নীল রায়
তৃণমূলে এখন “ক্লোজড চ্যাপ্টার” শোভন চট্টোপাধ্যায়! এক সময় কলকাতার মেয়রের সঙ্গে রাজ্যের তিন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করতেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সহ একাধিক দায়িত্ব তার কাঁধে দিয়ে নিশ্চিন্তই ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই তৃণমূলে এখন ভাইদের জমানা শেষ হয়ে ভাইপো যুগ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে পাশা খেলার দান পাল্টেছে! সোমবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে বেহালা শরৎ সদনে লোকসভা ভোট উপলক্ষে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই বক্তৃতা করতে উঠে দলের মহাসচিব তথা বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, “কারও জন্য দল আর অনন্তকাল অপেক্ষা করবে না।” নাম না করলেও এই উক্তি কার উদ্দেশ্যে তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। এরপরেই অবশ্য শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শোভনকে অনেকবার ডাকা হয়েছে, কিন্তু আসেনি। বলেছে অসুস্থ। ও অসুস্থ থাকলে দল তো আর অসুস্থ থাকতে পারে না। কারও জন্য দল অনন্তকাল অপেক্ষা করবে না।” এরপরই কর্মীরা বুঝেছেন তাদের কাননদা তৃণমূল কংগ্রেসে “ক্লোজড চ্যাপ্টার” হয়ে গিয়েছেন। বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি নিজে লোকসভা ভোটের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তাই লোকসভা ভোটে বেহালা পশ্চিম ও পূর্ব বিধানসভার জন্য দুজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। যাদের নাম পরে কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। ঘটনাচক্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেমন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। তেমনই বেহালা পূর্বের বিধায়কের নাম শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে শোভন বিচ্ছিন্ন। তাই এদিন তাঁর বদলে অন্য কাউকে বেহালা পূর্ব বিধানসভায় দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেন তৃণমূল মহাসচিব। প্রসঙ্গত, ছাত্রাবস্থায় বেহালার রাজনীতিতে হাতেখড়ি শোভনের। মাত্র ২১ বছর বয়সে বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই থেকে শুরু। এখন ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি। ২০০০ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ১৩২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই টানা কাউন্সিলর ছিলেন ২০১০ পর্যন্ত। ২০১০ সালে ১৩২ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষণের কারণে বেহালা পশ্চিমেরই ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে, স্নেহের কাননকে মহানাগরিক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য ও বিশেষ বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে দলের সঙ্গে বিস্তর দূরত্ব তৈরি হয়েছে তাঁর। তাই এবার আর অপেক্ষা না করে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো ঝানু রাজনীতিককে ছেঁটে ফেলার পথে তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে জেতার পর শোভনকে কলকাতার মেয়রের সঙ্গে তিন দপ্তরের মন্ত্রী করেছিলেন মমতা। সেই কাননই এখন “ক্লোজ চ্যাপ্টার” দিদির দলের কাছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news