দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
বাবুল একা নন। আরো আছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত সে কথা মাথায় রেখেই বলেছেন, ‘সবে তো শুরু।’
ভবানীপুরের উপনির্বাচনের আবহে বাবুলের তৃণমূলে যোগ বিজেপির কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর হয়েছে। কয়েকদিন আগে যাঁর নাম শোনা গেল বিজেপির তারকা প্রচারকের জায়গায়, আজ তিনিই হতে চলেছেন মমতার প্রচারের অন্যতম তারকা মুখ।
বাবুলকে অনেকে কেরিয়ারিস্ট পলিটিসিয়ান বলে দেগে দিতেই পারেন কিন্তু বাবুলের মতো বিখ্যাত সাংসদের তৃণমূলে যোগ, একটি ধারণা জনমানসে বদ্ধমূল করেছে যে বিজেপির আর বাজার নেই!
বাবুলও সাজানো কথার জাল না বুনে তাঁর যোগদানের ঘটনাটি কে একপ্রকার ‘সুযোগ’ বলেই দেখিয়েছেন। তাঁর কথায় ‘কাজ করার সুযোগ।’
বিজেপিতে শুরু থেকেই মোদির সুনজরে এবং চিরকালই মমতার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা বাবুলের তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে বিবিধ ব্যখ্যার অবকাশ থাকলেও আপাতত এটুকু নিশ্চিত, ‘বাংলায় বাজার নেই বিজেপির’ : মুখে না বললেও এই বার্তাই দিয়েছেন বাবুল।
একই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় পদ্মত্যাগীদের যে সম্ভাব্য তালিকা তৈরি হচ্ছে সেখানে কিন্তু সকলে তথাকথিত সুযোগ সন্ধানী নন।
রাজনীতিতে প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ সাংসদ রয়েছেন সেই তালিকায়।
বিজেপিতে নিজেকে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠা করা, ধীরে ধীরে নিজেকে চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিক করে তোলা সাংসদও রয়েছেন এই তালিকায়।
আবার হুজুগে পড়ে বিজেপিতে ভিড়ে যাওয়া তারকা বিধায়ক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন, ‘তৃণমূলে যতটা পাবার ছিল, ততোটা পেলাম না’ জাতীয় হতাশা থেকে বিজেপিতে যাওয়া ডাকাবুকো সাংসদ নেতা।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বড় ভাঙনের মুখে বিজেপি। একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। এবার কি তাহলে পাল্টা ভাঙনের পালা?
তফাৎ শুধু এই, চাটার্ড প্লেন তো দুরের কথা, কারো জন্য চারচাকাও পাঠাচ্ছেন না মমতা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news