বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত
মৃণাল সেনকে একসময় আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনেকদিন ওনাদের বাড়ি গিয়ে আড্ডা দিয়েছি, উনিও এসেছেন আমার বাড়ি। মৃণাল দা’র সঙ্গে ওনার স্ত্রী গীতা সেনের সম্পর্ক খুব সহজ ছিল। মৃণাল দা যখন স্ট্রাগল করছিলেন তখনই দুজনের আলাপ, প্রেম এবং পরিণয়। বৌদিকে খুবই ভালবাসতেন মৃণাল দা। তিনিই ছিলেন মৃণাল দা’র জীবনীশক্তি। একবার গল্পচ্ছলে মৃণাল দা বলেছিলেন, তাঁর শার্ট বা পাঞ্জাবীর বোতাম ছিঁড়ে গেলে তা সূচ- সুতো দিয়ে সেলাই করে দেন বৌদি। তিনি আমায় বলেছিলেন, “বুদ্ধদেব! ওই সূচ-সুতোই আমায় বেঁধে রেখেছে। বাইরে তাকাতে দেয়নি” । এতটাই সহজ ও একাধারে গভীর ছিল মৃণাল দা ও গীতা বৌদির সম্পর্ক । বৌদির মুখ থেকেই শোনা, মৃণাল দা’র তখন স্ট্রাগলিং পিরিয়ড চলছে। বৌদি উনুনে জল ফোটাচ্ছেন, মৃণাল দা চাল নিয়ে এলে তবে ভাত রান্না হবে।

আর একটা গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে। মৃণাল দা’র খুব প্রিয় চরিত্র ছিল গোপাল ভাঁড়। সব সময় গোপাল ভাঁড়ের গল্প বলতেন। অনেক সময় আমরা বুঝতে পারতাম না তা সত্যি না বানানো। একবার জিজ্ঞেসও করেছিলাম মৃণাল দা কে, এগুলো সত্যি না বানানো? উনি মজা করে বলেছিলেন গোপাল ভাঁড়ের মুখ থেকেই শোনা। খুবই এনার্জেটিক ছিলেন মৃণাল দা । অনর্গল কথা বলে যেতে পারতেন। আর পারতেন সকলের সঙ্গে মিশে যেতে। কিন্তু তিনি কখনও তাঁর মতাদর্শের সঙ্গে আপোশ করেননি। আজকাল যখন দেখি ‘ক্রিয়েটিভ’ লোকজন নিজের কাজ বিকিয়ে দিচ্ছেন, সেখানে মৃণাল দা ব্যতিক্রম ছিলেন। আমার প্রিয় মৃণাল দা’র ২২শে শ্রাবণ, একদিন প্রতিদিন, ওকা উড়ির কথা এবং ওড়িয়া ছবি মাটির মানুষ। আবার ওনার অনেক ছবি আমার ভাল লাগেনি। ওনাকে বলেওছি সে কথা। কিন্তু তাতে আমাদের সম্পর্কে কোনও ভাঙন ধরেনি। চলচ্চিত্র জগতে সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে একই সারিতে মৃণাল সেনের নাম নেওয়া হলেও ওনার যতটা প্রাপ্য ততটা খ্যাতি উনি পাননি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news