নীল রায়
নিজের ওয়ার্ড থেকে লিড না দিতে পারলে কাউন্সিলরদের আর টিকিট দেবে না দল! সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এমনই নিদান দিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আপাতত এই নির্দেশনামা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬টি পুর এলাকা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। সেখানকার এক পৌরসভার কাউন্সিলরের কথায়, “আসলে লোকসভা ভোটে লিড নেওয়ার ব্যাপারটা অনেকটা কাউন্সিলরদের নিজেদের ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করে। তাঁরা যদি এলাকায় ভালো কাজ করেন এবং ভালো জনসংযোগ রাখেন তাহলে এটা সম্ভব হয়। তবুও বলব, লোকসভা ভোটে কে কতটা লিড দিতে পারবে তা জোর দিয়ে বলা যায় না। কিন্তু দল যখন নির্দেশ দিয়েছে আমাদের বড় লিড আনার ব্যবস্থা করতেই হবে।” কিন্তু কিভাবে আসবে এই লিড? বস্তুত, ভারতবর্ষের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন বিধান দেওয়া বোধহয় সঠিক নয়। কারণ, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় কে কাকে ভোট দেবেন, সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকার। আর যদি বলপূর্বক তা করতেই হয়, তাহলে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যা ঘটেছে ঠিক তাই হবে এবারের লোকসভা ভোটে। প্রসঙ্গত, বামফ্রন্ট জামানায় পঞ্চায়েত, পৌরসভা, বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে বাম প্রার্থীদের জেতাতে সিপিএমের ক্যাডার বাহিনী তথা পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক রিগিং ছাপ্পা তথা সন্ত্রাস কায়েমের অভিযোগ তুলতেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিন বদলেছে, রাজ্যের সর্বত্র শাসন ক্ষমতায় এখন তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বাম জমানায় যেভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হত, তাঁর জমানাতেও সেই হরণের বহর বেড়েছে বই কমেনি। যার জেরে পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বাকি যে ৬৬ শতাংশ আসনে তারা প্রার্থী দিতে পেরেছিলেন, তাতে আবার ৯০ শতাংশ আসনে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীর দাপটে অবাধে ভোটলুঠ হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এমতাবস্থায় রাজ্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে দিয়ে লিড না দিতে পারলে আগামী দিনে টিকিট না দেওয়ার নির্দেশের ঘোষণা করে কার্যত অগণতান্ত্রিক পথেই হেঁটেছে তৃণমূল, এমনটাই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলের। এ প্রসঙ্গে এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কথায়, “এমন নির্দেশ হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ আগামী দিনের টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কায় লোকসভা ভোটের ব্যবধান বাড়ানোর জন্য তৃণমূলের কাউন্সিলররা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন। যার খেসারত দিতে হতে পারে সাধারণ মানুষ তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে।” এমন নির্দেশ দেওয়ার আগে বাংলার শাসক দলের আরও সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, শীর্ষ নেতৃত্বের এমন চাপ ভয়ানক আকার ধারণ করতে পারে ভোটের দিনগুলিতে। ফলে গণতন্ত্রের উৎসবে নেমে আসতে পারে বিষাদের কালো ছায়া!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news