দেবক বন্দোপাধ্যায় :
সব্যসাচী দত্ত। তৃণমূল কংগ্রেসে সম্ভবত একমাত্র সাহসী নেতা যিনি নেতৃত্বের রোষে পড়ার কথা না ভেবেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রাখতে পারেন।
কয়েকদিন আগে মুকুল রায়ের পুত্র যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তখন একমাত্র সব্যসাচী যিনি নেত্রী কি চোখে দেখবেন তা না ভেবেই একজন বিধ্বস্ত পিতার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মুকুলের হাত ধরে বলার হিম্মত দেখিয়ে ছিলেন, তুমি চিন্তা কোরো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। সেদিন অনেকে তৃণমূলের বীজপুরের বিধায়ককে দেখতে এলেও, মুকুলের ছায়া মাড়াননি। তৃণমূল কংগ্রেসের সিংহভাগ নেতার সদা সর্বদা নম্বর কেটে যাওয়ার ভয়। দিদির খাতায় নম্বর কেটে যাওয়ার। দিদি যাঁর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন, ওঁরা তাঁর দিকে তাকিয়ে উত্তম মার্কা উদ্ভাসিত হাসিতে ভরিয়ে দেন। দিদি যাঁর প্রতি গম্ভীর হয়ে যান ওঁরা তাঁর দিকে রক্তচক্ষুতে তাকান। এই সব যন্ত্রমানব বা কাঠপুতুলের মধ্যে সব্যসাচী এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
শুক্রবারের রাতেও তাই তাঁর মুকুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ গোপন করার চেষ্টা করলেন না সব্যসাচী। কলকাতার প্রায় সবকটি টিভি চ্যানেলের লেন্সের সামনে দিয়ে মুকুল তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করলেন ও বেরিয়েও এলেন একইরকম ভাবে। গুরুশিষ্যের এমন বাসন্তী বৈঠক কেমন হল তা জানতে মুখিয়ে ছিল মিডিয়া।
প্রত্যাশিত ভাবেই আসল প্রসঙ্গে চুপ থাকলেন চাণক্য। বললেন, লুচি তরকারি ও মিষ্টি সেবনের কথা। বললেন, তিনি নাকি খিদে পেলেই সব্যসাচীর বাড়ি যান! দেড় ঘন্টা ছিলেন। মুকুলের দাবি পুরো সময়টা ধরে তিনি শুনলেন ‘ওরা (সব্যসাচী ও তাঁর পরিবার) কেমন সুখে আছে।
মুকুল বলেছেন, দশ দিন আগেও তিনি সব্যসাচীর বাড়ি এসেছিলেন। দু’মাস আগেও এসেছিলেন। মুকুলের এই বক্তব্যে একটি সুক্ষ ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে বলেই রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন দশ দিন আগে সব্যসাচীর সঙ্গে সাক্ষাৎ গোপন করা গেল আর এদিন গেল না! চাইলে কি মুকুল বা সব্যসাচী এদিনও তাঁদের নৈশভোজ আড়াল করতে পারতেন না? তাঁরা মনে করছেন অবশ্যই পারতেন, কিন্তু করেননি। সচেতন ভাবেই করেননি।
সূত্রের খবর, মুকুলের সঙ্গে সব্যসাচীর পাকা কথা হয়ে গেছে বলেই এদিন প্রকাশ্যেই ফুলকো লুচি দিয়ে তরকারি আস্বাদনের কথা সোচ্চারে বললেন মুকুল।
তথ্য সহায়তা : নীল বণিক
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news