Breaking News
Home / TRENDING / রেশন ডিলারদের দুরাবস্থা ফেরাতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে

রেশন ডিলারদের দুরাবস্থা ফেরাতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।

রেশন ব্যবস্থায় রেশন ডিলারদের অপরাধী সাজানো এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ‘চুন থেকে পান খসলে’ই আমজনতা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয় রেশন ডিলারদের। রাজনীতিকরাও তাঁদের বলির পাঁঠা করতে ছাড়েন না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়ার লকডাউন পরিস্থিতিতেও সেই একই চিত্র ধরা পড়েছে। লকডাউন উঠে গিয়েছে, তাতেও ডিলারদের দুরবস্থা এখনও দূর হয়নি। বর্তমানে রেশন ব্যবস্থা অনেক রকমের গলদ রয়েছে। যার জন্য রেশন ডিলারদের প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি রেশন দোকানে মেশিন থাকা সত্ত্বেও রেশন বিতরণের সময় রেশন ডিলার মেশিন ব্যবহার করছেন না। ফলে মেশিন থেকে ক্যাশ মেমো রেশন গ্রাহককে দিচ্ছেন না। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক হয়ে গেলে প্রচুর ভুয়ো রেশন কার্ড ধরা পড়বে। এমনকি যারা ডবল কার্ড পেয়েছেন সেগুলিও ধরা পড়বে। ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি বন্ধ হবে। যাদের আধার কার্ড নেই তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা অর্থাৎ টেম্পোরারি আধার নম্বর রেখে রেশন বিতরণ করা উচিত। অনেক ধনী পরিবার আছে যারা কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের কার্ড পেয়েছেন, অথচ অনেক গরীব পরিবার আছে যারা এখনও রেশন কার্ড পাননি। অথবা পেলেও রাজ্য সরকারের আরকেএসওয়াই-টু (এই কার্ডের রেশন দোকান বেশি দামে কম পরিমাণে পাওয়া যায়) কার্ড পেয়েছেন। তাই পুনরায় সার্ভে করে আর্থিক অবস্থা দেখে কার্ডগুলি সংশোধন করা উচিত। অধিকাংশ রেশন দোকানে গ্রাহকের সংখ্যা ৪০০০- ৬০০০ এমনকি তার বেশিও আছে। তাই রেশন দোকানদারদের খাতায়-কলমে হিসাব রাখা অর্থাৎ হিসাবপত্র ঠিকঠাক করা আজকের এই আধুনিক জীবনে অসম্ভব এবং হাস্যকর। তাই রেশন ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ রেশন দ্রব্য অ্যালটমেন্ট হওয়া থেকে রেশন দ্রব্য বিলি পর্যন্ত কম্পিউটারাইজড করা এবং রেশন ডিলার যাতে কম্পিউটারের মাধ্যমে হিসাব রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা সরকারের করা উচিত। তা না হলে খাতাপত্র, রেশন দোকানে মজুদ মাল এবং ই-পোজ মেশিনের সামঞ্জস্য থাকবে না। রেশন দোকানে যে ই-পোজ ছোট মেশিন দেওয়া হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করা খুবই কষ্টকর ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়। সফটওয়্যার তো অনেক সমস্যা। ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ হলে খুবই সুবিধা হবে। কম্পিউটারের সাপোর্টিং টিম সব সময় প্রয়োজন।

রেশন ডিলারের যে পরিমাণ অ্যালটমেন্ট হয় তার থেকে কম পরিমাণে রেশন দ্রব্য রেশন ডিলার পেয়ে থাকেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে রেশন গ্রাহকরাও কম পরিমাণে মাল পান। রেশন ডিলারদের কুইন্ট্যাল পিছু হ্যান্ডেলিং লস না থাকায় রেশন বিলি বণ্টনে চূড়ান্ত হয়রানি হতে হয় রেশন ডিলারদের।ডিস্ট্রিবিউটররা যে রেশন দ্রব্য রেশন দোকানে সরবরাহ করে তার গুণগত মান এবং ওজন সঠিক থাকে না। সরকারিভাবে রেশন দোকানে রেশন দ্রব্য ডিস্ট্রিবিউটার থেকে সরবরাহের জন্য বিনামূল্যে ডেলিভারি থাকা সত্বেও রেশন ডিলারদের অতিরিক্ত পয়সা খরচ করতে হয়। ট্রাক থেকে রেশন দ্রব্য আনলোড করার জন্য। অনেক রাজ্যে রেশন ডিলারের কমিশন কোনও কিছু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আছে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে রেশন ডিলারদের কমিশন ৫৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা বর্ধিত হয়েছে । এই কমিশন লকডাউনের আগে দুই থেকে তিন মাস রেশন ডিলাররা পেয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী একটা রেশন দোকান শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ করতে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। ফলস্বরূপ রেশন ডিলার অসৎ উপায় অবলম্বন করার সঙ্গে যুক্ত আছেন একশ্রেণীর সরকারি অফিসার ও কিছু রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীরা।

তাই রেশন ডিলারের উপযুক্ত সাম্মানিক ভাতা এবং তার সঙ্গে কোনও কিছু উপযুক্ত কমিশন প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেলে রেশন ডিলার অনেকটাই সৎ থাকার চেষ্টা করবে এমনটাই ধারণা অভিজ্ঞ মহলের। এর সঙ্গে রেশন ডিলারের জীবন বীমা এবং ফ্যামিলি মেডিক্লেম থাকা উচিত সরকারের পক্ষ থেকে। এপ্রিল মাস থেকে এখনও পর্যন্ত রেশন ডিলাররা কোনও কমিশন পাননি। তাদের সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সরকার যাদের মারফত সাধারণ মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিচ্ছেন, সেই রেশন ডিলারের কথা ভাবছেন না কেউই। রেশন ডিলাররা যে স্বাধীন ভারতের নাগরিক এবং আমাদের সমাজেরই অংশ, এবং তাদেরও নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়া উচিত। শ্রমিক আইন অনুযায়ী রেশন ডিলার শ্রমিকদের বেতন পান না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ডাক্তার পুলিশ সহ সরকারি অফিসাররা কাজ করছেন। কিন্তু নীরবে কাজ করে চলেছেন রেশন ডিলার। সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেশন দোকানে ভিড় প্রচুর এবং রেশন ডিলারদের পরিশ্রম অমানুষিক। রেশন ডিলারের নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ডিউটি সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ছুটির ব্যবস্থা রাখা উচিত। এত মানুষ রেশন দোকানে ভিড় করেন, রেশন নেওয়ার জন্য রেশন দোকান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই রেশন দোকানগুলিকে প্রতিদিন সরকারের উচিত স্যানিটাইজ করে দেওয়া ও রেশন দোকানের বাইরে রেশন গ্রাহকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা।

রেশন ডিলারদের ইউনিয়ন রয়েছে কিন্তু ইউনিয়নের নেতারা যারা সর্বোচ্চ স্তরে বসে আছেন, তারা প্রত্যেক বর্তমান রাজ্য সরকারের পক্ষে কথা বলেন। রেশন ডিলারের সুবিধা-অসুবিধা সেইভাবে শোনেন না। নিজেদের গদি ও আর্থিক দিক গোছাতেই তারা ব্যস্ত। অবিলম্বে রেশন ডিলারদের কথা ভেবে সর্বোপরি সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে খাদ্য দপ্তরের এই সমস্ত বিষয় নিয়ে জনস্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *