Breaking News
Home / TRENDING / মমতা-মুকুল লড়াইতে কে যে কার বোঝা ভার!

মমতা-মুকুল লড়াইতে কে যে কার বোঝা ভার!

 

ডম্বরুপাণি উপাধ্যায়

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন, সম্ভবত সাম্প্রতিক অতীতের সব চেয়ে রোমাঞ্চকর নির্বাচন হতে চলেছে।
সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি কতটা চাপে থাকবে কিংবা আদৌ চাপে থাকবে কিনা, বা কংগ্রেস কতটা সুবিধাজনক জায়গায় থাকবে কিংবা আদৌ কোনও সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে কিনা, এই নিয়ে কাটাছেঁড়া এখন চলবে। তবে পশ্চিমবঙ্গের জন্যে বা এ রাজ্যের রাজনীতি-রসিক মানুষের জন্যে এবারের ভোট এবং ভোটের আগের বিবিধ টানাপোড়েন যে দেখার মত হবে ,সে কথা এখনই বলা যায়।
রাজ্যে এবারের লোকসভার লড়াই যে কার্যতঃ মমতা বনাম মুকুলের লড়াই তা এক প্রকার ঠিক হয়ে গেছে। কুরু-পাণ্ডবের এই লড়াই শুরুর আগে শেষপর্যম্ত যোদ্ধারা কে কোন দিকে থাকবেন তাই নিয়েই এখন চড়ছে পারদ। সৌমিত্র ও অনুপমের পর আর কে তৃণমূল ছাড়বেন তাই নিয়ে চলছে জল্পনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে অনেকের দিকেই। মুকুল রায়কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলছেন, সবাই আসতে পারে!
সাংসদদের মধ্যে খেলোয়াড় সাংসদ, অভিনেতা ও অভিনেত্রী সাংসদ, মোদির গুণগ্রাহী সাংসদ, অধ্যাপক সাংসদ, আইনজীবী সাংসদ, প্রবীন ও অভিজ্ঞ সাংসদ, সকলের নামই বাতাসে ভাসছে। উনিশের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের অবস্থা এখন কে যে কার? বোঝা ভার!
শুধু সাংসদরাই নন। তৃণমূলে ঘোষিত তীব্র মুকুল বিরোধী নেতা, তিনিও বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন এমনকি মুকুলের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ বৈরিতার সম্পর্ক মেরামত করে নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
জেলার নেতারাও পিছিয়ে নেই। জেলারই একজন অত্যন্ত শিক্ষিত, পণ্ডিত নেতা মুখে মুকুলের বাপান্ত করছেন কিন্তু কাজে ঠিক কি করছেন সে কথার নিশ্চয়তা নেই। এই ধরনের নেতার সংখ্যা অনেক। আবার কেউ কেউ মুকুলের ব্যাপারে এক্কেবারে নীরব। নীরব ও সরব, এই দুই প্রকার নেতাই নাকি মমতার জন্যে সমান বিপজ্জনক, বলছে তৃণমূলেরই অন্দরমহল।
একজন সাংসদ নাকি বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি শুধু সাংসদ নন, শক্তিশালী নেতাও বটে। যোগাযোগ রাখলে কি হবে তিনি বিজেপিকে ঝুলিয়েও রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর কিছু বায়নাক্কা মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিজেপি তাঁকে দেওয়া সত্ত্বেও তিনি মুখে আজ করব কাল করব করেও এখনও বিজেপিতে যোগ দেননি। বিজেপি নেতৃত্বও এবার তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছে। তাদের বক্তব্য এবার তাঁর ভাগ্য তিনিই ঠিক করে নেবেন।
তবে দিদির ঘরই যে শুধু খালি হবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। কংগ্রেসে আবার ইন্দ্রপতনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রবীন, দায়িত্বশীল, অনেক চাপেও এক সময় কংগ্রেস ছাড়েননি, এমন নেতা এবার হাতে তুলে নিতে পারেন ঘাসফুল রঞ্জিত পতাকা। বয়স্ক এই নেতা দীর্ঘদিন কংগ্রেস করছেন, তবু কোনওদিন সরাসরি দিল্লির রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি। রাজ্য সভাপতির আসনও তাঁর অধরাই রয়ে গেছে। এবার দিল্লি পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে ধরতে পারেন মমতার হাত। লড়তে পারেন লোকসভায়। এ হেন সম্ভাবনা মাথা চাড়া দিতেই হুঙ্কার দিয়ে উঠছেন তৃণমূলের এক সাংসদ। তাঁর আশঙ্কা কংগ্রেসের এই নেতা তৃণমূলে এলে তাঁরই বাড়া ভাতে ছাই পড়বে সবচেয়ে আগে।
সব মিলিয়ে জানুয়ারি পড়তেই রেকর্ড ঠান্ডাতেও গরম প্রাক নির্বাচনী হাওয়া।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *