নীল রায়
অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী কী ডেভিড? অর্থাৎ, লড়াই কী শেষ পর্যন্ত গুরু-শিষ্যের? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন বহরমপুরে ! ২৯ এপ্রিল চতুর্থ দফায় ভোট বহরমপুরে। বাম কংগ্রেস জোট হওয়ার কারনে এই আসনে প্রার্থী দেবে না আরএসপি। ফলে এই আসনে অধীরের সরাসরি টক্কর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে। কারন, রাজ্যের অন্য প্রান্তে বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারলেও, মুর্শিদাবাদ জেলায় তারা এখনও প্রান্তিক শক্তি। তাই বহরমপুরের রাজনীতিতে গুঞ্জন, চারবারের সাংসদ অধীর চৌধুরীকে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে কি চ্যালেঞ্জ জানাবেন অপূর্ব? ভোট ঘোষণার প্রায় বছর দুয়েক আগে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী বলতেন, “নেত্রী অনুমতি দিলে ২০১৯ -এর লোকসভা ভোটে বহরমপুর লোকসভা থেকে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী হতে পারি।” যদিও ২০১৬ সালে তাঁকে তমলুকের সাংসদ পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই শেষ কয়েক মাসে তাঁকে আর এমন কথা বলতে শোনা যায়নি। কিন্তু, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, বহরমপুরে অধীরের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে শাসকদলের প্রার্থী কে? শোনা যাচ্ছে, অধীরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বাজী অপূর্বই। কান্দির ডেভিডের রাজনৈতিক গুরু অধীর চৌধুরী। ২০০৬ সালে গুরুর কথায় কান্দির রাজাবাবু প্রবীণ নেতা অতীশ সিনহার বিরুদ্ধে নির্দল প্রতীকে দাড়িয়ে জয়ে পান। তার আগে অধীর চৌধুরীই ডেভিডকে কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান পদে বসান। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু তারপর শুরু হয় গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্ব। শেষে, ২০১৭ সালের শেষের দিকে অপূর্ব যোগ দেন তৃণমূলে। এবার তাকেই গুরুর বিরুদ্ধে প্রার্থী করার পথে তৃণমূল। মানসিকভাবে তৈরি ডেভিডও। তবে, প্রার্থী হওয়ার বিষয় তাকে প্রশ্ন করা হলে হাসি মুখে বলছেন, “দল যা ঠিক করবে, তাই হবে। আমি কিছু জানি না।” রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, অধীরের মতো বড় নেতার কাছে ডেভিড কখনওই কঠিন প্রতিপক্ষ নয়। যেহেতু প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি, তাই অপূর্বর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে কোনওরকম জল্পনায় নারাজ তারা। তবে, অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে তাদের ব্যাখ্যা, ১৯৯৯ সাল থেকে পরপর চারবার বহরমপুর লোকসভায় নির্বাচিত অধীর চৌধুরীর বড় ভরসা ছিলেন কান্দির কংগ্রেস বিধায়ক। ২০১৪ সালে অধীর চৌধুরী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এতে কান্দি থেকে ডেভিড তার গুরুকে ৪১ হাজার ভোটের লিড দিয়েছিলেন। অপূর্বর মতোই ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেও তৃণমূলে চলে গিয়েছেন বহরমপুর লোকসভার অধীন রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল চৌধুরী ও নওদার আবু তাহের খান। তবে বহরমপুর, ভরতপুর, বেলডাঙা ও বড়ঞা এখনো কংগ্রেসের দখলে। এর থেকেই স্পষ্ট যে বহরমপুরের যুদ্ধে অধীর খানিক এগিয়ে থাকলেও, শিষ্য ডেভিড কিন্তু ভালই বেগ দেবে তার গুরুকে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news