দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় 
কিছুদিন আগে মুকুল রায়ের তৃণমূল বিরোধী একটি বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের একজন বড় নেতাকে ফোন করেছিলাম। মুকুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া চাই। শুনেছি এই নেতাকে নাকি খুব বেশি সাংবাদিক ফোন করে না। কারণ ইনি অল্পেই মেজাজ হারান। দপ করে জ্বলে ওঠেন। তবে আমার সঙ্গে অনেকদিনের যোগাযোগ, বহুদিনের সম্পর্ক। আমি জানি মানুষটা রেগে গেলেও ওঁর অন্তঃকরণ ভাল। সেই ভরসাতেই ফোন করেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি আস্থাভাজন এই নেতা সেদিন আমার প্রশ্ন শুনে একেবারেই চটলেন না। বরং অতি ঠাণ্ডা মাথায় যা বললেন তা মোক্ষম। ‘সর্বভারতীয়’ তৃণমূলে তাঁর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘মুকুল বিজেপির কে? কি ডেজিগনেসন? যে ওর কথার প্রতিক্রিয়া আমি দেব!’
মোদ্দা কথা বিজেপিতে মুকুল কে? মুকুল কী! মুকুল কতটা? এই সংশয় শুধু তৃণমূলে নয় সম্ভবত বিজেপিতেও কারও কারও মনে আছে। সেদিক থেকে দেখলে মুকুল-কৈলাসের ফাঁস হওয়া অডিয়ো মুকুলের শাপে বর হয়েছে।
তৃণমূল তো বটেই বিজেপির অনেকের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে রাজ্য রাজনীতির খুঁটিনাটি সব বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুকুলের ওপর কতটা নির্ভর করেন। মুকুলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা যেমন দীর্ঘ, তাঁর কর্মকুশলতারও সুনাম আছে। ফলে তাঁর ওপর দিল্লি ভরসা করবে এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে আলাদা করে মুকুলের কোনও গৌরব যেমন নেই তেমনই বিজেপির অন্য নেতাদের হীনমন্যতারও কোনও কারণ নেই। তবে তৃণমূলের কাছে একটি বার্তা স্পষ্ট কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে মোদি-অমিত জুটি মুকুলকে অর্জুনের জায়াগায় বসায়নি ঠিকই তবে পার্থসারথী কৃষ্ণের জায়গায় অবশ্যই বসিয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে যাওয়া অডিয়ো ক্লিপিংসটিতে শোনা যাচ্ছে কৈলাস বিজয়বর্গীয় রাজ্যে মতুয়াদের বিজেপির পক্ষে সংগঠিত করার জন্যে মুকুলের পরামর্শ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের কৌশলগত আলোচনা খুব স্বাভাবিক।
এমনকি বিজয়বর্গীয়কে বলতে শোনা যাচ্ছে, অধ্যক্ষজির (ধরে নেওয়া হচ্ছে বিজেপির অধ্যক্ষ অমিত শাহ) কাছে যাব, ওঁকে কি কি বলার আছে? শোনা যাচ্ছে উত্তরে মুকুল বলছেন, চার আইপিএস অফিসারের ব্যপারে সিবিআইকে কিছু করতে হবে। অডিয়োর এই অংশটি নিয়ে শুরু হয়েছে হইচই। সোমবারই মমতা রাজনাথকে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির রাজনৈতিক ব্যবহার হচ্ছে। তারই মধ্যে এমন একটা অডিয়ো ফাঁস! তৃণমূল বলতে শুরু করেছে বিজেপি সিবিআইয়ের রাজনৈতিক ব্যবহার করছে তা প্রমাণিত। তবে যথাসম্ভব পলিটিকালি কারেক্ট থাকা মুকুল তা মানছেন না। তাঁর মতে , ” চিটফান্ড কাণ্ড নিয়ে এই মুহুর্তে দলের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কি দাবি জানানো যেতে পারে সেই ব্যাপারে আমি মতামত দিয়েছি মাত্র। এর মধ্যে সিবিআইকে ব্যবহার করার কোনও প্রশ্নই নেই।” তিনি বলেন তাঁর ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে, তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। মুকুল আরও বলেন, “তদন্তকারী সংস্থাকে প্রভাবিত করার সংস্কৃতি আমাদের নেই। ওটা মমতার একচেটিয়া। যে কোনও ঘটনায় উনি আগে থেকে মন্তব্য করে তদন্তের ভবিষ্যত ঠিক করে দেন।” সম্প্রতি মাঝেরহাট কাণ্ডে রেলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে, বাগরি কাণ্ডে ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করে এবং ইসলামপুর কাণ্ডে সুদুর বিদেশে বসে সঙ্ঘকে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুকুল বলেন, “তদন্ত প্রভাবিত করা একজনের পুরনো অভ্যেস, আমার নয়।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news