ডম্বরুপাণি উপাধ্যায় :
তৃণমূল রাজনীতিতে সুকান্তর ছায়া!
সুকান্ত?
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে প্রায়ই সুকান্ত উদ্ধৃত করে বলছেন, স্বজন হারানো শশ্মানে তোদের চিতা আমি তুলবই। যদিও সাম্প্রতিক অতীতে রাজনৈতিক হিংসার যে সকল ঘটনা ঘটেছে, তার সিংহভাগের জন্য অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের দিকেই।
অমিত শাহ, মুকুল রায় মিলে অতি সুক্ষ ভাবে তৃণমূল ভাঙনের যে কাজ টি এতদিন ধরে করে আসছিলেন, তা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার আগে পর্যন্ত একপ্রকার ভাঙন চলেছে। এবার ঘোষণা পরবর্তী ভাঙন শুরু হয়েছে দলে।
সোনালী গুহর অশ্রু ইতিমধ্যেই দেখেছে মানুষ। দলের দুর্দিনের লড়াকু সঙ্গী কে প্রার্থী করেন নি মমতা। এমনকি তাঁর একদা ছায়াসঙ্গী কে তিনি যে প্রার্থী করবেন না, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে তা তাঁকে জানাবার সৌজন্য টুকু দেখাবার প্রয়োজন বোধ করেন নি দলনেত্রী। সোনালীর কথা থেকে এমনটাই জানা গেছে।
মোট ৬৪ জন বিধায়ক কে বাদ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তার মধ্যে তারকা ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসও আছেন।
এছাড়াও দলের বহু নেতা নেত্রী, যাঁরা এবার টিকিট পাবেন ভেবেছিলেন, তাঁরা হতাশ হয়েছেন। মমতা টলিগঞ্জের অভিনেতা অভিনেত্রীদের অদৃশ্য হেলিকপ্টার করে উড়িয়ে এনে একেকটি বিধানসভার অদৃশ্য হেলিপ্যাডে এনে নামিয়ে দিয়েছেন!
যাঁরা অন্য দলে চলে যাওয়ার হাতছানি উপেক্ষা করে, দলের বড় বড় নেতাদের বিজেপিতে চলে যেতে দেখেও মাটি কামড়ে তৃণমূলে রয়ে গেছেন, তাঁদের জন্য মমতা বরাদ্দ করেছেন টলিউড স্টারেদের পিছনে পিছনে হাঁটার কাজ।
দলে গোষ্ঠী কোন্দল এড়াতে মমতা এমন কাজ আগেও করেছেন। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার সেই সব বিধায়ক বা নেতাদের অন্য দলে চলে যাওয়ার অবকাশ আছে। এবার আর মুখ বুজে, হাত গুটিয়ে, ভাগ্যের পরিহাস মেনে নিয়ে বসে থাকছেন না তাঁরা। তাঁরা যোগাযোগ করা শুরু করেছেন বিজেপির সঙ্গে। আর নিজেদের মত করে করছেন প্রতিবাদ। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ আবার রাস্তায় নেমে করছেন প্রতিবাদ।
হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের দাদা, জেলার রাজনীতি তে যাঁর উল্লেখযোগ্য প্রভাব আছে, সেই আচ্ছালাল যাদব অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কিছুদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, ভারতীয়দের আস্থার নাম রাম। তাঁর বক্তব্য ছিল, “যে যাই মনে করুক, আমি জয় শ্রীরাম বলবই”।
এবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর, এবং উত্তরপাড়া কেন্দ্রে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিককে প্রার্থী করার পর, মুখে কোনও কথা না বলে, আচ্ছেলাল নীরবে একটি কাজ করেছেন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ ডিপি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মমতার ছবি।
দীপেন্দু বিশ্বাস ফেসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ভাবছি, কী করব?’
সব মিলিয়ে সুকান্তর ছায়া এখন ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূলের ‘অপমানিত’ বিক্ষুব্ধ অংশে। ছড়িয়ে থাকা সেই ছায়া থেকে হেমন্তের কণ্ঠে সুকান্তর লেখায় উঠে আসছে গান, ‘বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে বিদ্রোহ আজ…’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news