জ্যোতিস্মিতা রায়
ওয়েব ডেস্ক
রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন রাজ্য- কেন্দ্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তারপর এর জল কতদূর এবং কোথায় কোথায় গড়াবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কিন্তু এদিন পুরো ঘটনার মধ্যে দিয়ে যে ছবিটা উঠে এল তা এক অভিজ্ঞ রাজনীতিকের নিজের হাতে আঁকা। কিছুদিন আগে এক সর্বভারতীয় চ্যানেলের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল আগামি লোকসভা নির্বাচনে জনতার পছন্দ অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদী আর রাহুল গাঁধীর পরই প্রধানমন্ত্রী পদের সবথেকে বড় দাবিদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিন্দুকেরা এই সমীক্ষা দেখে মুখ ব্যাঁকালেও মমতা যে আকারে আঙ্গিকে ভীষনভাবে জননেত্রী তা মেনে নিতেই হয়। এই যেমন আজ, সন্ধ্যে ৬টায় যে ঘটনা ছিল রাজীব কুমার ভার্সাস সিবিআই, ঠিক দু ঘন্টা পর তার মুখ ঘুরে হয়ে গেল মমতা ভার্সাস মোদী। মুখ ঘোরালেন নেত্রী নিজেই। ক্রিকেটের ভাষায় যাকে বলে ‘টেকিং কন্ট্রোল অফ দ্য সিচুয়েশন’। খবর পাওয়া মাত্রই সোজা চলে গেলেন নগরপালের বাড়িতে। ভিতরে প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর বাইরে উপচে পড়া মিডিয়া ‘কী হবে, কী হবে’ জল্পনায় ব্যস্ত। তখনই দৃপ্ত পদে বাইরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দু তিন লাইনেই বুঝিয়ে দিলেন এ লড়াই তাঁর লড়াই, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। ডুয়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে নিজে থেকেই যুদ্ধে আহ্বান করলেন। তাঁদের অঙ্গুলি হেলনেই নাকি সিবিআই ‘সর্বশ্রেষ্ঠ অফিসার’ রাজীব কুমারের পিছনে লেগেছে। এরপর আর কী, নগরপালের বাড়ির সামনে থেকেই ধর্নার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক লহমায় তাঁর মধ্যে ঝলকে উঠল সেই জননেত্রী যিনি জন আন্দোলন করেই আজ এই জায়গায় এসেছেন। জানিয়ে দিলেন ধর্না মঞ্চ থেকেই প্রযুক্তির সাহায্যে সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে বক্তৃতা করবেন তিনি। মমতা বুঝিয়ে দিলেন, তিনি জানেন একই সঙ্গে কুর্সি ও আন্দোলন সামাল দিতে।
একটা কথা বলা দরকার, মমতা কিন্তু জানেন জন আন্দোলন কিভাবে গড়ে তুলতে হয়! জনতার সমর্থন কিভাবে আদায় করতে হয়! তাই যারা ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী মূহুর্তের উত্তেজনায় ধর্নার ডাক দিলেন, তাদের বলি, মমতা হয়তো এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন। একটা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জন আন্দোলন গড়ে তোলা। সর্বভারতীয় চ্যানেলগুলিতে নিজেকে মোদীর যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরাই যে এই ধর্নার উদ্দেশ্য বোঝাই যায়। আর এই মওকাকে কাজে লাগিয়েছেন বিরোধী জোটের অন্য সদস্যরাও। আজ তো ধর্নায় বসার সঙ্গে সঙ্গেই মমতাকে ফোন করেন অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, রাহুল গাঁধী ও অরবিন্দ কেজরিবাল। স্বাভাবিকভাবেই আজ দিনের শেষে ব্যাকফুটে বিজেপি। তবে অনেকে যদি মনে করেন মমতা ফুলটসে ছয় মেরে মাস্টারস্ট্রোক খেললেন তবে তা ভুল। মোদী ও মমতা দুজনেই জানেন এই সময়টা ‘ধোনী’ হয়ে খেলার নয়, সময়টা ‘দ্রাবিড়’ হয়ে উইকেট রক্ষার। তাই আপাতপক্ষে মোদী ভার্সাস মমতার লড়াইয়ে নেত্রী এগিয়ে রয়েছে মনে হলেও তুখোড় রাজনীতিক নরেন্দ্র মোদীও চুপ করে বসে নেই। তিনি এই লড়াইয়ে কি উত্তর দেন সেটাই দেখার।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news