গৌতম বসুঃ
প্রতিবারই নাকি মমতার সভায় রেকর্ড ভিড় হয়! সে ধর্মতলায় হোক কিংবা ব্রিগেডে। কিন্তু রেকর্ড মানে তো আগেরটাকে ছাপিয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে যতবার আমরা ‘রেকর্ড ভিড়!’ শব্দজোট পড়েছি কাগজে ও অনলাইনে, দেখেছি টিভিতে তাতে করে দিদির আজকের মিটিং-এ কম-সে-কম ১ কোটি লোক হয়েছে!
বলে দিলেই হল। বুঝতে হবে বস। এই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ জমানায় যে যত গুজব ছড়াতে ওস্তাদ সে ততো ইউএসপি বা টিআরপি কুড়োয়। অতএব নিজের ঢাক নিজে পেটাও তাথৈ নাচে! তাছাড়া সংবাদমাধ্যম তো আছেই। ওরা ‘রেকর্ড ভিড়’ লিখবেই। লোক হলেও, না হলেও। কারণ তাতে করে কটা কাগজ বেশি বিক্রি হয়। এরপর যে দলের সভা তারা বলবে না!
তবে আমার মনে হয় সংবাদ মাধ্যমের ভিড় সংক্রান্ত কাণ্ডকারখানা দেখে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভিরমি খান। মনে মনে বলেন হয়তো—মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। ইয়ারকি হচ্ছে!
এই গৌরচন্দ্রিকা করলাম কারণ আজ হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন মুকুল রায়। যিনি গত বছর অবধি তৃণমূলের শহিদ দিবস ২১ জুলাইয়ের অন্যতম আয়োজক তথা কারিগর ছিলেন। আজ বিজেপির এক সভায় বুঝিয়ে দিলেন, যে ভিক্টোরিয়া হাউজ থেকে ডোরিনা ক্রসিং অবধি যে পরিসর তাতে করে খুব বেশি ১ লক্ষ ধরতে পারে। কেন? কারণ ভিক্টোরিয়া হাউজ থেকে ডোরিনা ক্রসিংয়ের দূরত্ব ৬০০ মিটার। যে রাস্তায় মঞ্চ হয়, এবারও হয়েছে তার প্রস্থ মাত্র ৮৫ মিটার। মুকুল বুঝিয়ে দিলেন ওই পরিসরে কিছুতেই ঠেসেঠুসে দেড় লক্ষের বেশি লোক ধরতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা, গলাবাজি নয়। তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে মুকুল একথা স্পষ্ট করলেন।
এরপরও কাল আমরা পড়ব, দেখব, শুনব—-রেকর্ড ভিড়! বৃষ্টি না হলে অমুক লক্ষে পৌঁছতো ইত্যাদি ইত্যাদি বাতেলাবাজি। তৃণমূলের নেতারা বলেবেন, কতিপয় সংবাদ মাধ্যমে বলবে। নিজের নিজের স্বার্থে।
আর সক্কাল সক্কাল প্লেট-চুমুকে চা খেতে খেতে মধ্যবিত্ত কেরানি বলবে, ভাবা যায়! দেখেছো গিন্নি!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news