ভাস্কর মান্না
সামনেই ১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশ। এই ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে তৃণমূল পন্থী দের আগ্রহ বিপুল। তারা ব্রিগেডে প্রায় ২ কোটি মানুষকে জমায়েত করার পরিকল্পনা করছে। সেই জন্য কর্মীরা অনেক ছোটো,বড় সমাবেশও করেছে। আর এই সমাবেশ করার নিরিখে অন্যতম কারিগর তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি প্রায় রাজ্যের সব কটি জেলায় বিগ্রেড জনসভা উপলক্ষে সমাবেশ করেছেন । প্রত্যেকটি জনসভা থেকেই তিনি বিজেপির সমালোচনা করেছেন।আর অভিষেকর এই সমালোচনার জন্য তিনিই ভবিষ্যতে দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে উঠে আসছেন।এই কথা শ্যামবাজারের সভা থেকে সরাসরি বললেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
এদিন শ্যামবাজারে অভিষেক বলেন আগামি দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চাই।যেকোনও তৃণমূল কর্মী বা অনেক বাঙালিও মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। যেমন কদিন আগে মমতার জন্মদিনে দিলীপ ঘোষও বলেছিলেন। কিন্তু এটা বলা আর হওয়ার মধ্যে যে সমীকরণ কাজ করে, সেখানে কিন্তু অনেক ফাঁক থেকে যায়। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতার যোগ্যতা অবশ্যই আছে, তবুও বাইরের সমর্থন ছাড়া ৪২টি আসন জিতেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির এর আগে দেখা যায়নি। অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তরও অভিষেকের ভাষণ থেকেও পাওয়া যায়। এদিন অভিষেক বলেন, ব্রিগেড সমাবেশে আসছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব, আরজেডি র তেজস্বী যাদব, ডিএমকে র স্ট্যালিন, এনএফ নেতা ওমর আব্দুল্লা, এনসিপি র শরদ পাওয়ার, শত্রুঘ্ন সিনহা, শরদ যাদব। কিন্তু কোথাও তিনি কংগ্রেসের নাম নিলেন না । তাহলে কী কংগ্রেস ছাড়া বিরোধী মহাজোটের সমাবেশ তৈরি হবে? হলে! সেই সমাবেশের বার্তাই বা কি যাবে ? কারণ ব্রিগেডে আসা প্রায় সব দল গুলই কংগ্রেসকে নিয়ে চলার পক্ষপাতি। যেমন দিল্লিতে আম আদমির সঙ্গে কংগ্রেস জোট করতে চাইছে, বিহারে আরজেডির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট প্রায় পাকা, তামিনাড়ুর ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিন তো সরাসরিই বলেছেন বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল গাঁধীকেই দেখতে চান।আবার জম্মু কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লা কাশ্মীরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকার গড়তে চেয়েছিলেন।অতএব,বোঝাই যাচ্ছে কংগ্রেসকে বাদ দিলে ব্রিগ্রেড রাজনীতি পরিপূর্ণ হবে না। তাই অভিষেকের আশা পূর্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
আবার এই জনসভা থেকেই অভিষেক বিজেপিকে ঝাঁঝালো আক্রমণ করেন।তিনি বলেন,বিজেপি মানে ‘ভারতের জঞ্জাল পার্টি’। তৃণমূল যে সমস্ত জঞ্জাল ফেলে দেয় ,সেইগুলো বিজেপিতে যায়। এই প্রসঙ্গে এক বিজেপি নেতা বলেন,”তৃণমূল দলটাই তো কংগ্রেস ও সিপিএমের ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।এছাড়া তিনি আরও বলেন, যে সাংসদ সংসদে ঠিক মতো কথা বলতে পারে না, হাঁটু কাঁপে তার মন্তব্যে কীই বা আসে যায়”।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news