নিজস্ব সংবাদদাতা:
বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়ার তারাগুনিয়া গ্রামে প্রতিমা শিল্পীদের কপালে ভাঁজ। যেমন একদিকে দোআঁশ এটেল মাটি কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। অন্যদিকে কুমোরটুলি থেকে আসা কারিগর তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কারণ প্রতিদিনের রোজ নামচা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের কাছে, ২০০০ থেকে আর ৩০০০ টাকা। শিল্পী কারিগর সমস্যার মধ্যে জিএসটির প্রভাব। মৃৎশিল্পী জগন্নাথ নাথ ও মহিলা শিল্পী সবিতানাথ বলেন, বিচলী কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। বাঁশ আগে ছিল ১০০ টাকা আর এখন দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০টাকা। বিচুলির পন আগে ছিল ১৫ টাকা। বর্তমানে ২০০ টাকা। পাশাপাশি পাটের সুতলি দাম বেড়েছে। আগে প্রতিমার গায়ের গহনা থেকে মা দুর্গার হাতের অস্ত্রর দাম ছিল অর্ধেক। এখন হয়ে গেছে দ্বিগুণ। যার ফলে একটা প্রতিমা করতে গেলে কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর সেখানে ক্লাবগুলো এসে বলছে কুড়ি থেকে ২৫ হাজার টাকা দেব। যার জন্য শিল্পী ও ক্লাবের চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায়। তাদের মনের মত যেমন প্রতিমা দিতে পারছে না ক্লাবগুলোকে। তেমনি দাম পাচ্ছেন না ঘরোয়া পূজারীদের কাজ থেকে। সব মিলিয়ে প্রতিমা শিল্পীদের মাথায় হাত। তার ওপরে কারিগরের সমস্যা,জিএসটির প্রভাব। দেবীর মুখ তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মৃৎ শিল্পীদের। রং তুলি ক্যানভাসে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে। আগে যেকোন দাম ছিল অর্ধেক, এখন হয়ে গেছে তিন গুন। প্রতিমার সোলার গহনা সজ্জা ও শাড়ি সেগুলো দাম আরও বেশি। তার ওপরে মাল কিনতে গেলেই ব্যবসায়ীরা জিএসটি বসিয়ে দিচ্ছে। ফলে এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শিল্পীর পরিবারের নতুন প্রজন্ম। পরিবারের লোকরা বলছেন, এ কাজ আর তারা করবে না। অন্য পেশায় নিযুক্ত হতে চাইছে। তাই সব মিলিয়ে গ্রাম বাংলার ছোট বড় শিল্পীরা তাদের মূল পেশা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাঁদের আর্জি, রাজ্য সরকার রাজ্যের ক্লাবগুলোকে ভালো আর্থিক অনুদান দেয়। যদি আমাদের দিকে একটু নজর দেন তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই কাজে নিযুক্ত করতে পারব। নইলে এই মৃৎশিল্প ধীরে ধীরে মুছে যেতে বাধ্য হবে। এমনিতে রুটি রোজগারের টানে, বাইরের রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news