Breaking News
Home / TRENDING / মথুরা ও বৃন্দাবনের রথযাত্রা

মথুরা ও বৃন্দাবনের রথযাত্রা

জ্যোতিস্মিতা রায়

শ্রী কৃষ্ণ জন্মভূমি মথুরার দ্বারকাধীশ মন্দির। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই এখানে রথযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সকলে। সকাল ১০টা থেকে রথযাত্রা শুরু হবে দ্বারকাধীশ মন্দিরে। দোল বা জন্মাষ্টমীর মতো জাঁকজমক নেই দ্বারকাধীশ মন্দিরের রথ যাত্রায়। রথের দিন সকালে স্নানাভিষেকের পর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় দ্বারকাধীশ মন্দিরের মূল মন্দিরের দরজা। মন্দিরের চাতালেই ঘেরা রেলিংয়ের মধ্যে বসানো থাকে রূপোর রথ। সঙ্গে দুটি মাটির ঘোড়া। রথযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই শ্রী কৃষ্ণ জন্মভূমির ভগবড় ভবন থেকে শ্রী কৃষ্ণের সুদর্শন চক্রটি নিয়ে আসা হয়। এরপর আসেন বলভদ্র, সুভদ্রা এবং সবশেষে আসেন শ্রী কৃষ্ণ । অনেক আগে তিনটি রথের ব্যবস্থা থাকলেও একটি রথেই তিনটি আসন রাখা রয়েছে। এরপর মন্দিরের চাতালেই শুরু হয় রথযাত্রা । রেলিংয়ের ধারে দাঁড়িয়ে ভক্তেরা হাত বাড়ান, যদি একটু ছোঁয়া যায়। তবে বেশীক্ষণ দাঁড়ানোর উপায় নেই, পরের দর্শনার্থীর দলকে জায়গা করে দিতে হবে। এভাবেই দুপুর ২.৩০টে পর্যন্ত রথযাত্রা চলবে। তারপর বন্ধ হয়ে যাবে মন্দিরের দরজা। ঠাকুর বিশ্রাম নেবেন যে!
অন্যদিকে মথুরার থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে বৃন্দাবনে তখনও মেলা সবে জমে উঠেছে। ইসকনের রথযাত্রা দুপুর ১টা থেকে শুরু। এই সময়টা উত্তর ভারতে বেশ মনোরম। কাঠফাটা গরম নেই। কখনও ঝিরঝির, কখনও ঝমঝম বৃষ্টি । এরই মধ্যে বিপুল ভক্তের ভিড় রাস্তার দুধারে। এখানে অনেকটা পুরীর রথযাত্রা র মতোই হয় রথ। ১৫দিন আগে স্নানযাত্রা হয় এবং তারপরেই কম্প দিয়ে জ্বর আসে জগন্নাথ দেবের । তখন আর তাঁর দেখা মেলে না। ১৫ দিন পর রথের দিন দর্শন দেন ভক্তদের। শুরু হয় রশিতে টান। একদম প্রথমে ঢোল করতাল নিয়ে কীর্তন করতে করতে চলেন ইসকনের সদস্যরা। তারপর ধীরে ধীরে রথ। বৃন্দাবনের যে পরিক্রমা রোড ধরে ‘হোলি পরিক্রমা’ হয়, ‘জন্মাষ্টমী পরিক্রমা’ হয়, সেই রাস্তা দিয়েই হয় রথ পরিক্রমা। সবশেষে রথ থামে মন্দিরের সামনে । আর উল্টোদিকের মাঠে বসে মেলা। অনেকটা কলকাতার রথের মেলার মতোই। এই মেলাতেই দিনের বেলা পাওয়া যায় বেলের আইসক্রিম, আর সন্ধ্যে বেলা গরম দুধের কড়াই নিয়ে রাস্তার ধারে বসেন দোকানীরা, আর পাওয়া যায় ঘিয়ে ভাজা ‘সোহন হালুয়া’ । যা মুখে দিলেই মিশে যায়। এছাড়াও বেতের খেলনা, ঝুমঝুমি। যা বলবেন হাসিমুখে তক্ষুনি বানিয়ে দেন দোকানি। সব মিটতে মিটতে হয়ে যায় ইসকনের আরতির সময়। খোল, করতালের সঙ্গে গিটার ড্রামস বাজিয়ে শুরু হয় আরতি। কখন যে রাস্তা ছেড়ে ভিড় নেমে পড়ে ইসকন মন্দিরের উঠোনে, ঠাহর মেলা ভার। একসময় উঠোন থেকে দেখা যায় চাঁদ উঠেছে। ৮টায় আরতি শেষ হলে ইসকনের প্রসাদ গরম হালুয়া। অবশ্য প্রত্যেক বছরই আলাদা প্রসাদ হয়। এরপর ভিড় পাতলা হয়ে পা বাড়ায় বাড়ি বা হোটেলের দিকে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *