পার্থসারথি পাণ্ডা
সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর শেষ উপন্যাস ‘শেষের পরিচয়’ শেষ করে যেতে পারেননি। পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে এটি লিখতে লিখতে তিনি অসুস্থ হন এবং মারা যান। এই অসুস্থতার সময় তিনি বাংলার মুসলমানদের জীবন, অবস্থা ও সমাজের উপর একটি উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা করেন, সেই লেখাটিও লিখে যেতে পারেননি। উপন্যাস লিখতে গিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি নিন্দিত ও বিতর্কিত হয়েছিলেন ‘চরিত্রহীন’ লেখার সময়।
বিড়ম্বনার শুরু শরৎচন্দ্র যখন রেঙ্গুনে ছিলেন, তখন উনি ‘চরিত্রহীন’ লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু এক অগ্নিকাণ্ডে সেই উপন্যাস পুড়ে যায়। শরৎচন্দ্র কলকাতায় ফিরে সেই উপন্যাস আবার লেখেন। উপন্যাসটি ছাপবেন বলে ‘সাহিত্য’ পত্রিকার সম্পাদক সুরেশচন্দ্র সমাজপতি নিয়ে গেলেন। পড়ে তিনি পিছিয়ে গেলেন। শরৎচন্দ্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, এই উপন্যাস তিনি ছাপতে পারবেন না। কারণ, এতে নাকি পত্রিকার পাঠক কমে যাবে। মেসের ঝির সাথে নায়কের প্রেম পাঠক মেনে নিতে পারবে না। — এই যুক্তি দেখিয়ে তিনি পান্ডুলিপি ফেরত দিলেন।
তারপরেও ‘চরিত্রহীন’ প্রকাশিত হল। নীতিবাদীদের কেচ্ছা শুরু হল, ‘গেল গেল’ রব উঠল। সেসময় সাহিত্য জগতে আর এক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আবির্ভাব ঘটেছিল, তখন কথাশিল্পীর পরিচয় দিতে গিয়ে অনেকেই শরৎচন্দ্রকে ‘চরিত্রহীন শরৎচন্দ্র’ বলে তামাশা করতেন।
এতসবের পরেও বেনারসের এক সাহিত্য সভায় সভাপতিত্ব করতে গিয়ে শরৎচন্দ্রের এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সভার শেষে একটি বিধবা মেয়ে এসে শরৎচন্দ্রকে প্রণাম করে বলেছিল যে, ‘চরিত্রহীন’-এর কিরণময়ী তাকে বাচিয়ে দিয়েছে। একটি ছেলের সাথে বিধবা হওয়ার পর তার প্রেম হয়। তার সাথে অজানার পথে ভাসার আগে ‘চরিত্রহীন’ পড়ে কিরণময়ীর দূরবস্থা দেখে সে সিদ্ধান্ত বদল করে, তার জীবনটাও ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। এই কথা শুনে শরৎচন্দ্রের মুখে হাসি ফোটে। যাক, শত লোক তাঁর কুৎসা করলেও, তাঁর উপন্যাস যে একজনের অন্তত জীবন বাঁচিয়েছে এতেই তিনি খুশি…
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news