নীল রায়।
প্রায় এক দশক পর ২১ জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদানের ঘটনা ঘটল না। ভাঙনের জেরে তটস্থ তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্যোগে এবার কোনও যোগদান পর্ব ছিল না। ২০০৭ সাল থেকে টানা ধর্মতলা শহীদ দিবসের মঞ্চে চলত দল বদলের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের পর ২১ জুলাইয়ের কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলে যোগদান যেন হয়ে উঠেছিল রেওয়াজ। গত বছর এই ২১ জুলাইয়ের দিনেই রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখেরুজ্জামান, মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ও রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন এদিনই। কিন্তু এবার তেমনটা না হওয়ায়, কিছুটা যেন স্বস্তির হওয়া কংগ্রেসে।
তবে এমন উলট পুরাণের ঘটনায় এতটুকুও আশ্চর্য নয় কংগ্রেস পরিষদীয় দল। তাদের কথায়, এখন তৃণমূলের ভাঙন রুখতে হিমশিম খাচ্ছেন নেতারা। তাই এবার আর কংগ্রেস ভাঙার সাহস করেননি তারা। বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, “নতুন করে যোগদিন তো দূর, এদিনের যে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান হয়ে গেল সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখুন তৃণমূলের কত জন বিধায়ক, কাউন্সিলর জেলা পরিষদ সদস্য, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য যোগ দেননি। এবং তারা দল ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন, সেকথাও খোঁজ নিলে জানতে পারবেন। নিজেদের ভাঙন রুখতে তৃণমূল নেতারা এতটাই ব্যস্ত যে আর কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিদের দলবদল করানো কথা ভাবতেই পারছেন না। এবার ঘর সামলান মুখ্যমন্ত্রী।” ঘটনাচক্রে বিজেপিতে যোগ না দিলেও এদিনের কর্মসূচিতে আসেননি বেহালা পূর্বের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বিধাননগরের সদ্য পদত্যাগী মেয়র বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত।
শুধু ২১ জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চে নয়, ২০১৬ থেকে গত তিন বছরে ১৭ জন কংগ্রেস বিধায়ককে ভাঙিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর্ব চলেছিল ধারাবাহিক ভাবে। ভাঙানো হয়েছিল বাম বিধায়কদেরও। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মালদা উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূলে যোগ দেন। মালদা উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল তাঁকে আবারও প্রার্থী করে। মালদা উত্তরের দুই বারের সাংসদ মৌসম বেনজির নূর এবার বিজেপির খগেন মুর্মুর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন প্রায় ৮৫ হাজার ভোটে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news