নীল বণিক
লোকসভা ভোটে বিজেপি শিবিরের “চাণক্য” মুকুল রায়কে কী ভয় পাচ্ছে তৃণমূল!
এমন প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে। কারন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনের মামলায় একদা তৃণমূলের “সেকেন্ড ইন কমান্ড”কেই অভিযুক্ত করেছে শাসক দল। ভাবখানা এমন, যেন একটিবার মুকুল রায়কে গারদে পুরতে পারলেই সত্যজিতের পরিবারের সঙ্গে ন্যায় করা যাবে। এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। তাঁরা মনে করছেন খুনের ঘটনা ঘটার আধ ঘন্টার মধ্যে যেভাবে তড়িঘড়ি গৌরীশঙ্কর দত্ত এফআইআর-এ মুকুলের নাম উল্লেখ করলেন তাতে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। বাংলায় অমিত শাহের ভোট রাজনীতি কার্যকর করতে দায়িত্ব পেয়েছেন মুকুল। কিন্তু বাংলার রাজনীতির চাণক্যকে খোলা ময়দান ছেড়ে দিতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই যেনতেন প্রকারেণ তাঁকে লোকসভা ভোটের সময় রাজনীতির আঙিনা থেকে বাইরে রাখতে “উঠে পড়ে লেগেছে” তৃণমূল। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিজেপি শিবিরেও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। সত্যজিৎ বিশ্বাস খুন হওয়ার কয়েক মুহুর্ত পর থেকেই যেভাবে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতৃত্ব মুকুল রায়কে অভিযুক্ত করেছেন, তাতে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। সূত্রের খবর, মুকুলের গতিবিধির ওপর নির্ভর করছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা। শোনা যাচ্ছে গত পাঁচ বছরের কার্যকালে দলের বেশ কয়েকজন সাংসদের প্রতি বিরক্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তাপস পাল, ঝাড়গ্রামের উমা সরেন, মথুরাপুরের চৌধুরী মোহন জাটুয়া, বসিরহাটের ইদ্রিস আলী প্রমূখ। মাস তিনেক আগে পর্যন্ত এই সমস্ত সাংসদদের টিকিট পাওয়া এবারা প্রায় অসম্ভবই ছিল। কিন্তু গত মাস দু’য়েক এ রাজ্য রাজনীতির অনেক ঘুঁটি এদিক থেকে ওদিক করেছেন মুকুল। সেই চালে তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে পদ্ম শিবিরে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। যেমন মতুয়া মহাসংঘে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সভা করিয়ে সাফল্য পেয়েছেন, তেমনই বড়মা বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাত করিয়ে দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় ভবনের গুড বুকে মুকুল রায়। এমতাবস্থায় বাংলার ভোটের পাশাখেলায় মুকুলের মতো “মোহর” কে হাতছাড়া করতে নারাজ শাহ-মোদি। তাই তাঁরাও মুকুল রায়কে রক্ষাকবচ দিতে চাইছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মুকুলও। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও “প্রতিহিংসামূলক” পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে আভাস পেয়েই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করে “জোঁকের মুখে নুন” দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, মুকুলকে কোনওভাবে বাগে আনতে পারলেই তৃণমূল প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। সেই চেষ্টা এখনও চলছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কোনওভাবে যদি মুকুলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব না হয়? সেক্ষেত্রে বহু বাদ পড়ার তালিকায় থাকা তৃণমূল সাংসদকে আগামী লোকসভা ভোটে ফের জোড়াফুলের প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মুকুল স্বমহিমায় থাকলে নতুন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আক্রমনাত্মক হবে বিজেপি। সেক্ষেত্রে প্রার্থী বদল অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে জোড়াফুল শিবিরের পক্ষে। সেক্ষেত্রে মমতাকে বাজি রাখতে হবে তাঁর “পুরনো ও বাতিল ঘোড়া”দের ওপরেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news