সুমন ভট্টাচার্য
মাননীয় টি এন শেষনকে খোলা চিঠি
শুনেছি আপনি নাকি একটি বৃদ্ধাশ্রমে এখন থাকেন। বাইরের জগতের সঙ্গে আপনার আর খুব একটা যোগাযোগ নেই। আলঝাইমারে ভুগছেন। কিন্তু, আপনি, টি এন শেষন কি খবর রাখেন কেমন আছেন গণতন্ত্র? কেমন করে এদেশে হয় নির্বাচন? আপনি কি নাম শুনেছেন অনুব্রত মন্ডলেরা? কিংবা জানেন আজ, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দিনেই অন্ধ্রপ্রদেশে দুজন মারা গিয়েছেন?
আপনিই তো আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আর এ দেশে মেহাম হবে না। কোনও চৌতালারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য নিরীহ মানুষদের বলি চড়াবে না। কিন্তু তাহলে আজ ও এই দেশে নির্বাচনের নাম এলেই লোকের বুক দুরু দুরু করে কেন ? কেন আমাদের এই বঙ্গে ভোটকর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যেতে আপত্তি করে ?
রাজকুমার রায়ের নাম আপনি শোনেননি। শোনার কথাও নয়। ও কিন্তু আপনার কথা জানতো। বিশ্বাসও করতো যে আপনি যে রকমটা চেয়েছিলেন, এ দেশে নির্বাচন সেই রকম ভাবেই হয়। রাজকুমার রায়, ছাপোষা শিক্ষক। একটু আদর্শবাদীও ছিলেন বোধহয়। তা না হলে নির্বাচনের কাজ করতে গিয়ে কেউ বেঘোরে প্রাণ হারায়??
মাননীয় শেষন সাহেব, শুনেছিলাম আপনি নাকি খুব বই পড়তে ভালোবাসতেন। সেখান থেকেই উদ্ধৃতি দিয়ে আপনার অধস্তন অফিসারদের বোঝাতেন কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন কমিশনের কি দায়িত্ব পালন করা উচিত। এত যখন বই ভালোবাসতেন, তখন নিশ্চয়ই আপনি রবীন্দ্রনাথ পড়েছেন। পড়েছেনই পড়েছেন! ইশ, একবার যদি আপনাকে রবীন্দ্রনাথের বীরভূম ঘুরিয়ে দেখাতে পারতাম! আপনি দেখতেন আপনার জন্য এখানে কেমন চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজিয়ে অর্ভথ্যনা জানানো হচ্ছে। আপনাকেও হয়তো গুড় বাতাসা দিয়ে স্বাগত জানাতে কেউ হাজির থাকতো। থুড়ি, এই বছর ওরা মেনু বদল করেছেন, নকুলদানা দিচ্ছেন। না, না, আপনি বিহারে যে দানা, মানে পিস্তলের দানার ব্যবহার প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন, এই নকুলদানা সেইরকম কিছু নয়। নেহাতই খাওয়ার দানা, কিন্তু বন্দুকের দানার মতোই কাজ দেয়।
আপনি নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর টেলিভিশন-এ একটা বিজ্ঞাপন দিতেন। কোনও একটা প্যাকেজড ফুডের বিজ্ঞাপন ছিল সেটা। আপনি রসিয়ে রসিয়ে বলতেন রাজনীতিকদের যেমন করে আপনি চিবিয়ে খেতেন, তেমনই ওই প্যাকেজড ফুডের সব্জিও খেতে ভালো। আমরা খুব মজা পেতাম। খুউব। ভাবতাম যে রাজনীতিকরা আমাদের বোকা বানায়, ৫ বছরে একবার দেখা দেয় তাদের ঢিট করার জন্য একজন লোক এসেছে। এবং সত্যিই আপনি কতটা বদলে দিতে পেরেছিলেন। মেহাম এর জন্য পরিচিত হরিয়ানা বদলে গেল, আমাদের ঘরের পাশের বিহার কেমন স্মার্ট ফোনের মতো ঝকমকে হয়ে গেল, আর আমরা এখনও সেই তিমিরেই।
আগে আমাদের রাজ্যে চটের আড়ালে ভোট অনেকেই দিতে পারতো না।ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএম এসেছে, আপনি তো জানেন। কিন্তু এখনও এ রাজ্যে অন্যদের দেখিয়ে ইভিএম এর বোতাম টেপাটা অনেক জায়গায় বেশ চালু প্রথা। এই প্রথম দফার ভোটেও তো তাই হলো।

আচ্ছা শেষন সাহেব, আপনি তো নির্বাচনী বিধিনিষেধ সব গুলে খেয়েছেন। কি কি কারণ দেখিযে ভোট চাওয়া যায় এবং যায় না,সব আপনার ঠোঁটস্থ ছিল। আচ্ছা মৃত মায়ের আত্মার শান্তির জন্য ভোট চাওয়া যায় ? নাকি সেই মা ম্যাটিনি আইডল হলে সাতখুন মাফ ?? ‘সাত খুন মাফ’ বলে একটা সিনেমা হয়েছিল বলিউডে। এবারের ভোট বাজারে যে ঠিক কী কী করলে সাত খুন মাফ, তা অবশ্য বলা মুশকিল । সেনাবাহিনীর নামে ভোট চেয়ে, সেনা বাহিনী কে ব্যক্তিগত নামের সঙ্গে জুড়ে দিলেও তো আপত্তি উঠছে না।
ভাগ্যিস আপনি আলঝাইমারে ভুগছেন, শেষন সাহেব, না হলে কত কিছু আপনাকে সহ্য করতে হতো! ভাগ্যিস !
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news