট পেয়েছিলেন তিনি।” বছর ৩৭- এর এই বিজেপি নেতার অভিযোগ নিয়ে চ্যানেল হিন্দুস্তান এমন কিছু সাংবাদিকের দ্বারস্থ হয়ে ছিল। যারা আজ থেকে ২৬ বছর আগের সেই রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী।

অনুপমের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন সাংসদ সাংবাদিক কুনাল ঘোষ বলেন, “প্রথমত সেদিন কোথাও ১৪৪ ধারা ছিল বলে আমার মনে পড়ছে না। আর মহাকরণের সামনে যেখানে ১৪৪ ধারা থাকে সেখানে মিছিল যাওয়ার চেষ্টা করেনি। সেদিন শহরের প্রত্যেকটি প্রান্ত থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল হচ্ছিল। ৫ কিংবা ৬টি জায়গায় মিছিল শেষ করে মঞ্চে বক্তৃতা করে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যাতায়াত করেন বলে ধর্মতলার মেয় রোডে মঞ্চ করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। একটি অস্থায়ী ম্যাটাডোরের ওপর যুব কংগ্রেসের নেতারা বক্তৃতা করেছিলেন। আমার সেদিন ডিউটি ছিল সারাক্ষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার। তাই খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম সব ঘটনা। পুলিশ সেদিন আচমকা বেপরোয়া না হয়ে গেলে এতগুলো মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো যেত।”

বর্ষীয়ান সাংবাদিক আশীষ ঘোষের মতে, ” ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কী হয়েছিল তা ভালো করে জানেন না অনুপম। তাই তাঁর কথা নিয়ে কোনও কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে এসপ্ল্যানেড, রানী রাসমণি এবং ব্রাবোন রোডের কিছু অংশে সেদিন ১৪৪ ধারা জারি হয়েছিল বলেই আমার মনে পড়ছে।” সেই ঘটনার সাক্ষী সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তের কথায়, “অনুপমের সব কথাই ঠিক। কারণ, সেদিনের কর্মসূচি সবকিছু শান্তিপূর্ণই হচ্ছিল। আর সেভাবে সবকিছুই বলে কারো কোন রাজনৈতিক ফায়দা হতো না। মেয় রোডে একটি মিছিল আসছিল মদন মিত্রের নেতৃত্বে। সেই মিছিল থেকেই প্রথম পুলিশকে আক্রমণ করা হয়। পুলিশ আক্রমণের জবাব দিতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবং পুলিশ গুলি চালালে মারা যান ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী। তবে পুলিশের গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে মারার ঘটনা কখনও সমর্থন করা যায় না।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *