নীল রায়
সরকারকে দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি থাকার জন্য শুল্ক দফতরের পক্ষ থেকে তলব করা হল মুখ্যমন্ত্রীর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সূত্রের খবর, শুল্ক দফতর আগামী ৮ এপ্রিল তাঁকে হাজির হতে বলেছে। প্রসঙ্গত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত মাসের ১৫ তারিখ রাতে থাইল্যান্ড থেকে কলকাতা ফেরার সময় বিমানবন্দরের চেকিংয়ের সময় রুজিরার সঙ্গে শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের বচসা হয়। নানা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় তৃণমূল যুব নেতার স্ত্রী নাকি দু কেজি সোনা নিয়ে এসেছিলেন নিজের ব্যাগে। যার জেরে তাঁকে আটক করে শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা। কিন্তু, রাজনীতিক স্বামীর দাপট দেখিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন রুজিরা। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই দাবি খারিজ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করেন এমন কোনও ঘটনা প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু গত শুক্রবার সারধা মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের রঞ্জন গগৈ ডিভিশন বেঞ্চে ঘটনার উল্লেখ করেন সরকারি আইনজীবী তুষার মেহেতা। যার জেরে শুল্ক দফতরের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে আগেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তারপর আবার শুল্ক দফতর রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারসন অব ইন্ডিয়ান অরিজিন (পিআইও) কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কয়েকদিন আগেই বিষয়টি নিয়ে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল রুজিরাকে। গত ২৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপসচিব মনোজ কুমার ঝা রুজিরার কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় ওই নোটিস পাঠান। ওই নোটিসে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি ব্যঙ্ককের ভারতীয় দূতাবাস রুজিরা নারুলাকে পারসন অব ইন্ডিয়ান অরিজিন (পিআইও) কার্ড দেয়। ওই কার্ডের জন্য রুজিরার করা সেই আবেদনে তাঁর বাবার নাম দেওয়া ছিল নিফন নারুলা। কিন্তু ওই নোটিসে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে রুজিরা কলকাতার এফআরআরও অফিসে পিআইও কার্ড পরিবর্তন করে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) স্ট্যাটাসের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুরও করা হয়। সেখানে তিনি আবেদনের স্বপক্ষে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর বিয়ের রেজিস্ট্রেশন (নথিভুক্তিকরণ)-র নথি জমা দেন। ওই নোটিস অনুযায়ী, সেই নথিতে রুজিরার বাবার নাম গুরশরণ সিংহ আহুজা। ঠিকানা দেওয়া হয়েছে দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের।
নোটিসে বলা হয়েছে, নিজের থাইল্যান্ডের নাগরিকত্বের পরিচয় গোপন করে রুজিরা ২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সেখানেও তিনি বাবার নাম দিয়েছিলেন গুরশরণ সিংহ আহুজা। প্রসঙ্গত, নিয়মানুযায়ী থাইল্যান্ডের নাগরিক হিসাবে প্যান কার্ডের জন্য ৪৯এএ ফর্মে আবেদন করার কথা। কিন্তু রুজিরা সেই নিয়ম না মেনে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ৪৯এ ফর্মে আবেদন করেছেন। এটাকেও তথ্য গোপন হিসাবে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নোটিসে জানানো হয়েছে, রুজিরার দেওয়া ভুল তথ্য এবং তথ্য গোপন করার জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন(১৯৫৫)-এর ৭ ডি ধারার এ এবং ই উপধারায় তাঁর সমস্ত নথি বাতিল করা হতে পারে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news