নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া:
কয়েকশো বছরের রীতি মেনেই সূচনা হল পুরুলিয়ার ছাতা টাঁড়ের মেলার। ছাতা পরবের জনপ্রিয়তা যে আজও রয়েছে, হাজার হাজার মানুষের সমাগম তা বুঝিয়ে দিল। চাকোলতোড় গ্রামে রাজ পরিবারের বর্তমান রাজা অমিত লাল সিংহদেও রাজবেশে সুসজ্জিত হয়ে পারম্পরিক মর্যাদায় সাদা কাপড়ের সঙ্কেত দিয়ে এই প্রাচীন উৎসবের সূচনা করলেন। সংকেত পেতেই সাদা কাপড় দিয়ে তৈরি শান্তির চিহ্ন বহন করা গগন চুম্বী ছাতা তুলে শুরু হল ছাতা টাঁড়ের মেলা । ছাতা তুলে রাজা বাড়ি ফেরার পরই শুরু হয় প্রজাদের আমোদ-প্রমোদ। নাচ, গান চলে রাতভর। এই মেলার অন্যতম বিশেষত্ব হল আদিবাসী বিশেষ করে সাঁওতাল, কোল, ভিল, মুণ্ডাদের ব্যবহৃত তির-ধনুক ও শিকারের নানা অস্ত্র এবং মনোরঞ্জনের জন্য ধামসা , মাদল প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের কেনা-বেচা। এবার এই জেলা ছাড়াও বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আদিবাসীরা এই মেলায় উপস্থিত হন। এছাড়া ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার, ছত্তিসগড়ের আদিবাসীরা মেলায় উপভোগ করতে হাজির হন। প্রায় তিন’শ বছর আগে এই পরবের সূচনা হয়। তখন ছিল পঞ্চকোট রাজ বংশ। কুমার শত্রুঘ্ন নামে একজন রাজা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে জঙ্গল মহলের ভূমিজ রাজা ইন্দ্র নারায়ণ সিংহের একবার যুদ্ধ বাধে। এলাকার একটি মাঠে সেই যুদ্ধ হয়েছিল। জঙ্গল মহলের রাজা ছিলেন বলে তাঁর সেনাবাহিনীতে ছিল আদিবাসীরা। কিন্তু সেই যুদ্ধে ইন্দ্র নারায়ণ পরাজিত হন। তখন তাঁর সেনারা দিশেহারা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কুমার শত্রুঘ্ন সেই সময় জানিয়ে দেন বিপক্ষ সেনাদের সঙ্গে তাঁর শত্রুতা নেই, সবাই তাঁর প্রজা। রাজার শান্তির সংকেত হিসেবে তখন মেলে ধরা হয় বিশাল ছাতা। তার পর থেকেই প্রতিবছর ভাদ্র সংক্রান্তির দিন ছাতা তোলাকে কেন্দ্র করে এই মেলা বসে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news