নীল রায়
পঞ্চায়েত ভোটের সন্ত্রাসের মাশুলই কি গুনতে হবে লোকসভা ভোটে? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলের অন্দরমহলে। এখনও পর্যন্ত দু’দফায় পাঁচটি লোকসভা আসনে ভোট হয়েছে। কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ ও আলিপুরদুয়ারে ভোট দিয়েছেন আমজনতা। সূত্রের খবর কোনও আসন নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে আশার বাণী শোনাতে পারেননি তৃণমূলের নেতারা। তাই বাধ্য হয়েই প্রত্যেকটি লোকসভা কেন্দ্রে দুই থেকে তিনটি জনসভা করার পাশাপাশি একটি করে বড় রকমের পদযাত্রা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধীরা। কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ ছিল, শাসকদলের সন্ত্রাসের কারণে প্রার্থী দেওয়া যায়নি ওই সমস্ত আসনে। যে ৬৬ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিলেন বিরোধীরা সেখানেও ব্যাপক সন্ত্রাস করেছিল শাসকদলের গুন্ডাবাহিনী। ফলে ভোটের দিনে গ্রামীণ জনতা ভোট দিতে পারেনি বলেই অভিযোগ উঠেছিল। পরে গণনা কেন্দ্রেও ছাপ্পা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জয়লাভ করেছিল বাংলার শাসক দল। এমন অভিযোগে জর্জরিত তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে আলোচনা, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে লুঠের ঘটনার মাশুল দিতে হতে পারে দলকে। সূত্রের খবর দলের জেলা সভাপতি তথা পর্যবেক্ষকদের মারফত জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধানদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। নির্দেশে বলা হয়েছে, নিজের এলাকা থেকে প্রার্থীকে ভালো ব্যবধানে জয়ী না করতে পারলে ক্ষমতা খর্ব করা হবে। সরিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে। রাজ্যের গ্রামীণ জনতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে একবার ভোট দিতে পারলে তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা লোকসভার প্রার্থীদের আদৌ জেতাতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news