দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
মমতার সিদ্ধান্তে কেঁদেছেন সুব্রত বক্সীও।
ক্যামেরার সামনে এমন দাবিই করলেন তৃণমূলের জন্মলগ্নের নেত্রী এবং কংগ্রেস জমানা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী সোনালী গুহ।
৮০-এর দশকে ‘অগ্নিকন্যা’ মমতার পাশাপাশি, তাঁর সহকারী হিসেবে রাজ্য রাজনীতি তে যে আগুনে নেত্রী উঠে এসেছিলেন তিনি সোনালী গুহ। (Sonali Guha)
সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই তে দামাল কন্যা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন তিনি ছিলেন সোনালী।
মমতার ঘরের মেয়ে, দলনেত্রীর মায়ের স্নেহের পাত্রী, দিদি জন্য ‘জান দিতে পারি’ মনোভাবের যে সকল নেতা-নেত্রী মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সোনালী।
হাসি খুশি, আড্ডাবাজ, হুল্লোড়ে স্বভাবের কিন্তু রেগে গেলে রক্ষে নেই, এমন নেত্রী হলেন সোনালী।
তাঁর আগুনখেকো রাজনীতির আঁচ বামফ্রন্ট সরকারের প্রশাসন একাধিকবার পেয়েছে।
‘মমতা ব্যানার্জি রাজপথে, সিপিএম হুঁশিয়ার’ সোনালীর তোলা এই স্লোগানে বহুবার মুখরিত হয়েছে সিধু-কানু ডহর।
তৃণমূলের সতত পরিবর্তনশীল চরিত্রে, দলনেত্রীর ঘনিষ্ঠবৃত্ত বদল করার নিরন্তর স্বভাবে দলের দুঃসময়ের অনেক নেতানেত্রীর মত সোনালীও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছিলেন। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হলেও কার্যতঃ পিছনের সারিতে চলে গেছিলেন সোনালী। যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের বেইমান বলার চল শুরু হয়েছে মমতার দলে। তিনি মুকুল হোন কিংবা শুভেন্দু, প্রবীন দীনেশ ত্রিবেদী হোন কিংবা নবীন রাজীব। তবে দল বা দলীয় নেতৃত্ব বা মমতা স্বয়ং তাঁর পুরনো সঙ্গীদের যে আচরণ করেছেন, সেই ব্যবহার কে ঠিক কী বলা যায় তা নিয়ে অবশ্য কোনওদিন প্রশ্ন ওঠেনি।
সুব্রত বক্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। তাঁর ফোন বেজে গেছে। সোনালীর দাবি সত্য ধরে নিলে (মিথ্যা হওয়ার কোনও সঙ্গত কারন আছে কি?) সুব্রত বক্সীর চোখের জল প্রমাণ করে তাঁর ‘মমতাদির’ সিদ্ধান্তে তিনিও খুশি নন।
অতীত কে অস্বীকার করতে করতে কোন ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছেন মমতা?
নাটকের শেষ দৃশ্য দেখতে গেলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news