নীল বণিক:
২০০০ ও ২৫০০ টাকার বিনিময়ে স্কুলে সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে উর্ত্তীণদের নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। যার জেরে তড়িঘড়ি এসএসসির চেয়ারম্যানকে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানাতে হয়েছে, এসএসসি নিজের মতো কাজ করছে। ইন্টার্ন নিয়োগ নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। তিনি এমনটা বললেও আশঙ্কার মেঘ যেন কিছুতেই কাটছে না। কারণ এসএসসি এখনও ২০১৪ ও ২০১৫ সালের পরীক্ষায় উর্ত্তীণদেরই নিয়োগ করতে পারেনি। ফলে সমস্যা ক্রমশ ঘনিভূত হচ্ছে বলেই মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ। কটাক্ষের সুরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, দেশে ১০০ দিনের কাজের ১ দিনের প্রাপ্য অর্থের পরিমান যেখানে ১৯২ টাকা রোজ। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায়, রাজ্যের শিক্ষিতরা দিন প্রতি পাবেন যথাক্রমে ৬৭ ও ৮৩ টাকা।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়মানুসারে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করতে গেলে কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক পাশ হওয়া আবশ্যক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের থেকে কম অর্থ পাবেন? রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ। কিন্তু বিরোধী দল চুপ করে থাকতে রাজি নয়। গ্রামীণ ক্ষেত্রে এর প্রভাব নেতিবাচক হবে বলেই দাবি করেছেন মুর্শিদাবাদের রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক ফিরোজ বেগম। তাঁকে সমর্থন করেছেন মালদহের আরও এক বিধায়ক মুস্তাকিন আলম।
ফিরোজা বেগমের কথায়, “সরকার যেভাবে সিভিক পুলিশ নিয়োগ করেছে। সেভাবেই সিভিক শিক্ষক নিয়োগ করবে। আগামী দিনে সিভিক ডাক্তারও হয়তো মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।” এদিনই কলকাতায় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেন। সভাপতি সৌরভ প্রসাদ বলেন,”সরকার পুরোপুরি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তুলে দিয়েছে। ২০০০ ও ২৫০০ টাকায় শিক্ষিত বেকারত্ব কিনতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার বিরোধ আমরা করবই।” এদিন বিধান ভবন থেকে মৌলালী মোড় পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে মিছিল করে ছাত্র পরিষদ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news