নীল রায়:
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমনটাই জানিয়েছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা স্বয়ং। ঘটনাটি ঘটে রবিবার। ওইদিন সকালে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী জানতে পারেন হুগলি জেলার শ্রীরামপুর এলাকায় একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। তৎক্ষণাৎ ওই এলাকার দলীয় কমরেডদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন সুজন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় হুগলি জেলা সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরীর সঙ্গেও। জানতে পারেন, শ্রীরামপুরের পিয়ারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাকড়ী এলাকায় একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যা আপাতদৃষ্টিতে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা মনে হলেও, অন্তরালে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সমীকরণ। সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পরে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন সুজন চক্রবর্তী। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোন করেন মমতাকে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান তিনি। সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান যাদবপুরের বিধায়ক।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হওয়ার পর, নিজের বিধানসভা এলাকা যাদবপুরের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সুজন। পরে যখন একটু ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠেছেন। চোখ যায় নিজের মোবাইলে। দেখেন একটি নম্বর থেকে পাঁচটি মিসড কল এসেছে। দেখে বুঝতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী তাকে পাল্টা ফোন করেছিলেন। কিন্তু ব্যস্ত থাকায় তিনি তা ধরতে পারেননি। নিজের হোয়াটসঅ্যাপ চেক করার সময় মুখ্যমন্ত্রী একটি মেসেজ পান যাদবপুরের বিধায়ক। দেখতে পান একটি ছোট্ট হোয়াটস আ্যপ মেসেজ পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে তিনি বলেছেন “শ্রীরামপুরের ওই এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।”
এই প্রসঙ্গে সুজন বলেন, “রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। রাজ্যের কোথাও অশান্তির খবর পেলে প্রশাসনকে জানানো আমাদের সকলের কর্তব্য। এক্ষেত্রে আমি গুরুত্ব অনুভব করেই মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম।”
সুজনের এ হেন রাজনৈতিক সৌজন্যের পরেই, সোমবার, নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, দেশপ্রেমের নামে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিজেপি ও আরএসএস।
এমনিতেই শ্রীরামপুরের ঘটনায় কোনও পক্ষকেই সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাত্ম করা কতটা সমীচীন সে প্রশ্ন রয়েছে। মোমবাতি মিছিল যাঁরা করেছিলেন তাঁদের হাতে কোনও দলীয় পতাকা ছিল না বরং জাতীয় পতাকা ছিল। উল্টোদিকে যাঁরা ওখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন (খবর অনুযায়ী ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত) তাঁরা কোনও দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠান করছিলেন না। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতা ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের নিজেদের লোক বলেই দাবি করেছেন। একই ভাবে বিজেপি নেতাও মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের লোক বলেছেন। বিবদমান দুই পক্ষকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ভাগ করা গেলেও সম্প্রদায়ের পরিচয়ে কিভাবে ভাগ করা গেল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দুই দলের স্থানীয় কোনও নেতাই বিষয়টির এই সাম্প্রদায়িক দিকে আলোকপাত করেননি। না তৃণমূল না বিজেপি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news